আন্তর্জাতিক আইন আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

নাভি পিল্লাইছবি: নিকলাস এলমেহেড/ নোবেল প্রাইজ ডট অর্গ

আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই।

১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিল্লাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে আইনশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান নাভি পিল্লাই। চার বছর পর তিনি রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হন। সেখানে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ এবং অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে, তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই।

আরও পড়ুন
নাভি পিল্লাই
সিডনি পিস ফাউন্ডেশন

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় অস্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিচারিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত সততা ও অসাধারণ সাহসের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে কমিটি।

বিশ্বে যখন যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছে, তখন নাভি পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছে নোবেল কমিটি। শক্তি বা সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের অন্যতম শর্ত।

নাভি পিল্লাইয়ের কাজ আন্তর্জাতিক আইনকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডট অর্গ

আরও পড়ুন