২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কার্সনের সাক্ষাৎকার
‘আমার বেশিরভাগ ভাবনাই খুব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে’
লন্ডন থেকে প্রকাশিত শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা দ্য হোয়াইট রিভিউ-কে ২০১৭ সালে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কবি অ্যান কার্সন। সাক্ষাৎকার নেন লেখক ও সম্পাদক জেলকা মারোশেভিচ। ই-মেইলে প্রায় ছয় মাস ধরে চলে তাঁদের কথোপকথন। কার্সন সব প্রশ্নের দীর্ঘ উত্তর দেননি। কখনো একটি শব্দে, কখনো কয়েকটি বাক্যে উত্তর দিয়েছেন, আবার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। লেখালেখি, সৃষ্টিশীলতা ও নিজের কাজ নিয়ে এই ব্যতিক্রমী কথোপকথনেই উঠে এসেছে কার্সনের স্বকীয় চিন্তার ধরন। সাক্ষাৎকারটির অনুবাদ থাকল কিশোর আলোর জন্য।
প্রশ্ন: ফ্লোট বইটিতে আপনার আগের বইগুলোর অনেক ভাবনা ও বিষয় আবার এসেছে। এই বইয়ে অনেক ধরনের লেখা আছে, কিন্তু আপনার পুরো কাজের মধ্যে একটা মিলও দেখা যায়। মনে হয়, আপনার একটি কবিতার যেকোনো পঙ্ক্তির সঙ্গে অন্য কোনো কবিতার পঙ্ক্তির সংযোগ থাকতে পারে। এ জন্যই হয়তো বইটিকে একটি কাঠামোর মধ্যে রাখা মানানসই হয়েছে। আপনার কি মনে হয়, শুরু থেকেই আপনার লেখায় একই ধরনের বড় ভাবনা কাজ করেছে?
অ্যান কারসন: ‘বড় ভাবনা’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। কতটা বড়? আমার বেশিরভাগ ভাবনাই খুব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে। যেমন, একটি বাক্যে দুটি সমার্থক বিশেষণের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু, কিংবা একটি ছবিতে ভ্রুর রেখা সোজা হবে, নাকি আড়াআড়ি—এ ধরনের বিষয়।
বাকিটা পরে ঘটে যাওয়া প্রতিক্রিয়া।
প্রশ্ন: তাহলে কি আপনি সব সময় খুব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কাজ করেন?
অ্যান কারসন: অথবা হয়তো আমি আমার নিজের ‘বড় ভাবনা’র একটু পেছনে থেকে কাজ করি। সেগুলো আমার সামনে বিশাল ঢেউয়ের মতো তৈরি হয়। তারপর এমন সময়ে এসে আছড়ে পড়ে, যখন নিজেকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় থাকে না।
প্রশ্ন: তাহলে আরেকটি প্রশ্ন করা যায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হলে আপনার কেমন লাগে? লেখাটি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া কি আপনাকে প্রভাবিত করে?
অ্যান কারসন: বিভিন্ন রকম লাগে। কোন লেখার কথা বলছেন, তার ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্ন: আপনার ‘আংকল ফলিন’-এর মতো কোনো ‘লিরিক লেকচার’-এর কথা ধরুন। আর ফ্লোট-এর মতো একটি পুরো বই প্রকাশিত হয়ে সবার সামনে আসার অনুভূতিটা কি আলাদা?
অ্যান কারসন: ‘আংকল ফলিন’ বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বিভিন্নভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। আর প্রতিবারের সেই ‘প্রকাশ’ ছিল মজার, আনন্দের এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতা। মূলত মানুষগুলোর কারণেই। বিশেষ করে কারির জন্য। সে সবকিছু ঠিক যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবেই ঘটিয়ে দেয়।
প্রশ্ন: কোনো লেখা শেষ করার পর সেটি নিয়ে আপনার কেমন লাগে?
অ্যান কারসন: একটি বই প্রকাশিত হওয়া সব সময়ই একটু অদ্ভুত ব্যাপার। এটি এমন কোনো জায়গা বা সময়ে ঘটে না যেটাকে আপনি ধরে রাখতে পারেন বা যার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পান। ডাকযোগে বন্ধুদের কাছে বই পাঠানোটা সুন্দর, কিন্তু অনেকটাই যেন কল্পনার ব্যাপার। বইটি নিয়ে পর্যালোচনা হয়তো আসতে থাকে, হয়তো আসে না। তবে তত দিনে আপনি এরই মধ্যে পরের লেখাটি লিখতে শুরু করে দিয়েছেন।


