চিলিতে ১১০০ বছরের পুরোনো মমি, সিটি স্ক্যানে যা জানা গেল

তাঁর ওপরের মেরুদণ্ডে একাধিক ভাঙন ছিলফ্রান্সিসকো গারিদো ও কাতালিনা মোরালস

চিলির আতাকামা মরুভূমিতে পাওয়া গেছে ১ হাজার ১০০ বছরের পুরোনো এক মমি। এটি বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত। শরীরে এখনো টিকে আছে তাঁর মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতির ছাপ। জীবনের শেষ মুহূর্তে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, আধুনিক সিটি স্ক্যান আর এক্স-রে বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সেটা বের করেছেন। দেখা গেছে, এই ব্যক্তি সম্ভবত টারকয়েজ বা রত্নপাথর খনিতে কাজ করার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। পিঠ, পাঁজর, কাঁধ, কলারবোন আর পায়ের হাড় ভাঙার চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে। জানা গেছে, খনির ভেতরে ওপর থেকে পড়া ভারী পাথর বা পুরো কাঠামো ধসে পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ব্যক্তি।

মমিটি ১৯৭০-এর দশকে উত্তোলন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয় ২০২৩ সালে। এটি পাওয়া যায় উত্তর চিলির এল সালভাদোর শহরের কাছে। এক হিস্পানিক যুগের শুরুর দিককার রত্নপাথর খনির বাইরে। কবরের পাশে পাওয়া গেছে ধনুক ও বাণ। জানা গেছে, তিনি শুধু খনিশ্রমিক ছিলেন না, সে সময়কার সংস্কৃতিরও অংশ ছিলেন।

আরও পড়ুন

কার্বন ডেটিং অনুযায়ী, তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মৃত্যু হয়েছিল ৮৯৪ থেকে ১০১৬ সালের কোনো এক সময়ে। ওয়ারি সাম্রাজ্যের পতন আর ইনকা সাম্রাজ্যের উত্থানের মাঝামাঝি এক অস্থির যুগে। গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁর ওপরের মেরুদণ্ডে একাধিক ভাঙন ছিল। পাঁজর খাঁচা চেপে গিয়েছিল, কয়েকটি কশেরুকা সরে গিয়েছিল জায়গা থেকে। এ ধরনের আঘাত থেকে সাধারণত স্পাইনাল কর্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অদ্ভুত বিষয় হলো, এই মমির মাথা, ঘাড় বা হাতে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। গবেষকদের ধারণা, আঘাতের সময় তিনি হয়তো মাথা নিচু করে কাজ করছিলেন, অথবা হাত দিয়ে মাথা ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। এমন ধরনের আঘাত আধুনিক যুগেও খনি, নির্মাণকাজ বা ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়।

আরও পড়ুন
টারকয়েজ
জুয়েলারি টেলিভিশন, জেমস্টোন ডটকম থেকে নেওয়া

আতাকামা মরুভূমিতে প্রায় দুই হাজার বছর ধরে রত্নপাথরের খনন চলেছে। তখনকার শ্রমিকেরা পাথরের হাতুড়ি, কাঠের শাবল আর ঝুড়ি ব্যবহার করতেন। বেশির ভাগ খনি খোলা ও অগভীর হওয়ায় কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম দরকার ছিল না। কিন্তু এল সালভাদোরের এই খনিতে ছিল ভূগর্ভস্থ গ্যালারি। মাটির নিচে ছিল পথ বা সুড়ঙ্গ। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছিল।

গবেষকদের মতে, প্রেক্ষাপট বিচার করলে সবচেয়ে সম্ভাব্য যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, তা হলো, খনির ছাদ থেকে পাথর পড়ে তাঁর পিঠে আঘাত করে এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আরও পড়ুন