বিড়াল গাছে উঠে আটকে গেলে কী করব
ফেসবুক বা ইউটিউবে মাঝেমধ্যে গাছে আটকে পড়া বিড়াল উদ্ধারের ভিডিও ভাইরাল হয়। ফায়ার সার্ভিস এসে এই বিড়াল উদ্ধার করে। কিন্তু গাছ থেকে ছোটখাটো বিড়াল নামাতে ফায়ার সার্ভিস ডেকে হইচই ফেলাটা অনেকের মতে একধরনের বাড়াবাড়ি। কারণ, এর চেয়ে সহজ বিকল্প রয়েছে, যা আমাদের অজানা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিড়াল উদ্ধারকারী প্যাট্রিক ব্র্যান্ডট জানান, গাছে চড়া বিড়ালের সহজাত স্বভাব। আর বিড়ালকে নাগাল না পেয়ে মালিকেরা ঘাবড়ে গেলেও বেশির ভাগ বিড়াল আসলে বিপদে পড়ে না। তাই জরুরি সেবায় ফোন না করে পোষা বিড়ালকে মাটিতে নামাতে তিনটি সহজ উপায় আছে। যেগুলো অনুসরণ করে সহজেই প্রিয় বিড়ালকে গাছ থেকে নামানো যায়। তবে এর আগে জানতে হবে, বিড়াল কেন গাছে ওঠে।
বিড়াল কেন গাছে ওঠে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মজার ভিডিওগুলোর মতো কেবল দুষ্টুমি করার জন্য বিড়াল গাছে চড়ে না। বিড়ালের গাছে ওঠার প্রধান কারণ হলো ভয় ও আত্মরক্ষা। সাধারণত কুকুর বা অন্য বিড়ালের তাড়া খেয়ে কিংবা কোনো বিকট শব্দে ভয় পেয়ে বিপদ থেকে বাঁচতে এরা গাছে চড়ে বসে।
ভয় ছাড়াও স্বভাবগতভাবে শিকারি হওয়ায় অনেক সময় পাখি বা কাঠবিড়ালির মতো ছোট প্রাণীকে তাড়া করতে গিয়েও বিড়াল হুট করে গাছে উঠে পড়ে। আবার নিজেদের এলাকা নিয়ে সচেতন হওয়ায় চারপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির জন্যও এরা উঁচু জায়গা বেছে নেয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, কৌতূহল, শিকার করা আর শত্রুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো বিড়ালদের এই স্বভাবগুলো থাকে। তাই টিকে থাকার জন্য প্রকৃতির নিয়মে বিড়ালরা গাছে চড়তে ভালোবাসে।
বিড়াল কেন গাছ থেকে নামতে পারে না
বিড়াল যে গাছ থেকে একেবারেই নামতে পারে না, তা কিন্তু নয়। তবে নামার জন্য এরা বেশ লম্বা সময় নেয়। আর এর পেছনে কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথম কারণটি হলো এদের শরীরের গঠন। আমাদের জন্য খাড়া পাহাড়ে ওঠা যেমন কঠিন, বিড়ালের জন্য গাছ থেকে নামাটা ঠিক তেমনি কঠিন। এদের জন্য গাছে চড়া যত সহজ, নামা ততটাই উল্টো।
কাঠবিড়ালির মতো বিড়ালরা এদের হাতের কবজি ঘোরাতে পারে না। বিড়ালের নখগুলো বাঁকানো আঁকশির মতো হওয়ায় এরা মাথা ওপরের দিকে দিয়ে গাছে সহজে চড়ে যেতে পারে। কিন্তু নামার সময় এদের পেছন ফিরে অর্থাৎ উল্টো হয়ে নামতে হয়। তখন প্রতিটি নখ গাছের বাকল থেকে একে একে সাবধানে ছাড়াতে হয়, যা এদের জন্য বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
শরীরের গঠন ছাড়াও আরেকটি বড় বাধা হলো মনের ভয়। বিড়ালরা মাটিতে নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ মনে না করা পর্যন্ত গাছ থেকে নামে না। সাধারণত খুব ভোরে বা সন্ধ্যার দিকে যখন চারপাশ একদম শান্ত থাকে, তখনই এরা নিচে নামার সাহস পায়। একটি শিকারি প্রাণী হিসেবে এরা ভালো করে জানে শত্রুরা ওত পেতে থাকতে পারে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ নিশ্চিত হলেই কেবল এরা নিচে নেমে আসে।
গাছ থেকে বিড়াল নামানোর ৩টি উপায়
দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়ার আগে, বিড়ালকে গাছ থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে এই সহজ উপায়গুলো চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।
১. কিছুটা সময় অপেক্ষা
বিড়াল গাছে আটকে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। বিড়ালরা সাধারণত ভোরবেলা বা সন্ধ্যার দিকে চারপাশ শান্ত হলে নিজে নিজেই নেমে আসে। নিজে থেকে নামলে দীর্ঘ মেয়াদে এদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা করা যাবে না। বিড়ালটি যদি সব সময় ঘরের ভেতরেই থাকে। আর বিড়ালটি যদি আহত বা গর্ভবতী হয়। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও বিড়াল না নামলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় পানি না পেয়ে বিড়াল মারাত্মক পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারে।
২. পেশাদার মানুষের সাহায্য নেওয়া
বিড়াল গাছে আটকে গেলে ফায়ার সার্ভিসের চেয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাহায্য নেওয়া বেশি কার্যকর। কারণ, বিড়াল ওপরের দিকে উঠে আসা মানুষকে বিপদ মনে করে আরও উঁচুতে চড়ে বসতে পারে। অভিজ্ঞ গাছবিশেষজ্ঞরা মাটি থেকেই বিড়ালের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারেন।
৩. নিজেই উদ্ধার করার চেষ্টা
যদি একটা মজবুত মই থাকে আর গাছে চড়ার অভ্যাস থাকে, তবে কিছু নিয়ম মেনে নিজেই বিড়ালটিকে নামিয়ে আনা যায়। বিড়াল কোলে নিয়ে মই দিয়ে নামা খুব বিপজ্জনক। ভয় পেয়ে বিড়াল আঁচড়ে দিতে পারে। তাই একটা লন্ড্রি ব্যাগ বা বালিশের কভারে বিড়ালটিকে ভেতরে ঢুকিয়ে সাবধানে নামিয়ে আনা যায়।
বিড়ালটি যদি খুব ছটফট করে, তবে খাবারের প্যাকেট ঝাঁকিয়ে বা গন্ধ শুঁকিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে গাছের গোড়ায় খাবার রাখা যাবে না। তাহলে অন্য হিংস্র প্রাণী এসে ওকে আরও ভয় পাইয়ে দেবে।