চাঁদের বুকে স্পেসএক্স রকেটের আছড়ে পড়ার ছবি প্রকাশ
চাঁদকে প্রদক্ষিণ করা নাসার একটি স্যাটেলাইট থেকে সম্প্রতি তোলা নতুন ছবিতে ৬০ ফুট চওড়া একটি গর্ত দেখা গেছে। চলতি মাসের শুরুতে চাঁদে আছড়ে পড়া পথভ্রষ্ট একটি স্পেসএক্স রকেটের কারণে এই নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার পেছনে ছিল ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশটি। দুটি বাণিজ্যিক চন্দ্রযান বহন করে এটি ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মহাকাশে রওনা দিয়েছিল। রকেটের প্রথম পর্যায় বা বুস্টারটি মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয় অংশটি ল্যান্ডারগুলোকে চাঁদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
মূল কাজ শেষ হওয়ার পর স্পেসএক্স মহাকাশেই রকেটের ওপরের অংশটি ছেড়ে দেয়। তবে কক্ষপথের গতিবিদ্যার বিশেষ নিয়মের কারণে বুস্টারটি ধীরে ধীরে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের পথে চলে যায়।
৫ আগস্ট রকেটটি চাঁদে আঘাত হানে। এরপর আছড়ে পড়ার স্থানটির ছবি তুলতে একযোগে কাজ শুরু করেন গবেষক ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো। চিলির পারানাল পর্যবেক্ষণাগারে থাকা ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ প্রথম এই আঘাতটি শনাক্ত করে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চন্দ্রযান ‘দানুরি’ সংঘর্ষের পরপরই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে।
সম্প্রতি চাঁদে রকেটের আছড়ে পড়ার স্পষ্ট ছবি তুলল নাসা। নাসা জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘কাসা’র (KASA) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। কোরিয়ান চন্দ্রযান ‘দানুরি’র দেওয়া প্রাথমিক তথ্য ব্যবহার করেই কাজ শেষ করেন নাসার প্রকৌশলীরা। এরপর তারা চাঁদের কক্ষপথে থাকা নাসার ‘লুনার রিকনসান্স অরবিটার’ (এলআরও)-এর বিশেষ ন্যারো-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরাকে সঠিক নির্দেশ দিয়ে গর্তটির আরও স্পষ্ট ছবি তোলেন। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার নাসা এই ছবিটি প্রকাশ্যে আনে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাসা জানায়, দুর্ঘটনাস্থলের স্পষ্ট ছবি তুলতে প্রকৌশলীরা মহাকাশযানটিকে কিছুটা কাত করে দেন। এলআরও সেকেন্ডে ১ মাইল গতিতে চাঁদের প্রায় ৬০ মাইল ওপর দিয়ে যায়, এই যাওয়ার সময় ক্যামেরাগুলো সরাসরি গর্তটির দিকে তাক করা ছিল। অরবিটারটি প্রতি দুই ঘণ্টায় চাঁদের এক মেরু থেকে অন্য মেরুতে চক্কর দেয়। আর চাঁদও তার নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে।
নাসা জানিয়েছে, নতুন এই গর্তের সঙ্গে স্যাটেলাইটের অবস্থান এক লাইনে আনতে তাদের ছয় দিন সময় লেগেছিল। এরপর ছবিগুলো স্পষ্ট করে সাজাতে আরও কিছুটা বাড়তি সময় যায়। মহাকাশ সংস্থাটি জানায়, এই ছবি তোলার কাজটি খুব কঠিন ছিল। ছবি তুলতে মাত্র ১০ সেকেন্ড দেরি হলেই নতুন তৈরি হওয়া গর্তটি ক্যামেরা থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে চলে যেত।
রকেটটি চাঁদে আছড়ে পড়ার বিষয়টি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। তবে নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পৃথিবী বা চাঁদে থাকা কারও কোনো ক্ষতি বা বিপদের আশঙ্কা ছিল না।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন নাসার চন্দ্র বিজ্ঞানী কেলসি ইয়ং। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা করার মতো কিছু নেই। চাঁদের নিচের কক্ষপথ থেকে পুরোনো যন্ত্রাংশ বা রকেট সরানোর এটি একটি নিরাপদ ও স্বীকৃত উপায়।’ উল্কা, গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মতো নানা জিনিস চাঁদে নিয়মিতই নানা স্থানে আছড়ে পড়ে।
বিজ্ঞানীরা এ সংঘর্ষকে কাজে লাগিয়ে চাঁদের মাটি ও পরিবেশ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই গবেষণা থেকে জানা যাবে, ভবিষ্যতে চাঁদে যাওয়া মহাকাশচারী ও তাদের থাকার কেন্দ্রগুলোকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।