সবচেয়ে পরিষ্কার প্রাণী কোনটি

এমন প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে তুমি পরিষ্কার থাকা বলতে কী বোঝো, তার ওপর। প্রাণিজগতে পরিষ্কার থাকার মানে শরীর একদম চকচকে রাখা নয়। বরং এটি কিছু বিশেষ অভ্যাসের বিষয়। এসব অভ্যাস প্রাণীদের শরীর থেকে ক্ষতিকর পোকা বা পরজীবী দূর করে, বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচায় এবং শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এমনকি থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখতেও এটি বড় ভূমিকা রাখে।

অনেক প্রাণীই দারুণ সব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলে, যা এদের বনজঙ্গলে টিকে থাকতে সাহায্য করে। চলো তাহলে জানি সবচেয়ে পরিষ্কার প্রাণীরা কারা?

ছবি: পেক্সেলস

বিড়াল

তালিকার প্রথম বিড়াল। কারণ, পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার প্রাণীদের একটি হলো বিড়াল। এরা জেগে থাকার সময়ের প্রায় অর্ধেকটা নিজের শরীর পরিষ্কার করতে ব্যয় করে। এদের জিভে ছোট ছোট কাঁটার মতো অংশ থাকে। এটি দিয়ে এরা লোমের ময়লা, আলগা চুল ও পোকা দূর করে।

এই পরিষ্কার থাকার কারণে এদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে। কারণ, এটি লোমে প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া বর্জ্য ত্যাগ করার পর বিড়াল তা মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এতে অন্য হিংস্র প্রাণী এদের গন্ধ পায় না। শরীর পরিষ্কার রাখার এই অভ্যাসের জন্যই বিড়াল পোষা প্রাণী হিসেবে খুব জনপ্রিয়।

মেরু ভালুক
ছবি: রয়টার্স

মেরু ভালুক

মেরু ভালুক বরফের দেশে টিকে থাকার জন্য লোম পরিষ্কার রাখে। এদের ঘন লোম বাতাস আটকে রেখে শরীর গরম রাখে। তাই লোম পরিষ্কার রাখা এদের জন্য খুব জরুরি। খাওয়ার পর এরা হাত, বুক ও মুখ প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চেটে পরিষ্কার করে। লোম ধোয়া ও শুকানোর জন্য এরা বরফ বা পানি ব্যবহার করে। লোম পরিষ্কার থাকলে এরা কড়া ঠান্ডাতেও গরম থাকতে পারে।

আরও পড়ুন
ছবি: পেক্সেলস

পিঁপড়া

পিঁপড়ার বাসা খুব সুশৃঙ্খল ও পরিষ্কার থাকে। বাসা ও খাবারের জায়গা থেকে দূরে এরা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা রাখে। এতে এদের বাসায় রোগব্যাধি ছড়ায় না। শ্রমিক পিঁপড়ারা মুখ দিয়ে নিজেদের ও দলবেঁধে একে অন্যকে পরিষ্কার করে দেয়। এতে শরীর থেকে ময়লা ও পোকা দূর হয়। লাখ লাখ কিংবা হাজার হাজার পিঁপড়া একসঙ্গে থাকলেও এসব নিয়ম মেনে চলার কারণে এদের পুরো দল সুস্থ থাকে।

ছবি: সুপ্রিয় চাকমা

পাখি

পাখিরাও বেশ পরিষ্কার থাকে। তবে গায়ক পাখিরা পালক পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক সময় দেয়। ফলে পালকের ময়লা, ক্ষতিকর পোকা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া পালক দূর হয়। বাসা পরিষ্কার রাখাও এদের জন্য খুব জরুরি। বাবা-মা পাখি নিয়মিত বাসা থেকে খাবারের অংশ, বর্জ্য ও পুরোনো ডিমের খোসা ফেলে দেয়। এই অভ্যাসের কারণে এদের ছানারা সুস্থভাবে বেঁচে থাকে।

আরও পড়ুন
ডলফিন আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারে
ছবি: মিডজার্নির সাহায্যে তৈরি

ডলফিন

ডলফিনদের শরীর পরিষ্কার করার জন্য থাবা বা জিহ্বা নেয়। তবে এদের নিজস্ব দারুণ একটি উপায় আছে। এদের ত্বকের পুরোনো কোষ খুব দ্রুত উঠে যায় এবং নতুন ত্বক তৈরি হয়। কিছু ডলফিনকে নির্দিষ্ট প্রবালের সঙ্গে গা ঘষতে দেখা যায়। গবেষকদের মতে, এটি এদের ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

শিম্পাঞ্জি
ছবি: রয়টার্স

শিম্পাঞ্জি

বানর বা শিম্পাঞ্জির মতো সামাজিক প্রাইমেটরা দিনের একটি সময় একে অপরকে পরিষ্কার করে দেয়। এই অভ্যাসের কারণে শরীর থেকে পোকা, ময়লা ও আলগা চুল দূর হয়। একই সঙ্গে দলের সদস্যদের সম্পর্ক ও বিশ্বাস মজবুত হয়। এটি এদের মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

প্রাণীদের টিকে থাকতে কেন দরকার পরিচ্ছন্নতা

প্রাণীজগতে টিকে থাকার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরি। মানুষ পরিচ্ছন্নতা বলতে সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার থাকা বোঝালেও, প্রাণীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি একটু আলাদা। এরা মূলত শরীর থেকে ক্ষতিকর পোকা ও ময়লা তাড়াতে, রোগ প্রতিরোধ করতে, শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে এবং বাসা পরিষ্কার রাখতে নিজেদের যত্ন নেয়।

এমনকি শিকারি প্রাণীদের কাছ থেকে আত্মরক্ষা করতে শরীরের দুর্গন্ধ কমানোও এদের পরিচ্ছন্নতার একটি বড় অংশ। বিড়ালের শরীর চাটা, পিঁপড়ার আলাদা জায়গায় ময়লা ফেলা কিংবা পাখির নষ্ট পালক ছিঁড়ে ফেলার মতো অভ্যাসগুলো এদের সুস্থ রাখে। প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীই নিজ নিজ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে রোগমুক্ত থাকার নিজস্ব কৌশল তৈরি করেছে।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস
আরও পড়ুন