বিশ্বকাপ ও জলমাঠ

অলংকরণ: এস এম রাকিব

বিশ্বকাপের খেলা শুরু হলো, নদীতে লেগেছে হল্কা তার

চলো পাঠ করি অচেনা অভূত ছবিগুলো সেই জলখাতার

মাছেরাও দ্যাখে মানুষের খেলা, পেলাম প্রথম এবারই টের

পুঁটি আর চেলা, দুই দলে ভাগ, পতাকা তুলেছে ফেভারিটের!

এখান–সেখানে শুধুই পতাকা, এ ছবি আদপে পুরো নদীর

ভাগ হওয়া নদী: নেই চকমকি সেই সুবিমল পুরোনো ধী-র

পুঁটিরা করছে ভাটিতে হল্লা, চেলারা করেছে উজানে ভিড়

প্রিয় তারকার ছবি ধরে কেউ বলে, ‘হৃদয়ের পূজা নে বীর!’

আরও পড়ুন

চেলা আর পুঁটি, ক্ষীণ দেহে ওরা সারা দিন ধরে যা খানা খায়

সবটুকু যেন ব্যয় হয়ে যায় ডিসকো, সালসা, ঝাকানাকায়

যেদিকে যাচ্ছে চেলাদের দল, বিপরীত দিকে পুঁটিরা যায়

শান্ত নদীতে যেন বা যুদ্ধ চলছে অদেখা দুটি রাজায়!

‘আমরা জিতব’— এই কথা বলে চেলাদের দল নাচে ধিনাক

পুঁটিরা বলছে, ‘আগে জিতে নিই, তোমাদের যদি না ছেঁদি নাক!’

দুই দলই তার পক্ষ-মাছকে টানছে, যেন সে মিছিলে যায়

চেলাদের বাগে পেয়ে পুঁটি দল বাড়ি দেয় মিছেমিছি লেজায়

জলমাঠে কেন হিংসার ছবি, খেয়োখেয়ি আর হুটোপুটির

শোনা যায় আজ চেলারাও নাকি কানকো ছিঁড়েছে দুটো পুঁটির!

আরও পড়ুন

দুই পক্ষের কারবার দেখে হাসে খিলখিল ইলিশ ও রুই

বলে, ‘চেলা-পুঁটি, চিরকাল তোরা ছিলি দুর্বল, ছিলি সরুই

এতকাল ধরে শুধু নেচেছিস, অর্জন আছে কিছু নিজের?

থাকলে কেন রে কানা দলবাজি, অতি লাফালাফি, খিচুনি জের!

আমরা হলাম মত্স্য প্রজাতি, নদী আমাদের খোলা ভিলেজ

হিংসা কেন রে? সব মাছ মিলে শান্তিতে চল দোলাবি লেজ।’

নীরবতা ভেঙে চেলা-পুঁটিদের সম্মুখে বলে কথা কাতল,

‘নিজেদের কাঁধে, জলমাঠে, গেহে পারলে নিজের পতাকা তোল।’

আরও পড়ুন