সব সময় ভয় লাগে যে আমাকে দিয়ে হবে না

প্রিয় মনোবন্ধু,

আমার সমস্যাটা হয়তো একটু অন্য রকম। প্রথম সমস্যা হলো নবম শ্রেণিতে থাকাকালে আমার এক বান্ধবী ছিল, যে অজানা কিছু কারণে নিজেই আমার শত্রুতে পরিণত হয়। খুব সম্ভাব্য কারণ, সে বিপথে যাচ্ছিল। আমি তাকে মানা করছিলাম। ফলে সে রেগে যায়। এরপর সে আস্তে আস্তে আমার নামে যা–তা বলতে থাকে। নিজের কুকর্মগুলো আমার নামে প্রচার করতে থাকে। অনেকেই সে সময় ওকে সমর্থনও দেয়। কারণ, আমার একাডেমিক ফল ভালো থাকায় শত্রুর অভাব ছিল না। এ পর্যন্ত তা–ও সব মানা যায়। কিন্তু সে আমার ব্যক্তিগত ছবি (অশালীন কিছু নয়। নিতান্তই উৎসবে তোলা কিছু সিঙ্গেল ছবি) দিয়ে ফেক আইডি খোলা, কনফেশন পেজে লেখালেখিসহ নানা হয়রানি শুরু করে; যা আমার ইমেজে একটা নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। আপাতত সেই ছবিগুলো সরানো হলেও আমার মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে, কখন আবার এটা হয়। কিছু ভালো লাগে না। নিজেকেই দোষী মনে হয়।

দ্বিতীয় সমস্যাটা হলো আমি বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সম্প্রতি মেডিকেল অ্যাডমিশনের জন্য স্থানীয় একটা কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছি। সমস্যাটা হলো আমার কেন জানি সব সময় ভয় লাগে যে আমাকে দিয়ে হবে না। নিয়মিত পরীক্ষাগুলোতে সবাই সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও আমার নম্বর কম আসে, কোচিং থেকেও তেমন গাইডলাইন দেয় না। অবস্থাটা আমি বাসায় বলেছি কিন্তু আমার পরিস্থিতি না বুঝে উল্টো আমাকেই বকাঝকা করা হয়, মাঝেমধ্যে এই ছোট্ট বিষয় নিয়ে এত ভাবি যে সুইসাইডাল চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। ঠিকমতো খেতে পারি না। এমনও দিন গেছে, সারা দিনে একবারও ভাত খাইনি। শুধু মাথা ব্যথা করে আর কান্না পায়। আমি একদমই হতাশ সবকিছু নিয়ে। জানি বিষয়টা তেমন বড় নয়। কিন্তু তা-ও মানতে পারি না। মনে হয়, জীবন থেকে স্বপ্নগুলো মরে যাচ্ছে।

উত্তর: তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর আগে দিচ্ছি। মনে রাখবে, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তোমার মনের ভেতর আত্মহত্যার চিন্তা এলে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি বড়দের জানাও। যেহেতু তোমার বয়স ১৮ হয়ে গেছে, তুমি চাইলে নিজেই কাছের কোনো মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগ বা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারো। কোচিংয়ের সঙ্গে কোথাও চান্স পাওয়ার সম্পর্ক প্রমাণিত নয়, এমনকি কোচিংয়ে খুব ভালো নম্বর পেয়েও অনেকে চান্স পায় না, আবার অনেকে কোচিং না করেও চান্স পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মেডিকেলে ভর্তি হওয়াই জীবনের সারকথা নয়, তুমি অন্য যেকোনো বিষয়ে ভর্তি হয়ে যদি বিষয়টি ঠিকমতো নিজের পেশায় বা জীবনে কাজে লাগাতে পারো, সেটাই সার্থকতা। তাই ফলের আশা না করে তুমি নিয়ম মেনে পড়ে যাও, সামন ভালো কিছু আসবেই।

এবার আসি নবম শ্রেণির ঘটনাটিতে। যদিও সেটি এখন মিটে গেছে, তবে মনে রাখবে, এটি তোমার জীবনের এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা তোমাকে ভবিষ্যতের বড় বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার সময় আরও সতর্ক থাকবে, ব্যক্তিগত ছবি নিরাপদে রাখবে। আর চাইলে তুমি সাইবার অপরাধের আলোকে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারতে। বন্ধুকে ক্ষমা করে দিতে পারাই তোমার মহত্ত্ব, তবে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে। মনে রাখবে, এ ঘটনায় তোমার কোনো দোষ নেই, তাই অহেতুক মন খারাপ না করে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলো।

এই বিভাগে তোমরা তোমাদের মানসিক নানা সমস্যা, যা তোমার শিক্ষক, মা-বাবা বা অন্য কাউকে বলতে পারছ না, তা আমাদের লিখে পাঠাও। পাঠানোর ঠিকানা—মনোবন্ধু, কিশোর আলো, ১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ইমেইল করতে পারো [email protected]-এই ঠিকানায়। ইমেইলে পাঠাতে হলে সাবজেক্টে লিখবে - মনোবন্ধু, তারপর তোমার সমস্যাটি ইউনিকোড ফরম্যাটে লিখে পেস্ট করে দেবে মেইলের বডিতে। নাম, বয়স লিখতে ভুলবে না। তোমার সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।