তুমি কতটা স্বাস্থ্যসচেতন ১

কথায় বলে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। যদি সব সময় অসুখবিসুখে ভুগতে থাকো, তবে জীবনটা ঠিকমতো উপভোগ করবে কখন? প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। স্কোর মিলিয়ে বুঝে নাও, তুমি কতটা স্বাস্থ্যসচেতন।

১. ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন...’ দাঁড়াও দাঁড়াও। আগে বলো তুমি কখন ঘুম থেকে ওঠো?

ক. ক্লাস না থাকলে যখন ইচ্ছা তখন উঠি। আর ক্লাস থাকলে সেই ভোরবেলাতে...
খ. আমি সব সময়ই রুটিন মেনে চলি। দেরি করে ওঠার অভ্যাস একদম নেই।
গ. ঘুমের চেয়ে প্রিয় আর কী হতে পারে? কিছুই না। নিজের ইচ্ছামতো উঠি। এতে যদি কাজ-ক্লাস সব বরবাদ হয় তাতেও কিছু না।

২. তোমার প্রিয় খাবার—

ক. আইসক্রিম, চকলেট, চিপস, ফুচকা, ফাস্টফুড...সব কটিই তো আমার প্রিয়!
খ. মায়ের হাতের যেকোনো রান্না।
গ. একটু বুঝেশুনে খাই। ফ্যাট কম, পুষ্টি বেশি এমন খাবার খেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

৩. কোনো বিয়ের দাওয়াতে গেছ। খাবারদাবারের বাহারি আয়োজন। তুমি যা করবে—

ক. আমার খাওয়াদাওয়া করতে খুব বেশি একটা ভালো লাগে না। বিয়ের খাবারও তেমন খেতে পারি না। তাই যতটুকু খাওয়ার তা-ই খাব।
খ. বিয়ের খাবার? কবজি ডুবিয়ে খাওয়া হবে! বিয়ের দাওয়াতেই একদম সেরা খাসির রেজালা, জর্দা আর বোরহানি পাওয়া যায়। সেগুলো থাকলে তো কথাই নেই!
গ. বিয়ের দাওয়াত কি বিশেষ কিছু? আমি তো সব সময়ই পরিমাপমতো খাই।

৪. তোমার এক আত্মীয়, তোমার বাসা থেকে কয়েক ব্লক পরেই থাকেন। ছোটদের দিয়ে বাড়ির সব ফরমাশ খাটানো বড়দের একটা স্বভাব। তোমার আম্মু কোনো এক কাজে সেই আত্মীয়ের বাসায় যেতে বললেন। তুমি যেভাবে যাবে—

ক. হেঁটেই চলে যাব। এ আবার কেমন প্রশ্ন?
খ. রিকশা নেব। রিকশায় হাওয়া খেতে খেতে যাব। রিকশা না পেলে হেঁটে যাব।
গ. গাড়ি বা রিকশা নিয়েই যাব। এসব কিছু না পেলে বাসায় চলে এসে সোজা আম্মুকে বলব, ‘এত দূর’ হেঁটে যেতে পারব না।

৫. গবেষণা বলে, দিনের সব খাবারের মধ্যে সকালের খাবার সবচেয়ে জরুরি। সকালের নাশতায় তুমি যা খেতে পছন্দ করো—

ক. রুটি, ডিম সেদ্ধ, সবজি বা ভাজি
খ. যা পাই, তা-ই খাই। আমার এত ভাবনা নেই বাপু।
গ. সকালের নাশতা? সে আবার কী? আমার ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই লাঞ্চের সময় হয়ে যায়!

৬. দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত, কমবেশি সবাই জানে এ কথা। তা তুমি কখন ঘুমাতে যাও রাতে?

ক. কী আর বলব, রাতের বেলা আমার একদম ঘুম আসে না। আকাশের সব তারা গুনে শেষ করে ফেললেও আসে না। ‘ইনসোমনিয়া’ হলে যা হয় আরকি!
খ. ১১টা-১২টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি। নিয়ম করে আট ঘণ্টা ঘুমানো হয় আমার।
গ. ঠিক-ঠিকানা নেই। যখন ঘুম পায়, তখনই ঘুমাতে থাকি।

৭. পানির অপর নাম জীবন। চিকিত্সকেরা প্রচুর পানি পান করতে বলেন। নিয়মিত পানি খেলে অসুখবিসুখও কম হয়...

ক. হয়েছে হয়েছে। এত জ্ঞান দিতে হবে না। আমি প্রচুর পানি খাই। হাহ্!
খ. এহে! পানির কথা ভাগ্যিস মনে করালেন! আজ সারা দিন তেমন একটা পানি খাওয়া হয়নি। যাই একটু পানি খেয়ে নিই।
গ. পানি তো আর জুস না যে সারা দিন খাব। যখন খাবার দরকার হয়, তখন খাই।

৮. আচ্ছা, অসুখবিসুখ তোমাকে কেমন জ্বালাতন করে বলো তো?

ক. বছরে একবার তো কমবেশি সবারই ঠান্ডা-সর্দি-জ্বর হয়। ও রকম আমারও হয়।
খ. আমার তো একটা না একটা অসুখ লেগেই থাকে। বছরজুড়েই। আর কিছু হলেই বাসার বড়রা বকা দেন, ‘অনিয়ম’ করা নিয়ে। আরে বাবা, আমি কি ইচ্ছে করে অসুখ বাধাই নাকি!
গ. মমম...শেষ কবে অসুস্থ হয়েছিল মনে করে দেখতে হবে। সে অনেক অনেক কাল আগের কথা।

৯. সবজি আর মাছ—শব্দ দুটো শুনলেই তোমার মাথায় যে চিন্তাটি আসে?

ক. খাব!
খ. আমার শত্রু! এমনিতেই খাওয়াদাওয়া আমার অত একটা প্রিয় না, আর এগুলো তো একদমই ভালো লাগে না। মাছের কাঁটা আর স্বাদ-পদহীন সবজির কথা ভেবেই বিভীষিকা লাগছে!
গ. খাই তো। প্রিয় না, তবে খেতে খারাপও লাগে না।

১০. তোমার এক বন্ধু সারাক্ষণ এই সিরিজ ওই সিরিজ দেখে, ফেসবুকে অনেক সময় কাটায়। বিষয়টা জানতে পেরে তোমার মনোভাব—

ক. বেশি শুয়েবসে থাকা, একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা একদম ঠিক নয়। ওকে এসব বুঝিয়ে বলব।
খ. সারাক্ষণ টিভি না দেখে গল্পের বই পড়তে বা আড্ডা দিতে পরামর্শ দেব।
গ. নিজেই তো এমন করি। ওকে আর কী বলব? উল্টো পরামর্শ চাইব!

নম্বর

১. ক. ৫ খ. ১০ গ. ০
২. ক. ০ খ. ৫ গ. ১০
৩. ক. ৫ খ. ০ গ. ১০
৪. ক. ১০ খ. ৫ গ. ০
৫. ক. ১০ খ. ৫ গ. ০
৬. ক. ০ খ. ১০ গ. ৫
৭. ক. ১০ খ. ০ গ. ৫
৮. ক. ৫ খ. ০ গ. ১০
৯. ক. ১০ খ. ০ গ. ৫
১০. ক. ১০ খ. ৫ গ. ০

তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে

০-৪০: সুস্বাস্থ্য যদি উত্তর মেরু হয়, তবে তুমি হলে দক্ষিণ মেরু। স্বাস্থ্য নিয়ে তোমার ভাবনাটাবনা একেবারেই নেই। যা খুশি হোক, তুমি অনিয়মটিয়ম করে দিব্যি সময় কাটিয়ে দিচ্ছ। এ জন্য বেশ অসুখবিসুখেও ভুগতে হয় তোমাকে। আর বাসার বড়দের বকুনি তো ফ্রি আছেই! তোমার কিন্তু এখন থেকেই স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। নাহলে বড় ধরনের অসুখ বাধিয়ে বসতে পারো। একটু যত্ন নিলে তোমার নিজেরই তো লাভ।

৪৫-৭০: স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে তোমার অবস্থান মাঝামাঝি। মাঝেমধ্যে নিয়মমাফিক চলো, আবার কখনো কখনো একদমই খেয়াল থাকে না তোমার। তবে কখনোই অতিরিক্ত বেখেয়ালি হও না। নিজেকে ফিট রাখতে তোমার স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

৭৫-১০০: তুমিই প্রকৃত স্বাস্থ্যসচেতন। তুমি জানো কতটুক খাবার খেতে হয়, কোন কোন খাবার শরীরের জন্য ভালো, কোনটা খাওয়া একদমই উচিত নয়। সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, নিয়মমতো ব্যায়াম করা—এসব বিষয়ে তোমার পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে। এ জন্য অন্যকেও স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শও দাও তুমি। তোমাকে নতুন করে জ্ঞান দেওয়ার তাই প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন