পুরোনো স্কুলের শেষ হাসি
গ্রামের পুরোনো স্কুলটা অনেক বছর ধরে বন্ধ। কেউ বলে স্কুলটার শিক্ষক মারা গিয়েছিল, কেউ বলে মারা গিয়েছিল ছাত্ররা। তালহা আর আনাস এসব কথায় হাসত। এক গভীর রাতে তারা ঠিক করল আজ সত্যিটা বের করবে।
স্কুলের গেট পেরোতেই চারপাশ অস্বাভাবিকভাবে নীরব হয়ে গেল। ভেতরে ঢুকতেই দরজাটা নিজে নিজে বন্ধ হয়ে গেল। তালহা ঘুরে তাকাতেই দেখল দরজায় আর কোনো হাতল নেই। হঠাৎ চারদিকে ফিসফিস শব্দ, ‘তোমরা কেন এসেছ…?’ আনাস কাঁপা গলায় বলল, ‘তালহা, কেউ আমাদের দেখছে।’ ঠিক তখনই ব্ল্যাকবোর্ডে রক্তের মতো লাল লেখায় ভেসে উঠল, ‘একজন যাবে, একজন থাকবে।’
আলো নিভে গেল। অন্ধকারে তালহা অনুভব করল আনাস তার হাত শক্ত করে ধরে আছে, কিন্তু সেই হাত বরফের মতো ঠান্ডা। আলো জ্বলে উঠতেই তালহা দেখল আনাস নেই। পুরো স্কুল ফাঁকা। দৌড়ে বাড়ি ফিরে এল সে। পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন বলল, ‘গত রাতে স্কুল থেকে একজনের হাসির শব্দ পাওয়া গেছে।’ আতঙ্কে স্কুলের দিকে তাকাতেই তালহা দেখল, ভাঙা জানালার ভেতর থেকে কেউ হাত নাড়ছে। কবজিতে লেখা—আনাস। তার মুখে সেই হাসি...যে হাসিটা কোনো মানুষের নয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা