সময়ের পালাবদল

আঁকা: সাফায়েত সাগর

আমি লালমনিরহাট জেলায় থাকি। আমাদের এদিকে প্যাডেল রিকশা নেই, শুধু অটোরিকশা; কিন্তু হঠাৎ একদিন আমরা একটা প্যাডেল রিকশার দেখা পেলাম। আমার যদিও ওটাতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না; কিন্তু বাবা বললেন, তাই যেতে রাজি হলাম। চলতে থাকে আমাদের রিকশা। আমাদের ওভারটেক করে অনেক অটোরিকশা চলে যায়। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

বাবা খুব তাড়াতাড়ি মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়তে পারেন, হোক সে পরিচিত বা অপরিচিত। বাবা প্রথমে রিকশাচালকের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলেন। তারপর রিকশাচালক ধীরে ধীরে বললেন এই যুগেও প্যাডেল রিকশা চালানোর কারণ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে প্যাডেল রিকশা চালান। তিনি এটা পরিবর্তন করেননি, কারণ প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্যকে তিনি হারিয়ে যেতে দিতে চান না।

আরও পড়ুন

রিকশাচালক বলেন, দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। এর বেশি কখনো করেন না। ৪০০ টাকা হলেই বাড়ি ফিরে যান, এটা দিয়েই তাঁর সংসার চালে। এতে তাঁর শরীরও ভালো থাকে; আর যেহেতু প্যাডেল রিকশায় কষ্ট বেশি, তাই তিনি কাছাকাছি দূরত্বের যাত্রী নেন। যা আয় করেন, তা-ই নিয়ে সন্তুষ্ট, কোনো অভিযোগ নেই তাঁর।

আমি তো ভেবেছিলাম এখন রিকশাচালকেরা কিছু সময়ের জন্য রিকশা থেকে নামলেই ৫ টাকা বা ১০ টাকা বেশি চায় (আমাদের এদিকে আসলে তা–ই ঘটে)! কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি কোনো বাক্য ব্যয় ছাড়াই ন্যায্য ভাড়া নিলেন। ভেবেছিলাম, হয়তো অতিরিক্ত ভাড়া চাইবেন; কিন্তু তা চাননি। তিনি বলেন, যাদের খুব তাড়া থাকে, তাদের তিনি নেন না, তারাও এই রিকশায় চড়তে চায় না।

আমাদের সময়ের খুব অভাব, তাই তাড়াতাড়ি যাতায়াত করতে চাই; কিন্তু সত্যি কথা হলো, আমরা আগের দিনের মানুষের চেয়ে বেশি সময় পাই না। তাঁরা এ রকম প্যাডেল রিকশা, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতেন। তাঁদের সময়ে এত দুর্ঘটনাও ঘটত না আর কোনো ঐতিহ্যও হারিয়ে যেত না। আমাদের সবার উচিত নিজের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা ও সংরক্ষণ করা।

লেখক: শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণি, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট

আরও পড়ুন