তুমি কতটা বর্ষাপ্রেমী

অলংকরণ: সাফায়েত সাগর

বাংলা সাহিত্যে বর্ষা মনে হয় সবচেয়ে বেশি ‘অ্যাটেনশন’ পাওয়া ঋতু। কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে মনে হয় কেউ বাকি নেই, যিনি বর্ষা বা বৃষ্টি নিয়ে লেখেননি। শুধু কবি-সাহিত্যিক কেন, বৃষ্টি এলে, আকাশে একটু মেঘ জমলেই আমরা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করি। বর্ষাকে উদ্‌যাপন করি। বৃষ্টি এলে আমাদের মধ্যে খিচুড়ি খোঁজ করা লোকের কমতি নেই। অনেকের কাছেই বর্ষা একধরনের অনুভূতি।

কারও কাছে বর্ষা মানে স্কুল ছুটির পর ভিজে ভিজে বাসায় ফেরা। কারও কাছে জানালার পাশে বসে বৃষ্টির ফোঁটা গোনা। কেউ আবার বৃষ্টি শুরু হলেই ফটাফট ছবি তোলে। কেউ আবার বৃষ্টি নিয়ে গান শুনতে ভালোবাসে। অবশ্য কেউ কেউ আছে কাদা আর রাস্তায় পানি জমা নিয়ে বিরক্ত হয়। নিশ্চয়ই এদের মধ্যে কোনো এক দলে তুমি আছ।

আকাশে কালো মেঘ দেখলে কি তোমার মন ভালো হয়ে যায়? ভেজা মাটির গন্ধ তোমাকে অকারণে খুশি করে দেয়? নাকি বর্ষা তোমার কাছে কেবল ছাতা হারানো আর ভেজা জুতার ঝামেলা?

আরও পড়ুন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে জেনে নাও, তুমি আসলে ঠিক কতটা বর্ষাপ্রেমী।

১. একদিন দুপুরে স্কুলে ক্লাস চলছে। হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। জানালার কাচ বেয়ে ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। মাঠের গাছগুলো বাতাসে দুলছে। এমন সময় তোমার মনের কী অবস্থা হবে?

ক. পড়ায় মন দেওয়ার চেষ্টা করি; কিন্তু বারবার জানালার দিকে তাকাই। মনে হয়, আহা, এখন যদি একটু বাইরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভেজা যেত!

খ. একবার বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টিটা দেখি। ভালোও লাগে। তারপর আবার ক্লাসে মন দেওয়ার চেষ্টা করি। বৃষ্টিতে ভেজা যাবে না।

গ. বৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে বিশেষ ভাবি না। ক্লাসে যা হচ্ছে, সেটাই আমার মনোযোগের বিষয়।

২. ধরো, ছুটির দিনে বিকেলে বাসায় আছ। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে। চারপাশে একটু অন্ধকার, একটু ঠান্ডা আবহাওয়া। তখন তুমি কী করতে চাইবে?

ক. জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখব, বই পড়ব, গান শুনব বা পরিবারের কারও সঙ্গে গল্প করব। এমন পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে।

খ. কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখব। তারপর অন্য কোনো কাজে মন দেব।

গ. বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতেই বিরক্ত লাগবে। বৃষ্টি তখন ভালো লাগার বদলে ঝামেলা মনে হবে।

৩. এক বিকেলে ঈশান কোণে কালো মেঘ জমেছে। বাতাসে ভেসে আসছে বৃষ্টির সেই পরিচিত সোঁদা গন্ধ। ঠিক তখন কি তোমার কোনো প্রিয় মানুষকে বলতে ইচ্ছা করে, ‘দেখো, বৃষ্টি আসবে’?

ক. প্রায়ই এমন হয়। বন্ধু, ভাইবোন, মা-বাবা বা বিশেষ কাউকে এই খবর দিতে ইচ্ছা করে। কেন জানি না, বৃষ্টি আসার আনন্দ একা একা উপভোগ করতে ভালো লাগে না।

খ. কখনো কখনো এমন ইচ্ছা হয়। তবে সব সময় নয়।

গ. না। বৃষ্টি আসছে কি না, সেটা কাউকে জানানো বা শেয়ার করার কথা আমার মাথায় আসে না।

৪. ছোটবেলার কথা ভাবো। স্কুল ছুটি হয়েছে। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় ছোট ছোট পানির ধারা বয়ে যাচ্ছে। কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসানোর সুযোগ পেলে তুমি কী করতে?

ক. অবশ্যই নৌকা বানাতাম। বর্ষার দিনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর মধ্যে এগুলোই আছে।

খ. বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে হয়তো করতাম। একা হলে খুব একটা না।

গ. এসব কখনোই আমার কাছে খুব আকর্ষণীয় মনে হয়নি।

৫. ধরো, কোচিং বা স্কুল থেকে বের হওয়ার পর দেখলে বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। তোমার কাছে ছাতা নেই। বাসাও খুব দূরে নয়। তখন কী করবে?

ক. মনে মনে একটু খুশিই হব। ধীরে ধীরে ভিজতে ভিজতে হাঁটতে খারাপ লাগবে না।

খ. ভিজতে চাই না। তবে পরিস্থিতি মেনে নিয়ে দ্রুত বাসায় ফিরব।

গ. খুব বিরক্ত লাগবে। ভেজা একদমই পছন্দ করি না। আম্মু বকবে।

আরও পড়ুন

৬. বর্ষার দিনে হাওরে বৃষ্টি যাপন করতে বেড়াতে যেতে তোমার কেমন লাগবে?

ক. আমি খুব করে হাওরে বৃষ্টি কীভাবে হয় দেখতে চাই। নৌকায় বসে বৃষ্টি যাপন করতে চাই। হাওরে ঝুম বৃষ্টি দেখতে পারলে আমার আর কিছু চাই না।

খ. হাওরে যাওয়া চলে; কিন্তু এত পানির মধ্যে বৃষ্টিটা ঠিক উপভোগ করা সম্ভব নয়।

গ. হাওরের বৃষ্টি উপভোগের চেয়ে আমি অন্য কোথাও বেড়াতে যেতে আগ্রহী। বৃষ্টি তো আমার বাসাতেও হয়। সেটা দেখতে হাওরে যেতে হবে কেন?

৭. বৃষ্টির দিনে পরিবারের কেউ বলল, আজ ভুনা খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজি করা হবে। তোমার প্রতিক্রিয়া কী?

ক. সঙ্গে সঙ্গে মন ভালো হয়ে যাবে। বর্ষা এলেই ভাজা ইলিশ, সঙ্গে খিচুড়িটা জমে ভালো। বৃষ্টি দেখতে দেখতে এক চামচ ঘি, একটু আচার দিয়ে জম্পেশ একটা খাওয়া দেব।

খ. বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে ভালো লাগবে, ইলিশও ভালো। তবে খুব বেশি উত্তেজিত হব না।

গ. খিচুড়ি তো সাধারণ একটা খাবার। বর্ষা হোক বা না হোক, এতে আমার বিশেষ কিছু যায়-আসে না।

৮. রাতে ঘুমানোর সময় টিনের চালে বা জানালার বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তখন তোমার অনুভূতি কী?

ক. এই শব্দ আমার খুব প্রিয়। বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তে দারুণ লাগে। আমি মাঝেমধ্যে ইউটিউবে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ ছেড়ে ঘুমাই।

খ. শব্দটা খারাপ লাগে না। তবে খুব একটা খেয়ালও করি না।

গ. শব্দে বিরক্ত লাগে। শান্ত পরিবেশে ঘুমাতে বেশি ভালো লাগে।

৯. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা মুঠোফোনের গ্যালারিতে তোমার তোলা ছবিগুলোর মধ্যে কি কখনো মেঘ, বৃষ্টি, ভেজা রাস্তা বা বৃষ্টিভেজা গাছের ছবি থাকে?

ক. অনেকবার তুলেছি। সুন্দর মেঘ বা বৃষ্টির দৃশ্য দেখলে ছবি তুলতে ইচ্ছা করেই।

খ. মাঝেমধে৵ এমন ছবি তুলি।

গ. এসব ছবি তোলার অভ্যাস আমার নেই।

১০. ধরো, আবহাওয়া অফিস বলল, আগামী এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টি হবে। তোমার প্রতিক্রিয়া কী?

ক. বেশ ভালো খবর তো! অবশ্যই কিছু ঝামেলা হবে; কিন্তু বৃষ্টিভেজা দিনগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করব।

খ. মিশ্র অনুভূতি হবে। ভালোও লাগবে, আবার কিছু অসুবিধার কথাও মনে হবে।

গ. এক সপ্তাহ বৃষ্টি? এটা শুনেই আমার মন খারাপ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

সব কটি নম্বর মিলিয়ে নাও

নম্বর: ক. ১০ | খ. ৫ | গ. ০

তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে

০–৪৫: বর্ষা তোমার কাছে আর দশটা ঋতুর মতোই

বর্ষা এলে তোমার খুব একটা উচ্ছ্বাস কাজ করে না। বৃষ্টি হলে তুমি জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় কাজগুলো করো; কিন্তু আলাদা করে বৃষ্টিকে উপভোগ করার মানুষ তুমি নও। ভেজা রাস্তা, কাদা, জলজট—এসব তোমার আগে চোখে পড়ে। বর্ষার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক নিরপেক্ষ।

৪৬–৭৫: তুমি ভালোই বর্ষাপ্রেমী

বৃষ্টি তোমার ভালো লাগে। ভেজা মাটির গন্ধ, জানালার কাচে জমে থাকা ফোঁটা, বিকেলের মেঘলা আকাশ কিংবা খিচুড়ির ধোঁয়া—এসব তোমার মনে আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তবে তুমি বাস্তববাদী। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে তোমারও রোদের জন্য অপেক্ষা করতে ইচ্ছা করে।

৭৬–১০০: তুমি একেবারে বর্ষাপাগল

বর্ষা তোমার কাছে কেবল একটি ঋতু নয়, একধরনের আবেগ। আকাশে কালো মেঘ দেখলেই তোমার মন নেচে ওঠে। ভেজা মাটির গন্ধ, জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখা, টুপটাপ শব্দ শুনে ঘুমিয়ে পড়া, বৃষ্টিভেজা গাছের ছবি তোলা, এসব তোমার জীবনের ছোট ছোট আনন্দের অংশ। ঈশান কোণে মেঘ জমলেই হয়তো তোমার কোনো প্রিয় মানুষকে বলতে ইচ্ছা করে, ‘দেখো, বৃষ্টি আসছে!’ বর্ষা তোমার কাছে আবহাওয়া নয়; বরং স্মৃতি, গল্প আর অনুভূতির নাম।

আরও পড়ুন