পথশিশুদের এসএসসি পর্যন্ত পড়িয়ে পুরস্কার পেল মজার ইশকুল
পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় এনে এসএসসি পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের স্বীকৃতি পেয়েছে মজার ইশকুল। ‘ফ্রম স্ট্রিট টু এসএসসি: ট্রান্সফর্মিং দ্য লাইভস অব স্ট্রিট চিলড্রেন থ্রু এডুকেশন অ্যান্ড ডিগনিটি’ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার-সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট-মিডিয়াম’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার পেয়েছে তারা।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এই পুরস্কার দিয়েছে। গতকাল শনিবার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর গালা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মজার ইশকুলের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মজার ইশকুলের ‘ফ্রম স্ট্রিট টু এসএসসি’ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। পাশাপাশি পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া ঠেকানোও ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। ধাপে ধাপে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে মজার ইশকুল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা মূল্যে পড়াচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিশুকে শিক্ষার সুযোগ দিয়েছে তারা।
এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত স্কুলে আসার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। জীবনদক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার বিষয়েও তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়।
জাতীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে মজার ইশকুল।
এই যাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক ছিল শিক্ষার্থীদের প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। ২০২৬ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটির মানিকনগর শাখার শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রাখার পর এই ফলাফলকে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই অর্জনের পেছনে শিক্ষক, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা ও সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল বলে মনে করেন মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ। তিনি বলেন, যেকোনো কাজের স্বীকৃতিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে এই অর্জনের পেছনে ছিল অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্য। ১৩ বছর অনেক লম্বা সময়। এত বছর ধরে একটি লক্ষ্যে স্থির থেকে কাজ করে সেটি অর্জন করা অনেক কঠিন।
বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পেশার উন্নয়ন ও উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম ও পুরস্কারের আয়োজন করে পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল।