সবচেয়ে পুরোনো শিল্পকর্মের খোঁজে
ইন্দোনেশিয়ার এক চুনাপাথরের গুহায় সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্মের খোঁজ মিলেছে। এই শিল্পকর্ম যে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে, তা নয়। এত দিন মানুষের চোখের সামনেই ছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি। সবাই ভেবেছিল, এটা হয়তো আধুনিক কোনো মানুষের হাতের ছাপ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই শিল্পকর্ম প্রায় ৭০ হাজার বছরের পুরোনো!
গুহাটির নাম লিয়াং মেটান্ডুনো। জায়গাটি ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি অঞ্চলের মুনা দ্বীপে। অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক এই হাতের ছাপের বয়স নির্ণয় করেছেন। তাঁদের মতে, প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে কোনো একজন মানুষ এই ছাপ রেখে গিয়েছিল।
হাতের ছাপ আঁকার কৌশলটাও মজার। তখন তো রংতুলি ছিল না। মানুষ পাহাড়ের মাটি বা কাঠকয়লা গুঁড়া করে পানি বা লালার সঙ্গে মিশিয়ে রং বানাত। তারপর নিজের হাত গুহার দেয়ালে চেপে ধরে, মুখে রং নিয়ে হাতের ওপর ফুঁ দিত। হাতের চারপাশে রং পড়ত, কিন্তু হাতের জায়গাটা থাকত ফাঁকা। এতে দেয়ালে হাতের উল্টো ছাপ তৈরি হতো।
এই ছাপের আঙুলগুলো খুব সরু আর চোখা। দেখতে একটু অদ্ভুত। গবেষকেরা মনে করেন, ইচ্ছা করেই এমনভাবে আঙুল দেখানো হয়েছে। হয়তো এর কোনো প্রতীকী অর্থ ছিল।
এই আবিষ্কার শুধু শিল্পের গল্প নয়, মানুষের যাত্রার গল্পও বলে। গবেষকদের ধারণা, এই পথ দিয়েই আদিম মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল। তখন সমুদ্রের পানি কম ছিল, অনেক জায়গা একসঙ্গে যুক্ত ছিল।
হাতের এই ছাপ কে এঁকেছিল, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক আছে। কেউ বলেন আমাদের মতো আধুনিক মানুষের হাতের ছাপ, আবার কেউ বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের ছাপ হতে পারে। তবে একটা কথা নিশ্চিত, যে মানুষই এই ছাপ দিক না কেন, সে নিজের অস্তিত্বের কথা আমাদের জানাতে চেয়েছিল!