আত্মোন্নয়নমূলক বই পড়েও বিষণ্নতা কাটেনি
প্রিয় মনোবন্ধু,
আমি একজন অ্যাডমিশন ক্যান্ডিডেট। ছোটবেলা থেকেই বিষণ্নতায় ভুগছি। যদিও তখন সেটা বুঝতে পারিনি; কিন্তু বড় হয়ে আমার মনে হয়, আমি খুব ছোট থেকেই অ্যাংজাইটিতে ভুগছি। আমার কোনো কাজে মনোযোগ বসে না। আমার একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ ছিল বরাবরই। মনোযোগ দিয়ে পড়তে চাই; কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব করে তুলতে পারি না। কোনো কাজ করতে বসলেই মাথায় অন্যান্য অসংখ্য চিন্তা আসে। মাঝেমধ্যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনায় ডুবে থাকি। চেষ্টা করি এগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার; কিন্তু দিন শেষে আমি অপরিবর্তনীয়। দেশি-বিদেশি অনেক বিখ্যাত লেখকের আত্মোন্নয়নমূলক বই পড়েছি। সমস্যা অনুযায়ী নিয়ম অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দিন শেষে মনে হয় ফলাফল শূন্য। আমি ধারাবাহিকতা বেশি দিন ধরে রাখতে পারি না। রাতে ঘুমের সমস্যা হয় না; কিন্তু পড়তে বসলেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলি। দিনের শুরুতে পরিকল্পনা করি; কিন্তু সেই পরকিল্পনা অনুযায়ী আমার প্রোগ্রেস ১ শতাংশ হয় কি না সন্দেহ। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করছে। আমি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে আরও বেশি হতাশ হচ্ছি। তিন মাস ধরে লাইব্রেরিতে পড়াশোনার চেষ্টা করছি। সেখানেও আমার একই অবস্থা। আমি চাচ্ছি এবার থেকে পোমোডোরো পদ্ধতি ফলো করে পড়াশোনা করব; কিন্তু বেশ কয়েক মিনিট যাওয়ার পর আর মনোযোগ থাকে না। তবে আমার মনে হয় এই সমস্যার পেছনে আমি যে সমাজে বেড়ে উঠেছি, সেই সমাজেরও প্রভাব রয়েছে। এভাবে ছোটবেলা থেকেই মানসিক ট্রমা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতায় এখন খুবই হতাশ হয়ে যাচ্ছি। কিছুতেই নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারছি না। এখন কী করব? অনুগ্রহ করে জানাবেন।
উত্তর: তোমার চিঠিতে আমি একজন পজিটিভ মানুষের দেখা পাচ্ছি, যে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তুমি চেষ্টা করেছ, এটাই বড় কথা। তবে অ্যাংজাইটি আর নেগেটিভ চিন্তার চক্র তোমার মনকে খানিকটা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। তুমি যা করতে পারো তা হচ্ছে, বিরতি দিয়ে পড়ার অভ্যাস করো। যেমন ২৫ মিনিট পড়া + ৫ মিনিট বিরতি, পড়ার আগে ৩ মিনিট শ্বাসের ব্যায়াম বা বক্স ব্রিদিংয়ের চর্চা করতে পারো। ৪ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস নাও, ৪ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখো, ৬ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ো।
কতক্ষণ পড়বে সেটা ঠিক না করে, কী পড়বে সেটা ঠিক করো। যেমন ‘আজ ১০ ঘণ্টা পড়ব’ নয়, ‘আজ ৩টি ছোট টপিক শেষ করব’—এভাবে পড়ার সিদ্ধান্ত নাও। লাইব্রেরিতে পড়ার সময় ফোন সম্পূর্ণ সাইলেন্ট ও ব্যাগের ভেতর রাখো। যদি শৈশবের ট্রমা থাকে, একজন মনোরোগবিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্টের সাহায্য নাও। মনে রেখো, তুমি অলস নও, ব্যর্থ নও। তুমি চেষ্টা করছ, এর অর্থ তুমি সফল হবেই। আর তোমার মধ্যে খানিকটা অ্যাংজাইটি আছে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে আর প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করলে তুমি সফল হবেই।