পুরোনো লাইব্রেরির রহস্য
আমি নারমিন। একদিন বিকেলে আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে একটি পুরোনো লাইব্রেরি ভবনের ভেতর ঢুকলাম। অনেক দিন বন্ধ থাকায় জানালাগুলো ভাঙা ছিল আর দেয়ালে ছিল কালো দাগ। ভেতরে ঢুকেই একটা ভ্যাপসা গন্ধে মনে হলো, এখানে আসাটা ঠিক হয়নি।
হঠাৎ করেই আমাদের পেছনের দরজাটা শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেল এবং চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। ভয়ে বন্ধু রামিসা আমার হাত শক্ত করে ধরল। ঠিক তখনই ওপরতলা থেকে পা টেনে টেনে হাঁটার শব্দ শোনা গেল। কেউ যেন নিচে নেমে আসছে। বন্ধু জিসা কাঁপতে কাঁপতে বলল, সে কাকে যেন দেখেছে। তাকিয়ে দেখি সিঁড়ির পাশে অদ্ভুত এক দীর্ঘ ছায়া দাঁড়িয়ে আছে, যার মাথাটা একপাশে বেঁকে আছে। নুজুমি তো কেঁদেই দিল, কারণ ছায়াটার চোখের জায়গায় দুটো আলো জ্বলছিল।
হঠাৎ চারপাশ খুব ঠান্ডা হয়ে গেল। আমার মনে হলো কানে কেউ ফিসফিস করে বলছে, ‘এখান থেকে কেউ ফিরতে পারে না।’ ভয়ে আমি পেছনে তাকাতেও পারছিলাম না। ছায়াটা যখন একদম কাছে চলে এল, তখন তার লম্বা কালো চুল লাগল আমার গায়ে। ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম আমি। ঠিক তখনই আলো জ্বলে উঠল এবং সেই ছায়াটাও চিৎকার করে উঠল, ‘ওরে বাবা, আমার পা!’ চমকে উঠলাম আমরা। পরে বুঝলাম, ওটা কোনো ভূত নয়, ও নুজুমির ছোট বোন। সাদা চাদর পরে আমাদের ভয় দেখাতে এসেছিল, কিন্তু নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছে। আমরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পরে সবাই মিলে হেসে উঠলাম। কেমন হলো ব্যাপারটা বলো তো?
সপ্তম শ্রেণি, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল, কুমিল্লা