ভারতেশ্বরী হোমসে টিফিনের গল্প
আমার স্কুলজীবন কেটেছে ভারতেশ্বরী হোমসে। যেহেতু এটি একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান, তাই আমাদের টিফিন টাইমটা একটু ভিন্ন ছিল। টিফিনের ঘণ্টা বাজার পরপরই ডাইনিংয়ে বাজত খাওয়ার ঘণ্টা। দুবার বাজত সেটি। প্রথম ১৫ মিনিট জুনিয়রদের আর পরের ১৫ মিনিট সিনিয়রদের। টিফিন শুরু হওয়ার আগের ১০ মিনিট ক্লাস যেন শেষই হতে চাইত না। কখন ক্লাস শেষ হবে তারপর ডেস্কে মাথা রেখে একটু ঘুমাব; তার জন্য কী প্রতীক্ষা! কল ডেট থাকলে কখনো মাদার টিচার আসতেন কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য। কিংবা ১০-এ রুমের সামনে ভীত কোনো জুনিয়র এসেছে এজিএস আপুকে ডাকতে, তার অপরাধের বিচার শুনতে! এরপর যখন আমাদের খাওয়ার ঘণ্টা বাজত, আধো ঘুম চোখে সবাই মিলে যেতাম ডাইনিংয়ে। খাবারের রুটিন সবার মুখস্থ। তাই যেদিন খিচুড়ি দিত, সেদিন অনেকেই ম্যাজিক মসলা নিয়ে আসত। টেবিলে একজনের হাতে সেই অমূল্য রতন দেখার সঙ্গে সঙ্গে সবার সিরিয়াল! ‘এই তোর পর আমাকে দিস!’ ‘তারপর আমাকে!’ আবার যেদিন পরোটা দিত, সেদিন কাড়াকাড়ি লাগত, এক্সট্রা পিসটা কে নেবে!
লাল সিমেন্টের টেবিলে এভাবেই সব খাবারের সময় আনন্দের ঢেউ বয়ে যেত। টিফিন শেষ করে আবার তাড়াতাড়ি ক্লাসের লাইনে দাঁড়াতে হবে, নইলে ভিপি আপুর বকা খেতে হবে! এই খাওয়াদাওয়ার জন্য কতবার স্টাফদের বকা খেয়েছি! তখন এসব শাসন খারাপ লাগলেও তার মধে৵ যে মমতা লুকিয়ে থাকত, তা বুঝতে বেশ সময় লেগে গেছে! এখন মনে হয়, আবার যাই সেই বকাগুলো নিতে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি তো এই ডাইনিংয়েই বেশি তৈরি হয়েছে। কোনোভাবে কি আবার যাওয়া যাবে? হয়তো আমাদের বদলে এখন অন্যরা আছে! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার লাইন তাই বারবার মনে পড়ে:
‘হেথা হতে যাও হে পুরাতন, হেথায় নতুন খেলা আরম্ভ হয়েছে!’