ছোটবেলায় অনেক কিছু হওয়ার ইচ্ছা জাগত। মুচি, কাঠমিস্ত্রি থেকে শুরু করে চা বিক্রেতা-যখন যা দেখতাম, তা-ই হতে চাইতাম আমি।
একবার বাবার সঙ্গে বাসে করে কোথায় যেন যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম বাসে একটি লোক সবার কাছে যাচ্ছে আর কথা বলছে। তার হাতে ১০ টাকা, ২০ টাকার নোট দিচ্ছে মানুষ। ব্যাপারটা খুব আনন্দময় ও আকর্ষণীয় লাগল আমার কাছে। সবাই কত সুন্দর টাকা দিচ্ছে আর সে টাকাগুলো জমিয়ে রাখছে হাতে। আবার খুব সুন্দর করে হাতের আঙুলের ফাঁকে রাখছে কিছু টাকা। তার কাজের মধ্যে অদ্ভুত একধরনের আনন্দ খুঁজে পেলাম আমি।
বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাবা, লোকটি কী করছে?’ বাবা বলল, ‘উনি হেলপার, মানে সবার ভাড়া নিচ্ছে। তাদের কে কোথায় যাবে, তা জিজ্ঞেস করে খোঁজখবর নিচ্ছে, ড্রাইভারকেও সাহায্য করছে। তাই তিনি হেলপার।'
হাতে ১০ টাকা, ২০ টাকার নোট দিচ্ছে মানুষ। ব্যাপারটা খুব আনন্দময় ও আকর্ষণীয় লাগল আমার কাছে। সবাই কত সুন্দর টাকা দিচ্ছে আর সে টাকাগুলো জমিয়ে রাখছে হাতে।
কিন্তু এই টাকা নেওয়ার মাঝে কোনো ধরনের সাহায্য খুঁজে পেলাম না আমি। যাক, এত ভেবে কাজ নেই। আমি ঠিক করে ফেললাম যে আমি বড় হয়ে বাসের হেলপারি করব। পরক্ষণে ভাবলাম, বাসের না। প্লেনের হেলপারি করব। সবার থেকে টাকা নিয়ে আঙুলের ফাঁকে রাখব। কে কোথায় যাবে, তা জিজ্ঞেস করব। এগুলো ভাবতেই একধরনের আনন্দ হলো আমার। বাসায় এসে জনে জনে সবাইকে বলতে লাগলাম এ খবর। সবাই শোনে আর হাসে। এরপর আম্মুকে বললাম, ‘আম্মু, বড় হয়ে আমি প্লেনের হেলপার হব।' আম্মু হেসে কুটিকুটি হয়ে বলল, ‘শুধু প্লেনের হবি কেন, লঞ্চ, সিএনজি, নৌকা এগুলোরও হেলপার হবি'। কথাটা শুনে আমি তো খুব খুশি! যাক, মা তো আমাকে উত্সাহ দিয়েছে।
অনেক বছর পর জেনেছি, প্লেনের হেলপার বলতে কিছু নেই। যেদিন জেনেছিলাম, সেদিন অনেক খারাপ লেগেছিল, হাসিও পেয়েছিল নিজের কথা ভেবে।