গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চায় নোশিন

জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪-এ  চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নোশিন আনজুম। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার নেই। নোশিনের স্বপ্ন গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া।

নোশিন আনজুমছবি: কিশোর আলো

নোশিন আনজুমের দাবায় হাতেখড়ি বেশ ছোটবেলায়। একটু বুঝতে শেখার পরই সে দেখত, বাবা আর চাচা মিলে গভীর মনোযোগ দিয়ে কী যেন করছেন। বেশ কিছুদিন দেখার পর আস্তে আস্তে বুঝল, বাবা আর চাচা মিলে খেলছেন দাবা। তাঁদের খেলা দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠে নোশিন। চাচা তুলনামূলক ভালো দাবাড়ু, শোকেসভর্তি সাজানো ট্রফি আর মেডেল দেখে দাবার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায় নোশিনের। খুব দ্রুত বাবার কাছ থেকে দাবার প্রাথমিক সব নিয়মকানুন শিখে নেয় সে, হয়ে ওঠে বাবার প্রধান প্রতিপক্ষ। দুই মাসের মাথায় হারিয়ে দেয় দাবা শেখানো বাবাকেই। নোশিনের বাবা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না! মাত্র কদিন আগে দাবা শেখা কারও কাছে হেরে যাবেন, ভাবতেই পারেননি।

তবে নোশিনের মা বুঝলেন, খেলাটা বোধ হয় সমবয়সী কারও থেকে একটু ভালোই পারে তাঁর মেয়ে। আর পড়াশোনার পাশাপাশি নোশিন আরও কিছু একটা করুক, এমনটাও ইচ্ছা ছিল তাঁর। ফলে ২০১৩ সালে ঢাকায় এসে একটুও দেরি করলেন না তিনি, একটা দাবা টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিলেন মেয়েকে। নোশিন তখন পড়ে ক্লাস ফোরে। টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হয়েছিল জাতীয় দাবা ফেডারেশনের ঠিক পাশের বিল্ডিংয়েই। জীবনে প্রথম অংশ নেওয়া সেই টুর্নামেন্টে কোনো পুরস্কার না পেলেও দাবা ফেডারেশনে যাওয়ার রাস্তা খুলে যায় নোশিনের সামনে। এর কিছুদিন পর ডিপিএস এসটিএস স্কুলে দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে রানারআপ হয় সে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, নোশিন এগিয়ে গেছে দাবাকে সঙ্গী করে।

ইতিমধ্যে নোশিন অংশ নেয় ২০১৬ যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে মেয়েদের বিভাগে হয় চ্যাম্পিয়ন, আর ওপেন বিভাগে হয় রানারআপ। দাবার টুর্নামেন্টগুলোকে সাধারণত দুটি অংশে ভাগ করা হয়ে থাকে। একটি ওপেন, আরেকটি মহিলা বিভাগ। ওপেন বিভাগে ছেলে-মেয়ে যে কেউই অংশ নিতে পারে, আর মহিলা বিভাগে অংশ নিতে পারে শুধু মেয়েরা। টুর্নামেন্টের দুই অংশে সমানতালে লড়ে সবার নজর কাড়ে নোশিন।

তবে ২০১৭ সাল থেকে ওপেনে খেলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায় নোশিনের জন্য। ফিদের নিয়ম অনুযায়ী ছেলে আর মেয়েদের সেগমেন্ট আলাদা করে দেওয়া হয়। ওপেনের বদলে শুধু মহিলা বিভাগে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো নোশিনদের। নিয়মটায় মেয়েদের জন্য বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করে নোশিন, ‘মেয়েদের রেটিং শুরু থেকে বেশ কম থাকে। ফলে শুধু নিজেদের মধ্যে খেলতে হয় বলে আমাদের রেটিং খুব একটা বাড়ে না। আবার টুর্নামেন্টগুলোর ওপেন বিভাগে বিভিন্ন দেশের অনেক দক্ষ দাবাড়ুরা আসেন। তাঁদের সঙ্গে খেললে নিজের খেলারও অনেক উন্নতি হয়। ওপেন বিভাগে না খেললে মেয়েরা কখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারবে না।’

বড় বড় কয়েকজন দাবাড়ুর উদাহরণও দেয় নোশিন, ‘ভারতের একজন নারী গ্র্যান্ডমাস্টার আছেন, তাঁর নাম কোনেরু হাম্পি। তিনি ওপেন টুর্নামেন্টে খেলেছেন বলেই কিন্তু গ্র্যান্ডমাস্টার হতে পেরেছেন। জুডিথ পোলগার বিশ্বের সেরা নারী দাবাড়ু হয়েছেন ওপেনে খেলতে খেলতে। আমাদের ওপেন টুর্নামেন্ট খেলার উৎসাহ দেওয়া হয় না বলে আমাদের দেশে কোনো নারী দাবাড়ুর গ্র্যান্ডমাস্টার টাইটেল নেই।’

তবে ওপেনে খেলুক কিংবা নারী সেকশনে—স্কুলে নোশিন তখন রীতিমতো তারকা। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন কেউ যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে গেছে—এটা অন্যদের জন্য বেশ চমকপ্রদ ঘটনাই। শুরুতে নোশিনের বন্ধুরা দাবাটা তেমন বুঝত না। কিন্তু এরপর বন্ধুরাই আসত ওর কাছে, আবদার করত দাবা শেখানোর জন্য। ফলে স্কুলটা বেশ আনন্দে কাটত নোশিনের। বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন পিরিয়ডে কিংবা অবসর সময়ে খেলা হতো দাবা।

আরও পড়ুন

একটু বড় হওয়ার পর একমনে দাবা খেললেও ছোটবেলায়ও কিন্তু নোশিন একদমই শান্ত ছিল না। দাবা খেলতে দরকার ধৈর্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকার মানসিকতা। আর ছোট কারও জন্য চুপ করে বসে থাকা বেশ কঠিনই। ছোটবেলায় অসম্ভব চঞ্চল নোশিনের জন্য তো বসে থাকা ছিল অসম্ভবের মতো। ফলে টেবিলে বসিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতে হয় মাকে। চিপস, চকলেটের মতো পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে আস্তে আস্তে নোশিনকে ধীরস্থির করার অভ্যাস করাতেন মা। তবে এখনো কিন্তু নোশিন পুরস্কারের জন্যই টেবিলে বসে। কারণ, টুর্নামেন্টগুলোয় ভালো করলে যে মেলে মেডেল আর প্রাইজমানি!

বঙ্গবন্ধু এশিয়ান জোনাল চেস চ্যাম্পিয়নশিপের নারী বিভাগে রানার-আপ পুরস্কার হাতে নোশিন
ছবি: কিশোর আলো

দাবা খেলায় বেশ কিছু খেতাব আছে। শুরু হয় ক্যান্ডিডেট মাস্টার থেকে। এরপর আছে ফিদে মাস্টার, ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার আর সর্বোচ্চ খেতাব গ্র্যান্ডমাস্টার। মেয়েদেরটাও একই, শুধু টাইটেলগুলোর আগে ‘উইমেন’ শব্দটা যুক্ত হয়। অর্থাৎ ‘উইমেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার’, ‘উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার’—এভাবে। একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, একজন মেয়ে যে শুধু ‘উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার’ হতে পারবেন, এমন কিন্তু নয়। কোনো মেয়ে যদি শুধু নারীদের বিভাগে অংশ না নিয়ে ওপেন বিভাগে খেলতে খেলতে ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ খেতাব অর্জন করার শর্তগুলো পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি সরাসরি ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ খেতাব পেয়ে যাবেন। আর বলাই বাহুল্য, ‘উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার’–এর তুলনায় ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ খেতাবটির সম্মান আর গুরুত্ব অনেক বেশি।

নোশিন নিজের প্রথম খেতাব অর্জন করে ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান স্কুল অব চেস চ্যাম্পিয়নশিপে। টুর্নামেন্টটির একপর্যায়ে সবাই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল, স্ট্যান্ডার্ডে অন্তত দ্বিতীয় স্থান, অর্থাৎ রৌপ্যপদক পাবে নোশিন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ ম্যাচে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ পায় সে। তবে চমক দেখানো তখনো বাকি। পরদিন ছিল ব্লিটজ সেকশনের খেলা। ব্লিটজ দাবায় মূলত প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য সময় থাকে ৫ মিনিট বা তার কম। অর্থাৎ চালগুলো দিতে হয় খুব দ্রুত। স্ট্যান্ডার্ডটাই মূলত নোশিনের শক্তির জায়গা, ব্লিটজ খেলতে সে তেমন পছন্দ করত না। আগের দিন স্ট্যান্ডার্ডে হেরে বসার কারণেই কিনা কে জানে, ব্লিটজে প্রাণপণ লড়ে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক অর্জন করে নোশিন। আর পেয়ে যায় নিজের প্রথম খেতাব—‘উইমেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার’।

২০২২ সালে আসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৪১তম জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে নোশিন হয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।

পরের খেতাবটি পেতে বেশি দিন সময় লাগে না। ২০১৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ‘এশিয়ান জোনাল চেস চ্যাম্পিয়নশিপ, জোন ৩.২’। টুর্নামেন্টটিতে রানারআপ হয়ে অর্জন করে ‘উইমেন ফিদে মাস্টার’ খেতাব। রানারআপ হওয়ার পথে নোশিন হারিয়ে দেয় বাংলাদেশের কিংবদন্তি দাবাড়ু উইমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার রানী হামিদকে। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আরেক উইমেন ফিদে মাস্টার শারমিন সুলতানা শিরিনের কাছে না হারলে চ্যাম্পিয়নই হয়ে যেত সে। টুর্নামেন্টটিতে উইমেন ফিদে মাস্টার খেতাবের পাশাপাশি ‘উইমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার’ খেতাবের একটা নর্মও অর্জন করে নোশিন।

গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চায় নোশিন
ছবি: কিশোর আলো

২০২২ সালে আসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৪১তম জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে নোশিন হয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। প্রতিযোগিতাটিতে ১১ খেলায় সাড়ে ৮ পয়েন্ট পেয়ে অর্জন করে শিরোপা। রানারআপ হন উইমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার রানী হামিদ।

তবে এত এত সাফল্যের ভিড়ে অনেক অপূর্ণতাও আছে। ওপেন সেগমেন্টে খেলতে না পারার একটা আফসোস তো কাজ করেই। আবার একজন ফুলটাইম কোচের অভাবে যত দ্রুত খেলায় উন্নতি হওয়ার কথা, তত দ্রুত হচ্ছে না বলেও জানায় নোশিন, ‘একজন কোচের অধীন থেকে যদি নিয়মিত অনুশীলন করতে পারতাম, তাহলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে আরও ভালো করতে পারতাম আমরা। বিশেষ করে দেশের বাইরে যখন বড় কোনো টুর্নামেন্ট হয়, বাজেটের জন্য বেশির ভাগ সময়ই কোচকে সঙ্গে নিতে পারি না আমরা। ফলে আশানুরূপ সাফল্য আসে না।’

২০২২ সালে ৪৪তম চেস অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে যেতে হয় চেন্নাইয়ে। সেখানে তাদের হোটেলের নিচে আর্চারির সরঞ্জাম দেখে আগ্রহ জাগে। এর পর থেকে সুযোগ পেলে নোশিন চেষ্টা করে আর্চারি শেখার।

দেশের বাইরের কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সময় নিজের খরচ কুলাতেই হিমশিম খেতে হয়, সঙ্গে কোচ নেওয়ার কথা তো চিন্তা করাই যায় না। ফলে ফেডারেশনের দিকে তাকিয়ে নোশিন, ‘যদি ফেডারেশন থেকে নিয়মিত একজন প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে আরও দ্রুত শিখতে পারতাম। অন্য দেশের দাবাড়ুরা টুর্নামেন্টের এক মাস আগে কোচসহ দলবল নিয়ে ওই দেশে চলে যায়, প্রস্তুতি নেয়। স্বাভাবিকভাবেই ওরা অনেক ভালো করে, খুব দ্রুত খেতাব পেয়ে যায়।’

আরও পড়ুন

দাবার টুর্নামেন্টগুলোতে যে শুধু প্রতিযোগিতা হয়, এমন কিন্তু নয়। দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে ঘটে অনেক মজার ঘটনা। আবার খেলার বাইরের সময়টায় সুযোগ হয় বিভিন্ন দেশের অনেকের ভালো বন্ধু হওয়ারও। এমনই একজন জেমাল ওভেজদুর্দেভা, তুর্কমেনিস্তানের উইমেন ফিদে মাস্টার। গত বছর কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান কন্টিনেন্টাল চেস চ্যাম্পিয়নশিপ’–এর ফাইনাল রাউন্ডে নোশিনের সঙ্গে খেলা পড়ে জেমালের। তত দিনে দুজন খুব ভালো বন্ধু, আবার থাকতও একই রুমে। কিন্তু যেহেতু খেলায় তারা প্রতিপক্ষ, ফলে ম্যাচের আগের দিন রুমের মধ্যে দুজন অনুশীলন করে দুই দিকে ফেরে, যেন কেউ কারও প্রস্তুতি জানতে না পারে। শেষ পর্যন্ত যদিও ম্যাচটা জিততে পারেনি কেউই, প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা খেলার পর ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে দুজনই।

নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক দাবা খেললেও নোশিন নিজেকে সিনেমার পোকা দাবি করে। বিশেষ করে হরর আর বলিউডের প্রচুর সিনেমা নিয়মিত দেখা হয় বলে জানায় সে। পাশাপাশি হঠাৎ কিছুদিন আগে খুঁজে পায় আরেকটা শখ—আর্চারি। ২০২২ সালে ৪৪তম চেস অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে যেতে হয় চেন্নাইয়ে। সেখানে তাদের হোটেলের নিচে আর্চারির সরঞ্জাম দেখে আগ্রহ জাগে। এর পর থেকে সুযোগ পেলে নোশিন চেষ্টা করে আর্চারি শেখার। এ ছাড়া আর্চারি খেলতে দরকার হয় তীক্ষ্ণ মনোযোগ, যেটা পরে কাজে লাগে দাবাতেও। পাশাপাশি মনোযোগ বাড়াতে মাঝেমধ্যে করে মেডিটেশন।

আরও পড়ুন

বর্তমানে সবাই, বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আসক্ত রিলস আর টিকটকের ভিডিওতে। ছোট ছোট রিলস দেখতে দেখতে কমে গেছে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা। নোশিনের মতে, দাবা হতে পারে এই আসক্তি থেকে বের হওয়ার খুব ভালো একটা উপায়। সময় নিয়ে দাবা খেলা, দাবা–সম্পর্কিত পাজল সলভ করা ইত্যাদি যেমন আনন্দ দেবে, পাশাপাশি সাহায্য করবে মনোযোগ বাড়াতেও।

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নোশিন এখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে প্রতিনিধিত্ব করে। স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের প্রথম নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার। নিজ চেষ্টায় এত দূর আসা সম্ভব হলেও দাবা ফেডারেশনের সমর্থন ছাড়া গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া অনেক কঠিন বলে মনে করে সে, ‘ফেডারেশন থেকে যদি টানা দুই বছর একজন প্রশিক্ষক পাই, তাহলে আরও ভালো খেলতে পারব। আর দেশের বাইরের টুর্নামেন্টগুলোয় আমাকে যদি ছেলেদের মতো ওপেন সেকশনে অংশ নিতে দেওয়া হয়, তাহলে শুধু উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার নয়, গ্র্যান্ডমাস্টারও হতে পারব।’

২০০৮ সালে এনামুল হোসেন রাজীবের পর আর কোনো গ্র্যান্ডমাস্টার পায়নি বাংলাদেশ। মেয়েদের বিভাগে দৈন্যদশা আরও বেশি, নেই কোনো উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টারও। পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে এই খরা কাটাতে পারবে সে নিজেই, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়ে দেয় নোশিন।

সর্বশেষ

২৯ মে ওয়ালটন ৪২ তম জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪-এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নোশিন আনজুম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

আরও পড়ুন