সেমিতে কে কেমন
দেখতে দেখতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে দীর্ঘতম আসরটাও শেষ হয়ে এল। ১০৪ ম্যাচের বিশাল টুর্নামেন্ট বাকি আর মাত্র চার ম্যাচ। ৪৮ দল থেকে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে চারটি দল। মজার ব্যাপার হলো, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দলই এবার খেলছে সেমিফাইনাল। পুরোনো চার বিশ্বজয়ী সেমিফাইনালে নামার আগে একনজরে একটু দেখে নেওয়া যাক তাদের অতীত। কীভাবে ২৬ বিশ্বকাপের পোডিয়ামে জায়গা করে নিল তারা?
ফ্রান্স
সর্বোচ্চ গোলদাতা: কিলিয়ান এমবাপ্পে - ৮
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: মাইকেল ওলিসে - ৫
বিশ্বকাপের ফেবারিটের তালিকায় ওপরের সারিতে ছিল ফ্রান্সের নাম। গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। প্রায় একই দল, একই কোচের অধীনে, একই ট্যাক্টিকস নিয়ে হাজির হয়েছে দুবারের বিশ্বজয়ীরা। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই তারা খেলেছে চ্যাম্পিয়নের মতোই। আট বছর ধরে যে দুর্দান্ত ফর্মে আছে ফ্রান্স, সেটারই আরেক পর্ব দেখল এবারের বিশ্বকাপ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম আর দিদিয়ের দেশমের ট্যাক্টিকস—দুইয়ে মিলে সোনায় সোহাগা। প্রতিটি দল যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ফ্রান্সের সামনে। এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে কোনো গোল হজম করেনি ফ্রান্স। টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে গ্রুপ পর্বে। সামনে এমবাপ্পে-ওলিসে-দেম্বেলে ত্রয়ী উড়িয়ে দিচ্ছে সবাইকে। শুধু পারেনি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। তাদের শারীরিক খেলার কাছে যেন একদমই গুটিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। তবে সেই ম্যাচ ছাড়া বাকি ম্যাচে ফ্রান্সের যা ফর্ম, এভাবে চলতে থাকলে তাদের আটকানোর সাধ্য কার?
স্পেন
সর্বোচ্চ গোলদাতা: মিকেল ওয়ারজাবাল - ৩
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: মার্ক কুকুরেয়া - ২
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের শুরুটা ছিল হতাশার। নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র—সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, এই দলটাও বোধ হয় আগের মতোই হবে। বোরিং ড্র দিয়ে কিছু দূর যাবে, অতঃপর দুর্বল কোনো দলের কাছে হেরে ধরতে হবে বাড়ির পথ। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পরই কোচ বদলে ফেলেছেন ছক। নকশায় এখন ধরে খেলা নয়, বরং ফোকাসটা জয়ের দিকে। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র ১ বার গোল হজম করেছে স্পেন। সেটাও কোয়ার্টারে এসে। বোঝাই যাচ্ছে ডিফেন্সে যে মনোযোগটা দিয়েছে তারা, তার পুরোটাই কাজে এসেছে। টানা ৬০৯ মিনিট গোল হজম না করা উনাই সিমন স্পেনের ভরসা। অন্যদিকে বাঁ পাশ থেকে কুকুরেয়া, মাঝে ওয়ারজাবাল আর সামনে লামিনে ইয়ামাল। বাকিদের টুকুটাক সাহায্য পেলেই দলটা প্রস্তুত হয়ে যাবে বিশ্বজয়ের জন্য। সব মিলিয়ে একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ দলটাকে নিয়ে তাই স্বপ্ন দেখতে দোষ নেই।
ইংল্যান্ড
সর্বোচ্চ গোলদাতা: জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন (৬)
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: অ্যান্থনি গর্ডন (৩)
‘ইটস কামিং হোম’ ধ্বনিটা এখন খুব একটা শোনা যায় না। বরং ইংল্যান্ডের প্রতি ম্যাচ শেষেই বাজে ‘ওয়ান্ডারফুল’ গান। এটাই যেন তাদের জাতীয় সংগীত হয়ে উঠেছে। টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড মাঠে নেমেছিল নতুন শুরুর প্রত্যাশা নিয়ে। সেটা হয়েছেও দুর্দান্ত। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয়, অতঃপর ঘানার বিপক্ষে ড্র একটু ছিটকে দিয়েছিল তাদের। কিন্তু এর পর থেকে জয়রথ ছুটছে ইংলিশদের। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জুড বেলিংহাম আর হ্যারি কেইনের জুটি। আক্রমণভাগ পুরোটাই সামাল দিচ্ছেন এই দুজন। ইংল্যান্ডের করা ১৩ গোলের ১২টি এসেছে তাঁদের পা থেকে। অর্থাৎ দুই মহারথীর ওপরে ভর করেই দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
আর্জেন্টিনা
সর্বোচ্চ গোলদাতা: লিওনেল মেসি (৮)
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: লিওনেল মেসি (২)
গতবারের বিশ্বজয়ী দল, এবারের হট ফেবারিট। শুরু থেকেই ধারণা ছিল, আর্জেন্টিনা এবারও চমক নিয়ে হাজির হবে সবার সামনে। যদিও ভাগ্যক্রমে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয়নি বড় কোনো দলের। কিন্তু যারাই সামনে ছিল, তারাই কাঁপিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্স। নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই বেশ নড়বড়ে অবস্থা ছিল আলবেসিয়েস্তাদের। নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুবার লিড পেয়েও জয় পেয়েছে আত্মঘাতী গোলে। মিসরের বিপক্ষে রেফারিং নিয়ে তো প্রশ্ন আছেই। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও একটা সময় মনে হচ্ছিল জয় পাওয়া হবে না আর্জেন্টিনার। কিন্তু লাল কার্ডের কারণে ১০ জনের সুইজারল্যান্ড আর হুলিয়ান আলভারেজের ফর্মে ফেরা সেমিতে টেনে নিয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
শেষ চার দলের লড়াই শুরু হবে ১৫ তারিখ দিবাগত রাত ১টায়। চোখে কান খোলা রেখে শেষ চারটা ম্যাচ আর মিস দিয়ো না। কারণ, মিস দিলেই আরও চার বছরের জন্য শুধু বাড়বে অপেক্ষা।