ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকদের কাজ কী? এক বাক্যে বলা যায়, গোল ঠেকানো। কিন্তু গোলরক্ষক যদি নিজের ডি-বক্স ছেড়ে মাঝমাঠে আসে, তাহলে কী বলবে? পাগলামি নাকি দুঃসাহস? বর্তমান সময়ে গোলরক্ষকদের গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ১৯৯০ বিশ্বকাপে এমনই এক কাণ্ড করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক রেনে হিগুয়েতা।
ফুটবল ইতিহাসে পাগলাটে কিছু চরিত্রের কথা বলা হলে ওপরের দিকে থাকবে রেনে হিগুয়েতার নাম। খেলার মাঠে তাঁর ডাকনাম ছিল ‘এল লোকো’, মানে পাগল। কোঁকড়া চুলের গোলরক্ষক বিখ্যাত ছিলেন নিজের পাগলামির জন্য। সেই পাগলামিই একদিন কলম্বিয়ার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই। নাপোলির সান পাওলো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি কলম্বিয়া আর ক্যামেরুন। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য। ১০৬ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন রজার মিলা। কলম্বিয়া তখন মরিয়া গোল শোধ করতে।
ঠিক তখনই পাগলামি চেপে বসল হিগুয়েতার মাথায়। বল নিয়ে নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা ওপরে উঠে এলেন তিনি। সতীর্থের কাছ থেকে ব্যাক পাস পেয়ে চেয়েছিলেন রজার মিলাকে একটু অপদস্থ করতে। ড্রিবল করে যেই না এগোবেন, ৩৮ বছর বয়সী রজার মিলা বিদ্যুৎ–গতিতে বল কেড়ে নিলেন তাঁর পা থেকে। আর ফাঁকা পোস্টে জড়িয়ে দিলেন বল। অতঃপর রজার মিলার সেই বিখ্যাত নাচ। কর্নার ফ্ল্যাগকে কেন্দ্র করে সেই নাচ এখনো পৃথিবীর মানুষের কাছে অবিস্মরণীয়। কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন সেদিন শেষ হয়ে গিয়েছিল এক ভুলের কারণে।
১১৫ মিনিটে বার্নাদো রেডিন এক গোল করলেও পরাজয় আটকাতে পারেননি। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন হিগুয়েতা। তিনি কাঁদতে কাঁদতে সেদিন বলেছিলেন ‘এর থেকে বড় ভুল আর কিছুই হতে পারে না। এ এক হিমালয়ের মতো বড় ভুল।’
অথচ পুরো বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার আক্রমণের শুরুই হতো হিগুয়েতার হাত ধরে। কলম্বিয়ার হয়ে তিনি কেবল গোল ঠেকাতেন না, ফ্রি-কিক এবং পেনাল্টি থেকে গোলও করতেন। সেই ঘটনার কয়েক বছর পর করা ‘স্করপিয়ন কিক’ আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্যগুলোর একটি।
হিগুয়েতা হিরো না হতে পারলেও সেদিন মুদ্রার অপর পিঠ দেখেছিলেন রজার মিলা। ৩৮ বছর বয়সী মিলা সেদিন বনে গিয়েছিলেন পুরো আফ্রিকার হিরো।