এক গোলরক্ষকে বদলে গেল ইউনাইটেডের চিত্র
কয়েক মাস আগেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছিল ফুটবল বিশ্বের কাছে হাসির পাত্র। একের পর এক হাস্যকর ভুলে ম্যাচ হেরে রীতিমত লজ্জায় ফেলে দিতো দলকে। সেই ইউনাইটেড এখন টানা চার ম্যাচে অপরাজিত। প্রিমিয়ার লিগের টেবিলেও উপরে উঠে এসেছে তরতর করে। ইউনাইটেডকে খোলনচালে বদলে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতীত্ব একজনেরই। তাদের নতুন গোলরক্ষক সেনে লামেন্স।
বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক ইউনাইটেডে এসেছেন ডেডলাইন ডে-তে। পুরো দলবদলের মোউসুমজুড়ে একজন ভালো গোলরক্ষকের খোঁজ করছিল ইউনাইটেড। কিন্তু মনমতো কাউকে দলে ভেড়ানো হয়নি তাদের। এমি মার্তিনেজ বনিবনা না হওয়ায় আসেননি, দোন্নারোম্মাও ফিরিয়ে দিয়ে যোগ দিয়েছেন সিটিতে। শেষ পর্যন্ত বনিবনা হয় রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের ২৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের সঙ্গে। ২১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইউনাইটেড তাকে ভিড়িয়েছে দলে।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চির গোলরক্ষক যখন ইউনাইটেডে যোগ দেন, তখনও দলের মূল গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা। সঙ্গে আছেন তুর্কি গোলরক্ষক আলতায় বায়িন্দির। দুইজনকে টপকে ইউনাইটেডে জায়গা পাবেন কী না, সে নিয়েই শঙ্কা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু কোচ রুবেন আমোরিম ধরতে পেরেছিলেন, যদি দলে একজন ভালো গোলরক্ষকই না থাকেন, তাহলে বাকি সব ক্ষেত্রে দেওয়া সকল পরিশ্রমই পণ্ড। তাই তো ওনানাকে দ্রুত বিক্রির জন্য উঠেপরে লাগলেন। তুর্কিশ ক্লাব ধারে নিয়ে গেল তাকে, সিমেন্সকে গোলবারের নিচে বসাতে আর কোন বাধাই রইল না আমোরিমের। আর এরপর থেকেই যেন বদলে গেল ইউনাইটেডের চেহারা।
সানে লামেন্সের অভিষেক হয়েছে ৪ অক্টোবর, সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। দপ্লে আসার প্রায় এক মাস পর। এখানেই সবচেয়ে বড় চাল চেলেছেন আমোরিম। তরুণ খেলোয়াড়কে দলে এনেই বাঘের খাচায় ঠেলে দেননি। বরং গোলবারের নিচে দূর্দশা দেখেও তাকে সময় দিয়েছেন নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। ফলে লামেন্স দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই নেমেছে মাঠে। আর তার প্রমাণ দেখা যাচ্ছে এখন।
এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে গোলবারের নিচে ছিলেন লামেন্স, চারটিতেই হার এড়িয়েছে তারা। প্রায় এক বছর পর টানা চার ম্যাচে হারের দেখা পায়নি ইউনাইটেড। লামেন্স শুধু দলকে রক্ষা করছেন না, ডিফেন্ডারদের মনে সাহসও এনে দিচ্ছেন। ডিফেন্সের উপর চাপ কমে আসায় ডিফেন্ডাররা যেমন মনোযোগ দিতে পারছেন খেলায়, তেমনই লামেন্সও নিজেকে প্রমাণ করতে পারছেন।
আন্দ্রে ওনানা কিংবা আলতায় বায়িন্দিরের সময়ে হাস্যকর সব ভুলে গোল হজম করতো ইউনাইটেড। এতে করে যে শুধু দলের অবস্থাই খারাপ হতো তা নয়, বরং পুরো দলের মানসিকতাও থাকতো পরতির দিকে। একজন ভালো গোলরক্ষক গোলবারের নিচে দাড়ালে ঠিক কতটা মানসিক শান্তিতে থাকেন খেলোয়াড়েরা, তার প্রমাণ যেন গত চার ম্যাচ। কর্নারে এগিয়ে আসা, গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে দূর্দান্ত সেভ করা, স্ট্রাইকারদের বিভ্রান্ত করা, সবকিছুই করছেন লামেন্স, নিজের মতো করে।
চার ম্যাচে যে দূর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করেছেন, তা নয়। চার ম্যাচে গোল হজম করেছেন ৫টি, ক্লিন শিট রয়েছে মাত্র একটি ম্যাচে। কিন্তু ম্যাচে কোন হাস্যকর ভুল করেননি, প্রয়োজনের সময় দূর্দান্ত সেভ দিয়ে দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রেখেছেন। ছোটবেলা থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসে দলকে শুধু প্রশান্তিই দেননি, দেখাচ্ছেন শিরোপার স্বপ্ন। রুবেন আমোরিমের ট্যাক্টিসও যেন লামেন্স আসার পর কাজে লাগতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয় এই ফর্ম কি লামেন্স ধরে রাখতে পারেন, নাকী বাকিদের মতো শুরুতে ভালো খেলে হারিয়ে যান অতল গহীনে?