অভিমান না অবসর? রোনালদো কি আর পর্তুগালে ফিরবেন

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

গতকাল রাতের কথা। সবাই যখন গভীর ঘুমে—এমন সময় ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে বসলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝপথেই পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে রোনালদো ফিরে যাচ্ছেন সৌদি আরবে। লেখার সুরেই বোঝা যাচ্ছে, অভিমান থেকেই নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। কোচ বা ফেডারেশন কারও সঙ্গেই বনিবনাটা ঠিক হয়নি তাঁর। কারণটা খুঁজতে একটু পেছনে ফিরতে হবে।

গুঞ্জন ছিল বিশ্বকাপের পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন রোনালদো। ২২ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জনের যেমন কমতি নেই, তেমনই কমতি নেই হতাশারও। দেশের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছেন, পর্তুগালের মতো দলকে বিশ্বমঞ্চে ত্রাস করে তুলেছেন। আবার বিশ্বকাপে তাঁর হতশ্রী পারফরম্যান্স হতাশ করেছে সবাইকে। হয়তো একটা বিদায়ী ম্যাচ দিয়েই লাল জার্সিতে ক্যারিয়ারের ইতি টানা হয়ে যেত তাঁর।

কিন্তু এমন সময় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন জর্জ জেসুস। আল নাসরের কোচ হিসেবে এক বছর ধরে রোনালদোর সঙ্গে কাটিয়েছেন তিনি। সৌদিতে তাঁকে এনে দিয়েছেন প্রথম ট্রফি। গুঞ্জন আছে, তাঁকে কোচের পদ পেতে সরাসরি কথা বলেছিলেন রোনালদো। জর্জ এসেই তাই নিজের সেরা খেলোয়াড়কে বোঝালেন, তাঁকে দরকার দলের সঙ্গে। সে কারণেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা লম্বা করার জন্য মাঠে ফিরলেন রোনালদো।

আরও পড়ুন

কোচ জর্জ কথা দিয়েছিলেন, বুঝেশুনে দরকার অনুযায়ী রোনালদোকে কাজে লাগাবেন তিনি। যে কারণে তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই কথা সেরে রেখেছিলেন রোনালদোর সঙ্গে। পর্তুগালের ঘরের মাঠে খেলা দুই ম্যাচে প্রথম একাদশে থাকবেন রোনালদো। কিন্তু পরের দুই ম্যাচ শুরু করবেন বেঞ্চে বসে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে নামানো হবে মাঠে। তিনি মেনেও নিয়েছিলেন সেটা। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬৭ মিনিট মাঠে ছিলেন, তেমন কোনো ইমপ্যাক্ট রাখতে পারেননি ম্যাচে।

যে কারণে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রেখেই ম্যাচ শুরু করেন জেসুস। স্বভাবতই খানিকটা রাগ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপের জন্যও পাঠান কোচ। সমতায় থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন তিনি। কিন্তু না, ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে পুরো সময়টা রোনালদো কাটিয়েছেন বেঞ্চে। ১৮ বছর পর এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচের পুরোটা বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। শেষ এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০০৮ সালের ইউরোয়। ম্যাচের আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় তাঁকে আর মাঠে নামাননি কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি।

ম্যাচ শেষে তাই আর কোনো কথা না বলে সরাসরি ফিরে গিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে। সতীর্থ, কোচ সবাই যখন সমর্থকদের সঙ্গে ছিলেন মাঠে, রোনালদো চুপিসারে বেরিয়ে গিয়েছেন বাড়ির পথে।

আরও পড়ুন

বোঝাই যাচ্ছিল, বিশাল ইগো নিয়ে থাকা রোনালদোর সঙ্গে কিছু তো একটা হবে কোচের। হলোও সেটা। রোনালদোর সঙ্গে বিশাল আলোচনায় বসেছিলেন কোচ আর ফেডারেশনের প্রধান। দলের কাছে থাকতে উড়ে এসেছেন পর্তুগাল থেকে। জানতে চেয়েছিলেন কেন নিজের কথা রাখলেন না কোচ জর্জ জেসুস। কোচও তাঁর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অবশেষে কথা হয়েছিল কোচ সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে নিজের এবং রোনালদোর দিকটা খোলাখুলি সবার সামনে বলবেন। কিন্তু কোচ সেটা তো করেননি। উল্টো বলেছেন, ‘রোনালদোকে নিয়ে জোর করে কথা বলানোর কিছু নেই। বরং আমি সামনের ম্যাচ নিয়ে চিন্তিত, রোনালদোকে নিয়ে নই।’

ব্যস, রোনালদোর ইগোতে লাগল বলে। সংবাদ সম্মেলন শেষে ফিরতে না ফিরতেই জানিয়ে দিলেন নিজের সিদ্ধান্ত। একেবারে সরাসরি ঘোষণা দিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়লেন। এবার তাই প্রশ্নটা চলেই আসছে, রোনালদোর এই ছেড়ে যাওয়া কি একেবারে আজীবনের মতো ছাড়া? নাকি সাময়িক অভিমান ভেঙে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন তিনি? কারণ, যে দলকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সার্ভিস দিয়েছেন, তিনটি শিরোপা জিতেছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। তাদের সঙ্গে অভিমানের কাটাকাটি হতাশ করবে সমর্থকদের। সেই হতাশা ক্ষণস্থায়ী আর আজীবনের, জানার আগ পর্যন্ত স্বস্তি মিলছে না কারোরই।

আরও পড়ুন