স্পাইডার-ম্যান থেকে উঠে যাচ্ছে হাইফেন
‘স্পাইডার-ম্যান’ নামটি শুরু থেকেই লেখা হয় হাইফেন দিয়ে। অনেকে লেখার সময় এই হাইফেন ব্যবহার করতে ভুলে যায়। হাইফেন না থাকাটা আবার মেনে নিতে পারে না স্পাইডার-ম্যানের অন্ধ ভক্তরা। তাদের কাছে বিষয়টা বিরক্তিকর। কেউ হাইফেন না দিলে তার ভুল ধরিয়ে দিতে অভ্যস্ত স্পাইডার-ম্যানের ভক্তরা। কিন্তু এবার চরিত্রটির স্রষ্টা মার্ভেলই তুলে দিচ্ছে হাইফেন। স্পাইডার-ম্যানের বহুদিনের নিয়মেই পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৬২ সালে যখন স্পাইডার-ম্যানের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তখন ডিসি কমিকসের সুপারম্যান ও ব্যাটম্যান বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাই স্পাইডার-ম্যানের সহস্রষ্টা স্ট্যান লি চেয়েছিলেন তাঁর চরিত্রটিকে সবার চেয়ে আলাদা রূপ দিতে। শুরুতে তিনি ‘Spider Man’ ব্যবহারের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাইফেনযুক্ত নামটিই চূড়ান্ত করেন। এই নামের বানানটি মানুষ এত বেশি ভুল লেখে যে মার্ভেলের ভেতরে একটি জনপ্রিয় কৌতুকও রয়েছে, কেউ হাইফেন বাদ দিলেই নাকি স্পাইডার-ম্যান তা টের পেয়ে যান!
কিন্তু মার্ভেল আনুষ্ঠানিকভাবে স্পাইডির ছদ্মনাম থেকে হাইফেন চিহ্নটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন হয়তো পিটারের সেই বিশেষ ‘স্পাইডার-সেন্স’ তীব্র হয়ে উঠবে।
মার্ভেলের মিডনাইট সিরিজে পিটার পার্কারের নতুন নাম ‘দ্য স্পাইডারম্যান’
মার্ভেলের নতুন ‘মিডনাইট’ সিরিজ চালুর অংশ হিসেবেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৭ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজের আওতায় ‘মিডনাইট: স্পাইডারম্যান’, ‘মিডনাইট: এক্স-মেন’ এবং ‘মিডনাইট: ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর মাধ্যমে মার্ভেলের প্রধান সুপারহিরোদের এক নতুন হরর রূপে দেখা যাবে।
যেখানে এক্স-মেন যুদ্ধ করবে ভ্যাম্পায়ারদের বিরুদ্ধে আর ফ্যান্টাস্টিক ফোর লড়াই করবে মহাজাগতিক দানব গ্যালাকটাসের এক ভয়ংকর ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে। ‘মিডনাইট: স্পাইডারম্যান’-এ দেখা যাবে অন্য রূপ। এখানে অসকর্প করপোরেশনের ক্ষতিকর পরীক্ষার ফলে নিরীহ মানুষ হাইব্রিড পশুতে পরিণত হচ্ছে। সেই পরীক্ষায় প্রথম শিকারদের একজন পিটার পার্কার। কমিক সিরিজের ৩ নম্বর সংখ্যা থেকে জানা গেছে, তাকে এখন থেকে ‘দ্য স্পাইডারম্যান’(THE SPIDERMAN) নামে ডাকা হবে।
পিটার পার্কার যখন মরিয়া হয়ে আবার মানুষ হওয়ার পথ খুঁজছে, তখন অসকর্প পিটারের এই নতুন ‘দ্য স্পাইডারম্যান’ রূপটিকেই শিকার করতে চাইছে। তাদের মতে, এটি তাদের গবেষণায় এক বড় সাফল্য। অন্যদিকে ডক্টর অক্টাভিয়াস পিটারের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অসকর্পের গোপন গবেষণাগারে বানিয়ে ফেলেছে দ্বিতীয় মিউট্যান্ট। এটি এমন এক ভয়ংকর সৃষ্টি, যার কাছে স্পাইডার-ম্যানের শক্তিও নগণ্য মনে হবে।
পিটারের আসল রূপের সঙ্গে এই নতুন ভয়ংকর রূপের পার্থক্য বোঝাতেই মার্ভেল মূলত নাম পরিবর্তনের এ পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিকের মূল শিরোনামে হাইফেন থাকলেও পিটারকে ‘দ্য উলফম্যান’-এর মতো একটি আনুষ্ঠানিক ছদ্মনাম দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মাল্টিভার্সের অন্য রূপ গোয়েন স্টেসিকে সবাই ‘স্পাইডার-গোয়েন’ বললেও এটি কিন্তু কমিকের ভেতরে তার কোনো অফিশিয়াল নাম ছিল না।
স্পাইডার-ম্যানের ভয়ংকর রূপ
স্পাইডার-ম্যান নামটি মাকড়সাকে মনে করালেও পিটারের লাল-নীল পোশাক আর ভালো মানুষের ভাবমূর্তি তাকে সব সময় সত্যিকারের সুপারহিরো বানিয়ে রেখেছিল।
তবে ‘মিডনাইট: স্পাইডারম্যান’-এ সেই পুরোনো ধারণা পুরো বদলে যাচ্ছে। এখানে পিটারের লাল-নীল পোশাকের জায়গায় এসেছে গা-ছমছমে এক হরর রূপ। বুকে মিশে আছে বিশাল মাকড়সা, আর মুখোশের বদলে মুখে রয়েছে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ ও চুরি করা চশমা। এখানে পিটারকে আর আগের মতো পাশের বাড়ির ভালো ছেলে হিরো হিসেবে দেখা যাবে না। বরং সে হাজির হচ্ছে জৈবিক রূপান্তরের এক ভয়ংকর দানব হয়ে।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর মার্ভেল কমিকস থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এই সিরিজের নতুন কমিক ‘মিডনাইট: স্পাইডার-ম্যান #৩’।