স্কুলজীবন নিয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যানিমে

স্কুলজীবন যেকোনো মানুষের জন্যই স্মরণীয়। স্কুলে যেমন আনন্দদায়ক স্মৃতি আছে, তেমনি আছে তিক্ত অভিজ্ঞতাও। সব মিলিয়ে স্কুলজীবন মানুষের কাছে অনন্য। তাই বিশ্বব্যাপী স্কুলজীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানা সিরিজ কিংবা মুভি। লেখা হয় শত শত গল্প-উপন্যাস। বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে এসব মুভি দেখার আনন্দই আলাদা। তবে শুধু সিরিজ কিংবা মুভি নয়, স্কুলজীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য অ্যানিমেও। নানা স্বাদের এই অ্যানিমেগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্কুলজীবনের বৈচিত্র্যময় কাহিনি। তেমনই জনপ্রিয় কয়েকটি স্কুল অ্যানিমের কথা বলব তোমাদের।

অ্যাসাসিনেশন ক্লাসরুম

কুনুগিগাওকা জুনিয়র হাইস্কুল, থার্ড ইয়ারের ‘ই’ ক্লাস। ভালো ক্লাসের ছেলেরা ইয়ার্কি করে ডাকে, ‘দ্য এন্ড ক্লাস’। পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড—কোনো কিছুতেই ভালো করতে পারে না এই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। অন্য ক্লাসগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অপমানিত হয় ‘ই’ ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। তাদের ক্লাসরুমও মূল ক্যাম্পাস থেকে আলাদা। এত কিছুর মধ্যেই হঠাৎ একদিন রহস্যজনকভাবে ধ্বংস হয়ে যায় চাঁদের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ। পুরো বিশ্ব যখন এ ব্যাপারে আতঙ্কিত, ক্লাস ‘ই’র শান্ত ক্লাসরুমে আবির্ভাব ঘটে এক নতুন শিক্ষকের। নতুন শিক্ষককে দেখেই চমকে ওঠে শিক্ষার্থীরা। আশ্চর্য, মানুষ নয় সে! আরও অবাক করা ব্যাপার, প্রাণীটি বলে সে-ই নাকি চাঁদ উড়িয়ে দিয়েছে! ৩৬৫ দিন পর পৃথিবীরও একই দশা করা হবে! জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লোকজন ঘোষণা দেয়—এক বছর এই টিচার তাদের ক্লাস নেবে। তবে শর্ত একটাই—৩৬৫ দিনের মধ্যে তাদের এই শিক্ষককে হত্যা করতে হবে। অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পৃথিবীও। এ কাজের জন্য আমেরিকা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। শুরু হয় শিক্ষার্থীদের নতুন জীবন, যেখানে লক্ষ্য একই সঙ্গে পড়াশোনা আর শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত কি তারা পৃথিবীকে বাঁচাতে পারবে? জানতে হলে দেখতে হবে তুমুল জনপ্রিয় এই অ্যানিমেটি। ৪৭ পর্বের এই অ্যানিমেতে রয়েছে অসাধারণ সব কমেডি। আকাবানে কারমা, নাগিসা শিওতাসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই রয়েছে আলাদা গল্প। সব মিলিয়ে স্কুল নিয়ে দর্শকদের জন্য খুব আনন্দদায়ক হবে ইয়ুসেই মাতসুইয়ের লেখা জনপ্রিয় এই অ্যানিমে।

আরও পড়ুন

ডেইলি লাইভস অব হাইস্কুল বয়েজ

হাইস্কুলে উঠে অনেকেই হয়তো পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠো। বাইরে হাসি-খুশি থাকলেও ভেতরে ভেতরে সব হয়ে ওঠে বিরক্তিকর। কিন্তু ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পড়াশোনার অন্তরালে থেকেও হাইস্কুল জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে বা উপভোগ করতে মানা কোথায়? হিদেনোরি, তাদাকুনি ও ইয়োশিতাকে—তিন ধরনের মানসিকতা থাকলেও তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ‘সানাদা নর্থ’ নামে ছেলেদের এক সাধারণ স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ জীবন যাপন করে তারা। তবে এই সাধারণ ও একঘেয়ে জীবনকে তারা করে নিয়েছে রোমাঞ্চকর! কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে অভিনয়, একসঙ্গে ভূতের গল্প বলা অথবা স্মৃতি রোমন্থন—প্রতিটি দিনই যেন একেকটা অ্যাডভেঞ্চার। কাহিনি এগিয়ে যাওয়ার ধাপে ধাপে পরিচয় করানো হয় আরও মজাদার চরিত্রের সঙ্গে। অন্য ক্লাসমেটদের সঙ্গে খুনসুটি অথবা চশমা হারানোর মতো বিষয়কে অসম্ভব মজার করে তুলে ধরা হয়েছে এক সিজনের এই অ্যানিমেতে। হাইস্কুলের জীবন বা দৈনন্দিন জীবনের খুব স্বাভাবিক বিষয়ের অন্য রকম উপস্থাপনায় অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে দর্শকেরা। কখনো হয়তো কিছু ক্ষেত্রে মিল পাবে নিজের সঙ্গেও। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যানিমেটি শিক্ষার্থীদের এনে দেবে স্কুলজীবনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।

আরও পড়ুন
শোনেন
গেমর‌্যান্ট

শোনেন (Shonen), স্লাইস অব লাইফের মতো স্কুল লাইফ অ্যানিমের খ্যাতিও বেড়ে চলেছে। অ্যাসেসিনেশন ক্লাসরুম ও ডেইলি লাইভস অব হাইস্কুল বয়েজ-এর কাহিনি অবলম্বনে জাপানে নির্মিত হয়েছে মুভি। দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে মুভিটিও। এই জনরার অন্যান্য বিখ্যাত অ্যানিমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অওরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাব, ওয়েস্টফুল ডেজ অব হাইস্কুল গার্লস, গ্রেট টিচার ওনিযুকা, হাইওকা এবং বিস্টার্স।

লেখক: শিক্ষার্থী, কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ

আরও পড়ুন