বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোগোর ভেতরে কী লুকিয়ে আছে
প্রতিদিন আমরা কতগুলো লোগো দেখি? বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নিজের শোবার ঘর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার বিজ্ঞাপন বা লোগো দেখি!
কিন্তু এই লোগোগুলো শুধু কোম্পানির নাম বা ছবি নয়। একটি ভালো লোগোর ভেতরে লুকিয়ে থাকে দারুণ সব গোপন বার্তা। ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোপন বার্তাগুলো অনেকটা ধাঁধার মতো। একবার সেই ধাঁধা সমাধান করতে পারলে ওই ব্র্যান্ডের নাম মস্তিষ্ক থেকে মোছা যায় না। চলো, আজ এমন ১০টি পরিচিত লোগোর গোপন রহস্য ভেদ করা যাক।
অ্যামাজন
অনলাইন কেনাকাটার সবচেয়ে বড় নাম অ্যামাজন। লোগোর নিচে হলুদ রঙের একটা তির চিহ্ন আছে। খেয়াল করেছ কি, তিরটা দেখতে একদম হাসিমুখের মতো? পার্সেল হাতে পেলে আমাদের মুখে যেমন হাসি ফোটে, এটি তারই প্রতীক। এর আরেকটি মানে আছে। তিরটা ইংরেজি A থেকে শুরু হয়ে Z পর্যন্ত গেছে। অর্থাৎ এ থেকে জেড, তোমার দরকারি সবকিছুই এখানে পাওয়া যায়!
বিএমডব্লিউ
রাস্তায় বিলাসবহুল এই গাড়ি দেখলে চোখ আটকে যায়। এর নীল–সাদা লোগোটা আসলে জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের পতাকার রং। সেখানেই এই কোম্পানির জন্ম। এর আরও একটি চমৎকার অর্থ আছে। ভেতরের চারকোনা নকশাটা আসলে একটি উড়োজাহাজের ঘুরতে থাকা প্রপেলার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তারা যে বিমানের ইঞ্জিন বানাত, এটি সেই ইতিহাসেরই স্মৃতি!
ডেল
ডেলের লোগোয় E অক্ষরটি একটু বাঁকা করে লেখা। এটি শুধু স্টাইলের জন্য নয়! কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল বলেছিলেন, তিনি দুনিয়াটাকে একটু উল্টে দিতে চান। অর্থাৎ কম্পিউটার বিক্রির পুরোনো নিয়ম ভেঙে তিনি এমন এক সুবিধা আনলেন, যেখানে ক্রেতারা অনলাইনে নিজেদের পছন্দমতো যন্ত্রাংশ দিয়ে কম্পিউটার বানিয়ে নিতে পারতেন।
উইকিপিডিয়া
উইকিপিডিয়ার লোগো একটি অসম্পূর্ণ গ্লোব। অনেকগুলো পাজল মিলিয়ে গ্লোবটির কিছু অংশ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাজলগুলোয় নানা ভাষার অক্ষর লেখা। কিন্তু ওপরের দিকটা ফাঁকা কেন জানো? কারণ, সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যে চলে উইকিপিডিয়া। তথ্যের তো কোনো শেষ নেই। তাই কাজও কখনো শেষ হওয়ার নয়। দুনিয়ার জ্ঞান তো অসীম, তাই এই পাজলও কখনো সম্পূর্ণ হবে না!
এলজি
এর ইতিহাস বেশ লম্বা। ১৯৪৭ সালে লাকি কেমিক্যাল নামে শুরু, পরে গোল্ডস্টার কোম্পানির সঙ্গে মিলে এর নাম হয় লাকি গোল্ডস্টার। সেখান থেকেই এলজি (LG)। লাল রঙের লোগোটি খেয়াল করো। L ও G মিলে চোখ মারা একটি হাসিমুখ তৈরি করেছে। কোম্পানিটি একে বলে ভবিষ্যতের মুখ, যা তারুণ্য, প্রযুক্তি ও ইতিবাচকতার প্রতীক।
পিন্টারেস্ট
লাল বৃত্তের ভেতর সাদা রঙের একটি P। দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এই P অক্ষরটি আসলে একটি পিন। বোর্ডে কোনো ছবি বা কাগজ আটকে রাখার জন্য আমরা যেমন পিন ব্যবহার করি, এখানে ডিজিটাল ছবি আটকে রাখার ধারণা থেকেই লোগোটি এমন পিনের মতো করে বানানো হয়েছে।
সিসকো
ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্কিংয়ের বড় নাম সিসকো। নামের ওপরে কয়েকটি নীল দাগ। এগুলো শুধু দাগ নয়, এগুলো একই সঙ্গে ইলেকট্রোম্যাগনেট ও সান ফ্রান্সিসকো শহরের বিখ্যাত গোল্ডেন গেট ব্রিজের ছবি। সিসকো নামটিও কিন্তু এই সান ফ্রান্সিসকো থেকেই নেওয়া!
টয়োটা
টয়োটার লোগোয় তিনটি ডিম্বাকৃতির রিং একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই রিংগুলো ক্রেতা ও কোম্পানির হৃদয়ের মিলনের প্রতীক। পেছনের ফাঁকা জায়গাটি ভবিষ্যতের অসীম সম্ভাবনার কথা বলে। আর বাইরের বড় রিং দিয়ে আসলে গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল বা স্টিয়ারিং চাকা বোঝানো হয়েছে!
ইউনিলিভার
ইউনিলিভারের পণ্য আমাদের অনেকের ঘরেই আছে। লোগোর বড় U অক্ষরটি কখনো জুম করে দেখেছ? এর ভেতরে ছোট ছোট অনেকগুলো আইকন বা প্রতীক আঁকা। যেমন চামচ দিয়ে বোঝানো হচ্ছে খাবার, ঠোঁটের সাহায্যে মেকআপ, পানির ফোঁটার সাহায্যে সাবান। অর্থাৎ তারা যেসব পণ্য বানায়, লোগোর ভেতরেই তার সব কটির ছবি লুকিয়ে রাখা আছে!
অ্যাডিডাস
খেলার জুতা বা পোশাকের এই লোগো সবার চেনা। নামের ওপর তিনটি বাঁকা দাগ। এই দাগগুলো দিয়ে আসলে একটি পাহাড় বোঝানো হয়েছে। একজন অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়কে সফল হতে হলে পাহাড়ের মতো যত বাধা ও চ্যালেঞ্জ পার হতে হয়, এই লোগো সেই চ্যালেঞ্জ জয়েরই প্রতীক।