জাপান এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কাজ করবে হিউম্যানয়েড রোবট
জাপানের টোকিও শহরের হানেদা বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর; যেখানে প্রতিবছর প্রায় ছয় কোটি যাত্রী যাতায়াত করেন। এই বিশালসংখ্যক মানুষের লাগেজ সামলাতে গিয়ে কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। সেই সমস্যা দূর করতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল)। মে মাসের শুরু থেকেই তারা পরীক্ষামূলকভাবে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করবে।
মূলত একটি বিমান রানওয়েতে নামার পর থেকে আবার আকাশে ওড়া পর্যন্ত মাটিতে যত ধরনের সেবা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বলে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের মালামালের লাগেজ সাবধানে নামানো ও ওঠানো, বিমানে জ্বালানি ভরা, কেবিন পরিষ্কার করা ও বিমানে যাত্রীদের খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া বিমানকে পার্কিং থেকে রানওয়েতে বের করে আনা ও যাত্রীদের ওঠানামার সিঁড়ি বা ব্রিজের ব্যবস্থা করাও এই কাজের অংশ।
চীনের বিখ্যাত রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রির তৈরি ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই রোবটগুলো বিমানবন্দরের টারম্যাকে মালামাল টানার কাজ করবে। সম্প্রতি এক প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, এই রোবটগুলো বেশ সতর্কতার সঙ্গে কনভেয়ার বেল্টে মালামাল ঠেলে তুলছে। এমনকি সহকর্মীদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদনও জানাচ্ছে। যদিও মানুষ কর্মীদের মতো এরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে পারবে না। এদের নিয়মিত বিরতি ও ব্যাটারি রিচার্জের প্রয়োজন হবে।
কিন্তু কেন হঠাৎ রোবটের প্রয়োজন পড়ল? জাপানে বর্তমানে জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৮ সাল নাগাদ এই পরীক্ষা সফল হলে রোবটগুলো স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের ওপর কাজের চাপ কমবে, অন্যদিকে পর্যটকদের ভিড় সামলানোও অনেক সহজ হয়ে যাবে। যান্ত্রিক এই শ্রমিকেরা কি পারবে হানেদা বিমানবন্দরের ব্যস্ততা সামাল দিতে?
জেএএল গ্রাউন্ড সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট ইয়োশিতেরু সুজুকি জানান, ‘মালামাল টানা বা ভারী কনটেইনার সরানোর মতো হাড়ভাঙা খাটুনিগুলো রোবট দিয়ে করানো এখন সময়ের দাবি। এতে কর্মীদের ওপর শারীরিক চাপ কমবে এবং তারা আরও উন্নত কাজে মন দিতে পারবেন। তবে নিরাপত্তামূলক স্পর্শকাতর কাজগুলো কিন্তু এখনই রোবটের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেগুলো মানুষই তদারকি করবে।’
জাপানে বর্তমানে এক অদ্ভুত সংকট চলছে। একদিকে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা রেকর্ড হারে বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই দেশটিতে ৭০ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন। অন্যদিকে জাপানের নিজস্ব কর্মক্ষম জনসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একটি হিসাব বলছে, ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রায় ৬৫ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হবে। এই জনবলসংকট মেটাতেই জিএমও এআই অ্যান্ড রোবোটিকসের প্রেসিডেন্ট তোমোহিরো উচিদা মনে করেন, বিমানবন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমকে রোবটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কেননা বছরে কোটি কোটি পর্যটকদের সেবা দিতে এখন মাত্র চার হাজার কর্মী কাজ করছেন বিমানবন্দরে।
এই হিউম্যানয়েড রোবটগুলো একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা কাজ করতে পারে। শুধু মালামাল বহন নয়, ভবিষ্যতে বিমানের ভেতরের কেবিন পরিষ্কার করার মতো কাজও এদের দিয়ে করানোর পরিকল্পনা চলছে।