রাতে টক খাবার খেলে কী ক্ষতি

ছবি: মিডিয়াম

এখন বৈশাখ মাস। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। আর ঝড়ের ঝাপটায় গাছ থেকে পড়ছে কাঁচা আম। বাজারেও এখন আমের ছড়াছড়ি। এই গরমে আম মাখা বা আম–ডাল অনেকেরই খুব প্রিয়। কিন্তু কাজের চাপে দিনের বেলা অনেকেরই আম খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই সেই কাঁচা আমের লোভ সামলাতে না পেরে অনেকেই একদম রাত করে আম মাখিয়ে খেতে বসে।

কিন্তু রাতের বেলা এই আম মাখা বা টকজাতীয় খাবার খাওয়া শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা কি জানো? আর বড়রা কেন সব সময় সূর্য ডোবার পর টক কিছু খেতে বারণ করেন? এটা কি শুধুই কোনো পুরোনো কুসংস্কার, নাকি এর পেছনে আছে বড় কোনো কারণ? চলো জেনে নিই, কেন রাতের বেলা টক খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।

রাতের খাবারের ব্যাপারে পুষ্টিবিদরা সব সময় একটা কথাই বলেন, ‘রাতে হালকা কিছু খাও।’ কিন্তু এই হালকা খাবার বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে অনেকের মনেই খটকা লাগে। বড়দের মুখে নানা রকম কথা শুনে আমরা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আসলে কোন খাবারটা আমাদের শরীরের জন্য ভালো আর কোনটা ক্ষতিকর?

আরও পড়ুন

যেমন ধরো, অনেকেই রাতে টক খাবার খেতে একদম বারণ করেন। যারা টক দই বা আম মাখানো পছন্দ করো, তাদের জন্য খবরটা একটু মন খারাপের হলেও এর পেছনে কিন্তু দারুণ যুক্তি আছে।

তেঁতুল পানি

প্রথমত, অধিকাংশ টক খাবার প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয় বা অ্যাসিডিক। ঘুমানোর ঠিক আগে এগুলো খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের কিছু মতানুসারে, রাতে টক খাবার খেলে শরীরে শ্লেষ্মা বা কফ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা সর্দি-কাশির কারণ হতে পারে।

শুধু তাই নয়, যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য রাতের টক খাবার হতে পারে বড় বাধা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ভিনেগার, টক স্যুপ জাতীয় খাবার খেলে শরীরে জলীয় অংশ জমে গিয়ে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে ও শান্তির ঘুমের জন্য রাতে অতিমাত্রায় টক বা অ্যাসিডিক খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন

দিনের বেলা যে টক খাবার আমাদের রুচি বাড়ায়, রাতের বেলা সেই একই খাবার কেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়? এর পেছনে রয়েছে আমাদের শরীরের ভেতরের এক জটিল রসায়ন। আগেই বলেছি বেশির ভাগ টক খাবারই অ্যাসিডিক বা অম্লীয় প্রকৃতির। সারা দিন আমাদের শরীর যতটা সক্রিয় থাকে, সূর্য ডোবার পর আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ততটাই ধীর হয়ে যায়।

অনেকেরই ধারণা, সর্দি-কাশি শুধু ঠান্ডা লাগলেই হয়। কিন্তু রাতের ভুল খাবারও এর জন্য দায়ী হতে পারে
ছবি: প্রথম আলো

বিকেলের পর থেকে ঘুমানোর আগপর্যন্ত শরীরের ভেতরের পাচক রসগুলো দিনের মতো অতটা শক্তিশালী থাকে না। এই সময়ে টকজাতীয় খাবার খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। যেহেতু রাতে খাওয়ার পর আমরা তেমন কোনো শারীরিক পরিশ্রম করি না ও দ্রুত ঘুমাতে যাই, তাই এই বাড়তি অ্যাসিড হজমে সমস্যা তৈরি করে।

অনেকেরই ধারণা, সর্দি-কাশি শুধু ঠান্ডা লাগলেই হয়। কিন্তু রাতের ভুল খাবারও এর জন্য দায়ী হতে পারে। রাতে টকজাতীয় খাবার খেলে শরীরের ভেতরে শ্লেষ্মা বা কফ তৈরির প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে নাকের পথ বন্ধ হয়ে আসা বা বুকে কফ জমার মতো অস্বস্তি তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, এ কারণে অনেক সময় বেশ দুর্বল ও ক্লান্ত বোধ হয়।

আরও পড়ুন
সুস্থ থাকতে আর চমৎকার ঘুমের জন্য ঘুমানোর ঠিক আগে টক খাবার না খাওয়া ভালো

আসলে খাবার টক হোক বা মিষ্টি, বিশ্বের সব পুষ্টিবিদই ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে কিছু খেতে নিষেধ করেন। এর কারণ ঘুমানোর আগের সময়ে কিছু খাওয়া হলে শরীর সেই খাবার থেকে হঠাৎ প্রচুর শক্তি পায়। কিন্তু ঘুমের সময় তো শরীরের এই বাড়তি শক্তির কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ম অনুযায়ী, ঘুমের আগে শরীরের শক্তি বা এনার্জি লেভেল কমে আসা উচিত, যাতে মস্তিষ্ক শান্ত হয়ে ঘুমানোর সংকেত পায়।

রাতের এই বাড়তি শক্তি ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। তাই টক খাবারগুলো অবশ্যই খাবে, তবে খেয়াল রাখবে যেন তা বিকেলের মধ্যেই হয়। সুস্থ থাকতে আর চমৎকার ঘুমের জন্য ঘুমানোর ঠিক আগে টক খাবার না খাওয়া ভালো।

সূত্র: এনডিটিভি ফুড, স্লিপ ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন