বাংলাদেশে কি কখনো তুষার পড়েছে

রাতে তাপমাত্রা খুব কমে গেলে বাতাসের জলীয় বাষ্প সরাসরি বরফকণায় পরিণত হয়ে মাটির ওপর জমে যায়। এটিই ফ্রস্ট।মিডজার্নি

শীত এলেই একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে, বাংলাদেশে কি কখনো তুষারপাত হয়েছে? তেঁতুলিয়ায় কি সত্যিই তুষার পড়ে? উত্তরটা খুব সোজা। না, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কখনো তুষারপাত হয়নি। তুষারপাতের জন্য দরকার শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রা এবং পাহাড়ি বা উঁচু ভূপ্রকৃতি। বাংলাদেশ মূলত সমতল দেশ। এখানে শীত পড়ে ঠিকই, কিন্তু তাপমাত্রা সাধারণত শূন্য ডিগ্রির নিচে নামে না। তাই প্রকৃত তুষার তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

এ বছর অনেকেই বলাবলি করছে। গত ১০ বছরে এমন ঠান্ডা পড়েনি। সবার জন্য কথাটা সঠিক নয়। এলাকাভেদে তাপমাত্রা ভিন্ন হয়। তাই বিভিন্ন এলাকার মানুষের ঠান্ডা লাগার পরিমাণ আলাদা হবে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তো খুব ঠান্ডা পড়ে। এখানে কি তুষার পড়ার সম্ভাবনা আছে? শীতকালে তেঁতুলিয়া ও শ্রীমঙ্গলের মতো উত্তরের বা চা-বাগানঘেরা এলাকায় খুব ঠান্ডা পড়ে ঠিকই। কুয়াশা খুব ঘন হয়। ভোরবেলায় ঘাস, গাছের পাতা বা ফসলের ওপর ছোট ছোট সাদা কণা দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে এগুলো বরফ বা তুষারকণার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো তুষার নয়। এগুলো হলো ফ্রস্ট। বাংলায় যাকে বলা যায় ‘জমাট শিশির’। রাতে তাপমাত্রা খুব কমে গেলে বাতাসের জলীয় বাষ্প সরাসরি বরফকণায় পরিণত হয়ে মাটির ওপর জমে যায়। এটিই ফ্রস্ট।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে কি ফ্রস্ট হয়? হ্যাঁ, খুব বিরল হলেও তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় অঞ্চল এবং কখনো কখনো শ্রীমঙ্গলের মতো জায়গায় শীতের ভোরে হালকা ফ্রস্ট দেখা যেতে পারে। সাধারণত বাতাসের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও মাটির কাছাকাছি তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে গেলে ফ্রস্ট তৈরি হয়।

বাংলাদেশে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল ২০১৮ সালে। এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ২০১৮ সালের শীতের এক সকালে এই তাপমাত্রা দেখা যায়। তবু সেটাও তুষারপাতের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, তুষারপাতের জন্য চাই শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রা। ঠিক একই সময় রংপুরের দিকে কাছাকাছি তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল। রংপুরের সৈয়দপুরে ছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই বছর উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল তিনের ঘরে।

আরও পড়ুন
পঞ্চগড়ে কনকনে শীতের মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ করছেন এক কৃষক।
ছবি: প্রথম আলো

তুষার আসলে আকাশ থেকে পড়া বরফের কণা। প্রতিটা তুষারের নকশা আলাদা। এগুলো হাতের ওপর পড়লে ধীরে ধীরে গলে যায়। এই দৃশ্য বাংলাদেশে দেখা যায় না। তুষার দেখতে চাইলে যেতে হবে হিমালয় অঞ্চলে বা ইউরোপে। আমেরিকা, জাপান বা কোরিয়ার মতো দেশেও তুষারপাত হয়। এসব দেশে শীত মানেই বরফ। আর বাংলাদেশে শীত মানে কুয়াশাভেজা সকাল, রোদের উষ্ণতা আর শিশিরে ভেজা ঘাস। এটাই আমাদের শীতের নিজস্ব সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন