মৌখিক পরীক্ষার সময় গলা শুকিয়ে গেলে কী করব
ভাইভা বোর্ডে বসে আছ। সামনে তিন-চারজন রাশভারী শিক্ষক। হঠাৎ নার্ভাসনেসে গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ। মনে হচ্ছে এক গ্লাস পানি না খেলে কথা বলা তো দূর, নিজের নামটাও মনে পড়বে না! ঠিক এমন সময় কি তোমার বলা উচিত, ‘স্যার, একটু পানি খেতে পারি?’ নাকি নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে ঢকঢক করে খাওয়া শুরু করবে? ব্যাপারটা কি স্মার্টনেস, নাকি শুধুই অভদ্রতা?
স্কুলের ভাইভা নিয়ে এমন দ্বিধা অনেকেরই থাকে। ভাইভা বোর্ডে বসে তৃষ্ণা পেলে পানি খাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে যেহেতু এটি একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশ, তাই কীভাবে পানি খাচ্ছ, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। নেটিজেনদের আলোচনাতেও এই বিষয় নিয়ে নানা মত দেখা যায়। কারও মতে, তৃষ্ণা পাওয়া তো মানুষের স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার কেউ মনে করেন, ভাইভা বোর্ডে শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত।
পানি পানের পক্ষে যাদের ভোট
‘তৃষ্ণা মেটানো তো মানুষের মৌলিক একটা বিষয়, এতে আমি দোষের কিছু দেখি না।’ অনেকের মত ঠিক এমনই। পানি খেলে নার্ভ কিছুটা শান্ত হতে পারে। অনেক সময় ভাইভা বোর্ডে হাত-পা কাঁপা বা অস্বস্তি কমাতে হাতে কিছু একটা ধরে রাখা কাজে দেয়। সে কারণেই কোথাও কোথাও ভাইভার শুরুতেই শিক্ষার্থীর দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে সে স্বস্তিবোধ করে।
তা ছাড়া ভাইভা বোর্ডে পানি খাওয়া বা না খাওয়ার সঙ্গে তোমার যোগ্যতার তো কোনো সম্পর্ক নেই! শুধু এক বোতল পানি সঙ্গে রাখা বা প্রয়োজনের সময় কয়েক চুমুক পানি খাওয়ার কারণে তোমার জ্ঞান বা মেধা বিচার করা উচিত নয়। বরং গলা শুকিয়ে গেলে অস্বস্তি নিয়ে কথা বলার চেয়ে অনুমতি নিয়ে একটু পানি খেয়ে স্বাভাবিকভাবে উত্তর দেওয়াই ভালো।
পানি খাওয়ার সময় যা খেয়াল রাখবে
মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। তুমি হয়তো ভাবছ, পানিই তো! কিন্তু ভাইভা বোর্ডে হুট করে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে অনুমতি ছাড়া খাওয়া ঠিক দেখায় না। এতে বোর্ডের সদস্যদের প্রতি তোমার ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই পানি খেতে হলে আগে বিনয়ের সঙ্গে অনুমতি চাওয়াই ভালো।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো লজিস্টিকস। ধরো, তুমি পানির গ্লাস হাতে নিলে। একটু নার্ভাস থাকায় হাত কাঁপল, আর পানি গিয়ে পড়ল তোমার জামায় বা টেবিলের কাগজে! আবার ধরো, ঠান্ডা পানির বোতলের গায়ে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে। তুমি সেটা ধরার পর হাত ভিজে গেল। এসব ছোটখাটো ঘটনা তোমাকে আরও নার্ভাস করে দিতে পারে। তাই পানি খেলে ধীরেসুস্থে খাবে এবং গ্লাস বা বোতল সাবধানে ধরবে।
আর শব্দ করে পানি পানের বদভ্যাস থাকলে তো কথাই নেই। কারও কারও আবার মিসোফোনিয়া থাকে। মিসোফোনিয়া হলো এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে অন্য কারও চিবানোর বা তরল পানের শব্দ শুনলে তীব্র রাগ বা বিরক্তি তৈরি হয়। তাই ভাইভা বোর্ডে পানি খাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় শব্দ না করাই ভালো। কয়েক চুমুক পানি খেয়ে আবার মনোযোগ দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।
তাহলে তুমি কী করবে
সবকিছুই যে ঝামেলার, তা কিন্তু নয়। কিছু বিষয় নির্ভর করে তুমি কোথায় মৌখিক পরীক্ষা দিচ্ছ তার ওপর। তুমি যদি স্কুলের ভাইভা দিতে যাও, তবে পরিবেশ বুঝে আচরণ করাই ভালো। ভাইভা বোর্ডে হুট করে পানির বোতল বের করে খাওয়া বা অনুমতি না নিয়ে পানি পান করা এড়িয়ে চলতে পারো। তবে গলা শুকিয়ে গেলে বিনয়ের সঙ্গে, ‘স্যার, একটু পানি খেতে পারি?’ বলে অনুমতি চাওয়াটা মোটেও বোকামি নয়। নিজের সঙ্গে ছোট পানির বোতল রাখতে পারো। আর যদি বোর্ডে পানি দেওয়া থাকে, তাহলে অনুমতি নিয়ে কয়েক চুমুক পানি খেতে পারো। যদি ভুল করে এক ফোঁটা পানি ফেলেও দাও, তবে ঘাবড়ে না গিয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে দেওয়াটা তোমার দায়িত্ববোধের প্রমাণ দেবে।
স্কুলের ভাইভা বোর্ডে পানি চাওয়া কোনো অপরাধ নয়। তবে পরিস্থিতি বুঝে আচরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো, ভাইভা কক্ষে ঢোকার ঠিক আগেই পানি খেয়ে গলা ভিজিয়ে নেওয়া। এরপরও গলা শুকিয়ে গেলে বিনয়ের সঙ্গে পানি খেতে চাইতে পারো। আর বোর্ডের কেউ নিজে থেকে পানি খেতে দিলে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানিয়ে গ্রহণ করতে পারো। তবে হ্যাঁ, চা বা পানির গ্লাস নিয়ে কসরত করার চেয়ে নিজের জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও ভদ্রতার প্রমাণ দেওয়াই যে আসল কাজ, সেটা নিশ্চয়ই আর মনে করিয়ে দিতে হবে না!