টুথব্রাশে লেগে থাকা জীবাণু থেকে বাঁচার উপায় কী
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তুমি প্রথম কী করো? ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার কথা বলছি না। দাঁত মাজার কথা হচ্ছে। হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া, পরিচিত টুথব্রাশটা তুলে নিয়ে টুথপেস্ট লাগানোর কথা হচ্ছে। সকালের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ব্রাশ করা। ব্রাশ করার পরে তোমার মনে হতে পারে, আহ্ মুখটা পরিষ্কার হয়ে গেল! কিন্তু এখানে একটা কিন্তু রয়ে গেছে। যে ব্রাশ দিয়ে তুমি মুখ পরিষ্কার করতে চাও, সেই ব্রাশেই জীবাণু জমে থাকতে পারে!
এটা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মুখের ভেতরেই লাখ লাখ জীবাণু থাকে। তাদের অনেকগুলো ক্ষতিকরও নয়। দাঁত মাজার সময় প্লাক, লালা, খাবারের কণা আর টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ ব্রাশের আঁশের ফাঁকে লেগে যায়। ইংরেজিতে এই আঁশকে বলে ব্রিস্টল। বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর ভেজা ব্রাশ জীবাণুর জন্য আরামদায়ক জায়গা। তাই ব্যবহারের পরও ব্রাশ পুরোপুরি ‘জীবাণুশূন্য’ থাকে না।
আশার কথা হলো, সুস্থ মানুষ এই জীবাণু দিয়ে অসুস্থ হয়েছে এমন প্রমাণ খুব কম। দাঁতের চিকিৎসকেরা তাই আতঙ্কিত হওয়ার পরামর্শ দেন না। তাঁরা বলেন, ঠিকভাবে ব্রাশের যত্ন নিলেই চলবে। সঙ্গে কিছু নিয়ম মানতে হবে।
ব্যবহারের পর ভালো করে ধুতে হবে
দাঁত মাজা শেষ হলে ব্রাশটা কলের পানির নিচে ধরে রাখো। ব্রিস্টলের ফাঁকে লেগে থাকা পেস্ট আর ময়লা পুরোপুরি ধুয়ে ফেলো। শুধু একবার ঝাঁকিয়ে ফেলা যথেষ্ট নয়। হাতলটাও ধুয়ে নাও। ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে দাও।
সোজা করে খোলা জায়গায় শুকাতে দাও
জীবাণুর সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো আর্দ্রতা। ব্রাশ ভেজা থাকলে জীবাণু সহজে বাড়ে। তাই ব্রাশ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বা বন্ধ বক্সে রাখা ঠিক নয়। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ব্রাশ সোজা করে দাঁড় করিয়ে খোলা হোল্ডারে রাখো, যেন বাতাসে শুকাতে পারে। ঘরে একাধিক ব্রাশ থাকলে একটির মাথা যেন অন্যটির সঙ্গে লাগিয়ে রাখবে না। এতে একজনের জীবাণু অন্যজনের ব্রাশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ভ্রমণের সময় কভার ব্যবহার করতে হতে পারে। তখন ব্যবহারের পর ব্রাশ ভালো করে শুকিয়ে তবেই ঢেকে রাখো। বাসায় ফিরেই ব্রাশটাকে খোলা জায়গায় রেখে দাও।
তিন-চার মাস পর ব্রাশ বদলে নাও
ব্রিস্টল ছড়িয়ে গেলে বা বাঁকা হয়ে গেলে ব্রাশ আর ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে না। তাই তিন থেকে চার মাস পরপর নতুন ব্রাশ নাও। ব্রিস্টল নষ্ট দেখলে এর আগেই বদলে ফেলো। অসুস্থ হলে, বিশেষ করে গলাব্যথা, ফ্লু বা মুখের সংক্রমণ হলে সুস্থ হওয়ার পর পুরোনো ব্রাশ ফেলে নতুনটা ব্যবহার করাই নিরাপদ। শিশুদের ব্রাশ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাথরুমে ব্রাশ কোথায় রাখবে
অনেক বাসায় টুথব্রাশ টয়লেটের খুব কাছে থাকে। ফ্লাশ করলে পানির কণা বাতাসে ছড়াতে পারে। ঢাকনা বন্ধ করে ফ্লাশ করা ভালো অভ্যাস। তবে এতেও সব ঝুঁকি দূর হয়ে যায় না। সম্ভব হলে ব্রাশ টয়লেট থেকে একটু দূরে, শুকনা ও বাতাস চলাচল করা জায়গায় রাখো। হোল্ডারটাও সময় সময় ধুয়ে শুকিয়ে নাও। দাঁত মাজার আগে হাত ধুতে ভুলো না। নোংরা হাতে ব্রাশ ধরলে বাইরের জীবাণু ব্রাশে চলে আসে।
জীবাণুনাশক কি দরকার আছে
বাজারে ইউভি স্যানিটাইজার বা নানা দ্রবণ পাওয়া যায়। কিছু গবেষণায় মাউথওয়াশ বা হাইড্রোজেন পার–অক্সাইডে চুবিয়ে রাখলে জীবাণু কমে বলে দেখা গেছে। তবে নিয়মিত এসব করা জরুরি নয়। এতে অনেক সময় ব্রাশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মাইক্রোওয়েভ বা ডিশওয়াশারে ব্রাশ দেওয়া উচিত না। প্রতিদিন ভালো করে ব্রাশ ধুয়ে শুকিয়ে রাখলেই হলো। আর সময়মতো ব্রাশ বদলালে আর চিন্তা নেই।
ভালো ব্রাশের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
ব্রাশ পরিষ্কার রাখা মানে এই না যে দাঁত মাজার নিয়ম ঠিকঠাক পালন করা লাগবে না। নরম ব্রিস্টলের ব্রাশ নাও। দিনে দুবার, প্রতিবার দুই মিনিট সময় নিয়ে মাড়ির সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোণে আলতো করে ব্রাশ করো। জোরে ঘষলে মাড়ি ও দাঁতের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাঁতের ফাঁকা জায়গা পরিষ্কার করতে ফ্লস ব্যবহার করো। জিভও পরিষ্কার রাখো। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় কম হয়। মিষ্টি ও কার্বোনেটেড পানীয় কম খেয়ে ফল-সবজি চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।