কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক নির্মূলে সফল ভুটান
ভুটানে কুকুরের কামড় থেকে ছড়িয়ে পড়া জলাতঙ্কে এখন থেকে আর কোনো মানুষ মারা যাবে না। এমন অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে ভুটান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি দেশটিকে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া জলাতঙ্ককে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করার স্বীকৃতি দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই সাফল্য অর্জন করা প্রথম দেশ ভুটান।
জলাতঙ্ক এমন এক ভাইরাসজনিত রোগ, যার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবে রোগটি প্রতিরোধ করা যায়। আক্রান্ত কুকুরকে টিকা দেওয়া, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং কেউ কামড়ের শিকার হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, এসবই জলাতঙ্ক ঠেকানোর কার্যকর উপায়।
ভুটানের সাফল্যের পেছনে আছে ‘ওয়ান হেলথ’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা। এই ধারণার মূল কথা হলো, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য আলাদা নয়; এরা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই জলাতঙ্ক ঠেকাতে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর না করে পশুচিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়েছে ভুটান।
দেশটিতে সন্দেহজনক জলাতঙ্কের ঘটনা ঘটলে মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা একসঙ্গে তদন্ত করেন। একই সঙ্গে চালানো হয়েছে ব্যাপক কুকুর টিকাদান, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। ‘গার্ডিয়ানস অব পিস’ নামে পরিচিত দে-সুং স্বেচ্ছাসেবকেরাও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ফলও মিলেছে। ২০২৩ সালের জুন থেকে ভুটানে কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্কে কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। এই সাফল্য যাচাই করতে ডব্লিউএইচওর একটি দল গত আগস্টে ভুটান সফর করেন। তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরীক্ষাগার, তথ্যব্যবস্থা ও সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।
তবে এখানেই থামতে চায় না ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটির ২০টি জেলায় বিনা মূল্যে জলাতঙ্কের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা চালু থাকবে। কুকুরকে টিকা দেওয়া, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ছড়ানো রোগের ওপর নজরদারিও চলবে। ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কে মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য। ভুটানে এটি নির্মূলের মাধ্যমে এই লক্ষ্যে বিশ্ব একধাপ এগিয়ে গেল।