পড়াশোনার সেরা সময় সকাল, বিকাল না রাত

পরীক্ষা থাকুক বা না থাকুক, সবচেয়ে ভালো অভ্যাস হলো সারা বছর অল্প অল্প করে পড়াশোনা করা। স্কুলে যাদের আমরা ভালো ছাত্র ভাবি, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই রুটিন বানিয়ে পড়াশোনা করে। সাধারণত নিজের ব্যস্ত সময় কখন, কখন নিজের মতো করে পড়া সম্ভব, সেটা মাথায় রেখে সবাই রুটিন তৈরি করে। রুটিন তৈরি করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন, ঠিক কখন পড়লে সবচেয়ে ভালো পড়া মনে থাকবে?

কেউ কেউ ভোরের শান্ত পরিবেশে খুব ভালো পড়তে পারে। আবার কারও মনোযোগ বা পড়ার প্রতি একাগ্রতা বাড়ে বিকালে বা সন্ধ্যার দিকে। নিজের এই কাজের ধরনটি জানা থাকলে পড়াশোনায় অনেক সুবিধা হয়। পড়া দ্রুত মুখস্থ হয়। পড়াশোনার মানসিক চাপও কমে।

যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে সচল থাকা অবস্থায় পড়াশোনা করে, তখন তারা পড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায়। অল্প সময়ে বেশি শিখতে পারে। আসলে পড়াশোনার উপযুক্ত সময়ের জন্য কোনো গৎবাঁধা নিয়ম নেই। সবচেয়ে ভালো সময় সেটিই, যখন শিক্ষার্থীর মন পুরোপুরি সজাগ থাকে। যখন কোনো কিছুই মনোযোগ নষ্ট করতে পারে না।

আরও পড়ুন
এই সময়ের তালিকাটি সবার জন্য এক না–ও হতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় একেকজনের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি একেকভাবে কাজ করে।

পড়াশোনার সময় একেকজন শিক্ষার্থীর কাছে একেক রকম হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা পড়ার কিছু সময় সাজিয়েছেন। ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সময়টি গভীর মনোযোগের জন্য আদর্শ। কারণ, তখন চারপাশ থাকে একদম শান্ত। আবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকে বলে কঠিন অঙ্ক বা জটিল বিষয় বোঝার জন্য এই সময়টি বেছে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়টি পড়া মনে রাখা কিংবা ছবি আঁকা ও লেখালেখির মতো সৃজনশীল কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

তবে একটি জরুরি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে। এই সময়ের তালিকাটি সবার জন্য এক না–ও হতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় একেকজনের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি একেকভাবে কাজ করে। তাই বয়স, ঘুমের অভ্যাস ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে পড়ার সেরা সময়টি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতেই পারে। সবচেয়ে বড় কথা অন্যকে অনুসরণ না করে নিজের শরীর ও মনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়ার সময়টি বেছে নেওয়া।

তাহলে পড়াশোনার সেরা সময় কোনটি? সকাল, বিকাল নাকি রাত? পড়াশোনার জন্য আসলে নির্দিষ্ট কোনো সেরা সময় নেই। সবচেয়ে ভালো উপায় নিজের পড়ার ধরন বুঝে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করে দেখা। এরপর যে সময়টি নিজের জন্য সবচেয়ে কার্যকর মনে হয়, সেটি দিয়েই একটি রুটিন বানিয়ে ফেলা। তবে সকাল, বিকাল ও রাতে পড়ার কিছু সুবিধা আছে।

আরও পড়ুন
গবেষণায় দেখা গেছে, বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি অনেকের জন্য বেশ কার্যকর। এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের যুক্তি বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

অনেকের জন্য সকালটাই হলো পড়ার সেরা সময়। দীর্ঘ ঘুমের পর মস্তিষ্ক তখন একদম সতেজ থাকে। সকালে পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মানসিক স্বচ্ছতা, এতে নতুন কোনো কঠিন ধারণা খুব দ্রুত বোঝা যায়। এ ছাড়া ভোরের দিকে চারপাশ শান্ত থাকে ও ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ার বিরক্তিকর নোটিফিকেশনও কম থাকে, যা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি অনেকের জন্য বেশ কার্যকর। এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের যুক্তি বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই গণিত বা বিজ্ঞানের মতো জটিল বিষয়গুলো এই সময়ে পড়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিকেলে মস্তিষ্ক বেশ সজাগ ও সক্রিয় থাকে বলে পড়াশোনার ফলাফলও ভালো হয়। এ ছাড়া সকালে যা যা পড়া হয়েছে, সেগুলো বিকেলে একবার ঝালিয়ে বা রিভিশন দিয়ে নিলে স্মৃতিশক্তি আরও শক্তিশালী হয়।

রাতের পড়ার ধরন অনেকটা বিকেলের মতো হলেও এখানে নিস্তব্ধতা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে বেশি সৃজনশীল থাকে, তাই নতুন কোনো চিন্তা বা পরিকল্পনার জন্য রাতের শান্ত পরিবেশ বেশ সহায়ক। এ ছাড়া রাতে পড়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে মস্তিষ্ক সেই তথ্যগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে জমা করতে পারে, যা পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে।

দিন শেষে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা সেরা সময় নেই। তোমার জন্য সেরা সময় সেটিই, যখন তুমি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। নিজের অভ্যাস বুঝে সঠিক কৌশল আর নিয়মিত চর্চা করলে যেকোনো শিক্ষার্থীই পড়াশোনায় ভালো করতে পারবে।

সূত্র: অক্সফোর্ড লার্নিং, কিলোস্কুল এডু

আরও পড়ুন