সাইবার সচেতনতা কর্মশালা
প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধও। কিশোর আলোর পাঠক ও তাদের অভিভাবকদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন একজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) ডিভিশন) মো. তরিকুল ইসলাম।
তিনি সাইবার অপরাধের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে সবাইকে ধারণা দেন এবং অনলাইনে নিরাপদ থাকার নানা উপায় তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি জানান, কোনো ধরনের সাইবার সমস্যার মুখোমুখি হলে পুলিশের সাইবার ইউনিট সব সময় নাগরিকদের সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, সরকারি কোনো সংস্থা কখনোই ফোন করে আপনার ব্যাংক হিসাব, বিকাশের পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চাইবে না। তাই এ ধরনের ফোন পেলে কখনোই নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো সাইবার অপরাধের শিকার হলে এখন আর শুধু থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে না। সাধারণ নাগরিকদের জন্য আমাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেখানে ইনবক্সে সমস্যার কথা জানালে আমরা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের জন্য ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ নামে আমাদের একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। এই পেজের ইনবক্সে নারীরা নিরাপদে ও গোপনীয়ভাবে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। আমরা সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ সহায়তা করার চেষ্টা করি।
সাইবার সচেতনতা নিয়ে এই কর্মশালায় উপস্থিত পাঠক ও অভিভাবকেরা অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন এবং নিজেদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সুযোগ পান। এরপর মঞ্চে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে শিশু–কিশোরদের সচেতনতামূলক অধিবেশনে অংশ নেন তিনি। তিনি বলেন, ‘চোখ–কান খোলা রেখে অনলাইন দুনিয়ায় চলতে হবে। যেভাবে আমরা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করি। অচেনা নম্বর থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা যাবে না। প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ বা ফাইল ডাউনলোড করায় সতর্ক থাকতে হবে।’