যেসব প্রাণী কল্পনায় আছে, বাস্তবে নেই
পৃথিবীর আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে বিচিত্র সব প্রাণী। তবে এর বাইরেও এমন কিছু প্রাণী আছে, যাদের কথা শুনলে বাস্তব মনে হলেও আসলে তারা কেবলই মানুষের কল্পনা। দাদি-নানিদের মুখে এসব প্রাণীর গল্প শোনা যেত। এখন তাদের দেখা মেলে রূপকথার বই কিংবা বড় পর্দার চলচ্চিত্রে। লোককথা আর কল্পনায় এই প্রাণীদের উপস্থিতি এতটাই জোরালো যে মাঝেমধ্যে মনে হয়, এগুলো বুঝি সত্যিই এই পৃথিবীতে বিচরণ করত। আজ এমন কিছু কাল্পনিক প্রাণীর কথা বলব।
ইউনিকর্ন
ঘোড়ার কপালে ঠিক মাঝখানে যদি একটি শিং থাকত, তবে কেমন হতো? এমন প্রাণীর নামই ইউনিকর্ন। বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে বিশ্বের অনেক প্রাচীন সভ্যতায় ইউনিকর্নের কথা পাওয়া যায়। প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় প্রথম এক শিংওয়ালা প্রাণী প্রতিকৃতি দেখা যায়। প্রাচীন পারস্য বা ইরানি শিল্পকলায়ও এমন শিংওয়ালা প্রাণীর দেখা মেলে। তবে সিন্ধু ও পারস্য সভ্যতার এই প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা গরু বা ষাঁড়ের মতো ছিল। বর্তমানে আমরা যে ঘোড়ার মতো ইউনিকর্নের কথা জানি, সেটি মূলত ইউরোপীয় রূপকথার সৃষ্টি। লাতিন শব্দ ‘Unicorn’–এর অর্থ হলো ‘এক শিংওয়ালা প্রাণী’।
ফিনিক্স
ফিনিক্স এক রহস্যময় পাখি, যা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে ভস্মীভূত করে ফেলে। কিন্তু কেন? লোককথা অনুযায়ী, সেই ভস্ম বা ছাই থেকেই ফিনিক্সের পুনর্জন্ম হয়। বাস্তবে এমন কোনো পাখির অস্তিত্ব নেই। যদিও অনেক পাখি দুর্ঘটনাবশত আগুনে মারা যায়, কিন্তু তাদের পুনর্জন্ম হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। প্রাচীন মিসরীয় ও গ্রিক পুরাণে ফিনিক্সের বর্ণনা পাওয়া যায়। অনেক গ্রিক ঐতিহাসিক এই পাখি দেখার দাবি করলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা, তাঁরা সম্ভবত রঙিন অন্য কোনো পাখি দেখে ভুল করেছিলেন। রূপকথায় ফিনিক্সের বুক আগুনের মতো লাল এবং এর ডানা উজ্জ্বল বর্ণের হয়ে থাকে।
গ্রিফিন
ইগলের ডানা আর সিংহের দেহ নিয়ে যদি কোনো প্রাণী থাকত, তবে সেটিই হতো গ্রিফিন। এটি যেমন প্রচণ্ড গতিতে উড়তে পারে, তেমনি সিংহের মতো থাবা দিয়ে শিকারকে মুহূর্তেই চিরে ফেলতে পারে। মিসরীয়, পারস্য ও গ্রিসের রূপকথায় গ্রিফিনকে রাজকীয় ও শক্তিশালী এক প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়।
রাক্ষস ও খোক্কস
আমাদের বাংলার লোককথায় রাক্ষস এক চিরচেনা ভীতি। তারা দীর্ঘদেহী, স্থূলকায় এবং তাদের দাঁতগুলো মুলার মতো বড়। জ্বলজ্বলে চোখের রাক্ষসেরা মূলত নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে পরিচিত। গল্পে শোনা যায়, তারা মানুষ ও গবাদিপশু সাবাড় করে দেয়। তবে রূপকথার এসব রাক্ষস আবার ভয় পায় তাদের চেয়েও ভয়ংকর ‘খোক্কস’কে। খোক্কস সাধারণত আরও স্থূলকায় এবং তাদের কানগুলো হয় হাতির মতো বড়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এদের গায়ে কাঁটাও থাকে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোকগাথায় এমন আরও অনেক কাল্পনিক প্রাণী রয়েছে। কোনোটা মানুষের বন্ধু, কোনোটা আবার ভীষণ ভয়ংকর। তোমার জানা এমন কোনো কাল্পনিক প্রাণীর গল্প আছে কি?