মজার ইশকুলে কিশোর আলো

মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর রোববার ছিল কিশোর আলোর বিশেষ আয়োজনছবি: আব্দুল ইলা

ঢাকার মানিকনগরে অবস্থিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল ‘মজার ইশকুল’। অন্যান্য স্কুলের চেয়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলাদা। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা লেখাপড়া করে এই স্কুলে। মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর রোববার ছিল কিশোর আলোর বিশেষ আয়োজন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ছিল আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক
ছবি: আব্দুল ইলা

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক, নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত এবং প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান পিয়াস ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিটাল বিজনেস) ও লেখক খায়রুল বাবুই। শুরুতেই মজার ইশকুলের নির্বাহী পরিচালক আরিয়ান আরিফ অতিথিদের স্বাগত জানান।

শিশু-কিশোরদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এ বি এম জাবেদ সুলতান পিয়াস।
ছবি: আব্দুল ইলা

মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় অতিথিদের। ছোট্ট ছিমছাম এই স্কুলে আছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাবসহ নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম। অতিথিদের নিজেদের ক্লাবগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন
বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ছিল আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
ছবি: আব্দুল ইলা

এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হককে বই, লেখালেখিসহ, নানা বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন করে মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ২০ মিনিটের এই পর্ব শেষে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দলীয় নৃত্যে ‘আমি বাংলায় গান গাই’, গান, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও একক নৃত্য পরিবেশন করে তারা। ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’ গান, ‘বড় কে?’ কবিতা এবং ‘আমরাও স্বপ্ন দেখি’ নাটক পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

কিশোর আলো হাতে মজার স্কুলের শিক্ষার্থীরা
ছবি: আব্দুল ইলা

এরপর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন খায়রুল বাবুই। মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীদের গান-কবিতা-নাটক দেখে মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। কিশোর আলো বার্ষিক আয়োজন কিআ কার্নিভ্যালে মজার ইশকুলকে সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন খায়রুল বাবুই
ছবি: আব্দুল ইলা

মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কিশোর আলো পড়ে। গল্প, চিঠিপত্র, খেলা ও বিভিন্ন আয়োজনের সঙ্গে তাদের পরিচয় আছে। তাই নিজেদের স্কুলে কিশোর আলো টিমকে পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কিআ বুক ক্লাবের পক্ষ থেকে মজার ইশকুলের লাইব্রেরিতে বই দেওয়ার কথা জানান কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত। ‘সব সময় কি ফার্স্ট হওয়া জরুরি?’ এক শিক্ষার্থীর এই প্রশ্নের জবাবে আদনান মুকিত বলেন, ‘সব সময় ফার্স্ট হওয়া জরুরি নয়, কিন্তু পড়াশোনা ঠিকভাবে চালিয়ে যাওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজের চর্চাটাও চালিয়ে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন
কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে আমরা অনেক সময় হতাশার কথা বলি। কিন্তু মজার ইশকুলে এসে তোমাদের দেখার পর আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই।'
ছবি: আব্দুল ইলা

শিশু-কিশোরদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এ বি এম জাবেদ সুলতান পিয়াস। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের যুগে এখন সত্যি সত্যি পৃথিবী তোমাদের হাতের মুঠোয়। শুধু ঠিকমতো সেটা ব্যবহার করতে হবে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া দেখলেই হবে না, প্রচুর সুযোগ আছে, সেগুলো কাজে লাগালে তুমি যা হতে চাও, তা-ই হতে পারবে।’

মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কিশোর আলো পড়ে
ছবি: আদনান মুকিত

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোর আলো সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে আমরা অনেক সময় হতাশার কথা বলি। কিন্তু মজার ইশকুলে এসে তোমাদের দেখার পর আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই। তোমরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। কেউ তোমাদের দমাতে পারবে না।’

এ আয়োজনে মজার ইশকুলের সব শিক্ষার্থীকে আইসক্রিম দিয়েছে সেভয় আইসক্রিম।

আরও পড়ুন
মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা
ছবি: আব্দুল ইলা

২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি মজার ইশকুল যাত্রা শুরু করে। অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। শাহবাগে খোলা আকাশের নিচে ‘আকাশের নিচে মজার ইশকুল’ মডেলে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন বিভিন্ন শাখা ও কার্যক্রম কেন্দ্রে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বছর প্রথমবারের মতো মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ছবিতে অতিথিদের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
ছবি: আব্দুল ইলা

এ বছর প্রথমবারের মতো মজার ইশকুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আগারগাঁও ও মানিকনগর শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জনের মধ্যে ৯২ শতাংশ পাস করেছে। মানিকনগর শাখা থেকে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১ জন।

সারা দেশে মজার ইশকুলের ২৩টি শাখা ও কার্যক্রম কেন্দ্রে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি শিশু যুক্ত আছে। মানিকনগর শাখায় ২০১৭ সাল থেকে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এই উদ্যোগের সহযোগিতায় রয়েছে ইউনাইটেড ট্রাস্ট। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের খাবার ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিষয়টিও মজার ইশকুলের কার্যক্রমের অংশ।

আরও পড়ুন