বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ৭ পরিবার
আমরা হয়তো ভাবি, বিশ্ব চালান বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রনেতারা। কিন্তু একটু গভীরে গেলে এমন কিছু পরিবারের নাম উঠে আসে, যাদের সম্পদের পাহাড় ও প্রভাব এত বিশাল যে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি থেকে রাজনীতি—সবকিছুতেই তাদের অদৃশ্য সুতা টানা থাকে। অনেকেই মনে করেন, এই পরিবারগুলোই মূলত পর্দার আড়ালে থেকে পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে!
চলো, ইতিহাসের পাতা থেকে সেই সাতটি রহস্যময় ও ক্ষমতাধর পরিবার সম্পর্কে একটু জেনে নিই।
১. রথসচাইল্ড পরিবার
ব্যাংকিং সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি বলা হয় এদের। আঠারো শতকে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে মেয়ার আমশেল রথসচাইল্ডের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পরিবারের ব্যবসা লন্ডন, প্যারিস, ভিয়েনাসহ পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল। শুনলে অবাক হবে, একটা সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার, এমনকি বড় বড় যুদ্ধেও তারা অর্থায়ন করত! এদের মোট সম্পদের পরিমাণ আসলে কত, তার কোনো সঠিক হিসাব আজ পর্যন্ত কেউ বের করতে পারেনি।
২. ওয়ালটন পরিবার
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিটেইল চেইন ওয়ালমার্টের মালিক এই পরিবার। ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক এই একটি মাত্র পরিবার বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে! ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে শুরু হওয়া এই সাম্রাজ্য আজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী পরিবারের তকমা ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনেও এদের প্রভাব অবিশ্বাস্য।
৩. কোচ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এদের প্রভাব কতটা, সেটা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী পরিবারটি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের আইনকানুন নিজেদের পক্ষে রাখতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে। চার্লস ও ডেভিড কোচের এই সাম্রাজ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে অর্থায়নের মাধ্যমে মার্কিন নীতি নির্ধারণে বিশাল ভূমিকা রাখে।
৪. আল সৌদ পরিবার
সৌদি আরবের শাসক রাজপরিবার এটি। ১৯৩২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই পরিবারের হাতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত। নাম সৌদি আরামকো। চলতি বিশ্বকাপে হয়তো আরামকোর অ্যাড অনেকবার দেখেছ টিভিতে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ঠিক কতটুকু তেল সরবরাহ হবে এবং তেলের দাম কেমন থাকবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে এই রাজপরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর। এদের মোট সম্পদ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হয়!
৫. রকফেলার পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার জন ডি রকফেলারের এই পরিবার একসময় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো তেল শিল্পের ৯০ শতাংশ একাই নিয়ন্ত্রণ করত! স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে তারা একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করেছিল। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি সিক্রেট সোসাইটি বিল্ডারবার্গ গ্রুপ প্রতিষ্ঠায়ও তাদের বড় হাত ছিল বলে জানা যায়। বিল্ডারবার্গ গ্রুপে প্রতিবছর বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গোপনে মিটিং করেন।
৬. মরগান পরিবার
একজন মানুষের আর্থিক ক্ষমতা যে একটা পুরো দেশের চেয়েও বেশি হতে পারে, জে পি মরগান তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ১৮৯৫ ও ১৯০৭ সালের চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময় জে পি মরগান নিজের পকেটের টাকায় খোদ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন! আধুনিক করপোরেট ফাইন্যান্সের রূপকার বলা হয় এই পরিবারকে। জেনারেল ইলেকট্রিক বা ইউএস স্টিলের মতো দানবীয় প্রতিষ্ঠান তৈরিতেও তাদের হাত ছিল।
৭. ডু পন্ট পরিবার
১৮০২ সালে বারুদ তৈরির কারখানা দিয়ে যাত্রা শুরু করা পরিবারটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্বের মোট ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ৪০ শতাংশ একাই উৎপাদন করেছিল! এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যানহাটান প্রজেক্ট বা পারমাণবিক বোমা তৈরির মিশনেও তাদের বড় অবদান ছিল। আধুনিক বিশ্বে নাইলন, টেফলন থেকে শুরু করে নানা যুগান্তকারী রাসায়নিক আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে ডু পন্ট সাম্রাজ্য।
অর্থ ও ক্ষমতার এই অদ্ভুত মেলবন্ধন সত্যিই অবাক করার মতো! কিন্তু তোমার কী মনে হয়, আসলেই কি অর্থ দিয়ে পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?