শিশুদের মধ্যে যে ৭ সাধারণ দক্ষতার ঘাটতি দেখছেন শিক্ষকেরা
এখন শিশুদের মধ্যে জীবনধারণের কিছু অতি সাধারণ মৌলিক দক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। কাঁটাঘড়ি দেখে সময় বলা, ছাপানো মানচিত্র দেখে পথ চেনা বা সাধারণ রান্নাবান্নার মতো কাজগুলো আজকালকার অনেক শিশুই পারছে না। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুল বা অভিভাবকেরা শেখাচ্ছেন না তা নয়; বরং সময়ের প্রয়োজনে শিক্ষার অগ্রাধিকার বদলে গেছে। কোডিং বা রোবোটিকসের মতো ডিজিটাল দক্ষতা শিখতে গিয়ে ও সার্বক্ষণিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে আগের প্রজন্মের অনেক সহজ অভ্যাসই আজকের শিশুদের জীবনে অপ্রয়োজনীয় হয়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
১. সরাসরি কথা বলা
দীর্ঘদিন ঘরে থাকা এবং সারা দিন স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুর মধ্যে সরাসরি কথা বলার আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। তারা ফোনে বা সামনাসামনি কথা বলার চেয়ে টেক্সট পাঠাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিশলে ও নানা ভুলত্রুটি সামলে নিয়েই শিশুরা সামাজিক মেলামেশার আসল দক্ষতাগুলো শেখে, যা এখন স্ক্রিনের কারণে বাধা পাচ্ছে।
২. মানচিত্র ও কাঁটাঘড়ি ব্যবহার করা
স্মার্টফোনে জিপিএস আর ডিজিটাল ঘড়ির সুবিধা থাকায় সাধারণ মানচিত্র বা কাঁটাঘড়ি দেখার দরকার এখন আর পড়ে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাঁটাঘড়ি দেখে সময় বলা শেখানো হলেও প্রতিদিন ব্যবহার না থাকায় শিশুরা তা ভুলে যায়। একইভাবে ম্যাপের বিভিন্ন অ্যাপ সহজে রাস্তা দেখিয়ে দেয় বলে কাগজের মানচিত্র চেনার প্রয়োজন হয় না। তবে কোনো কারণে এই প্রযুক্তিগুলো কাজ না করলে তরুণ প্রজন্ম বিপদে পড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষকেরা।
৩. কারসিভ বা প্যাঁচানো হাতের লেখা
ফোন ও কম্পিউটারে টাইপ করার অভ্যাস বেড়ে যাওয়ায় এখন আর প্যাঁচানো হরফে হাতে লেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায় না। স্কুলে অ্যাসাইনমেন্টও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়া হয়, তাই শিক্ষার্থীরা হাতে লেখার চেয়ে টাইপ করতেই বেশি অভ্যস্ত। তবে এই লেখার গুরুত্ব বুঝে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জায়গায় এটি আবারও স্কুলে শেখানো শুরু হয়েছে।
৪. চিঠি পাঠানো ও সঠিক ঠিকানা লেখা
স্মার্টফোন ও ই–মেইলের যুগে দ্রুত মেসেজ পাঠানো সহজ হওয়ায় চিঠি পাঠানোর কোনো দরকার পড়ে না। ফলে অনেক শিশুও খামের কোথায় স্ট্যাম্প লাগাতে হয় বা কীভাবে চিঠি পাঠাতে হয়, তা জানে না। অথচ ধীরেসুস্থে চিঠি লিখলে চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা ও সচেতনতা বাড়ে।
৫. বানান ও ব্যাকরণের দক্ষতা
মোবাইলে মেসেজ পাঠানো ও ছোটখাটো ভুল লিখে যোগাযোগের অভ্যাসের কারণে শিশুরা সঠিক নিয়ম ভুলে যাচ্ছে। এতে ব্যাকরণ ও যতিচিহ্নের অপব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি ফোনের স্বয়ংক্রিয় বানান সংশোধন প্রযুক্তি বা অটো স্পেলের কারণে কষ্ট করে সঠিক বানান শেখার আগ্রহও তাদের কমে গেছে।
৬. চেক বই ও টাকার বাস্তব ধারণা
ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন পেমেন্টের যুগে কাগজ-কলমে ব্যাংক চেক লেখা বা নগদ অর্থের ব্যবহারের সুযোগ কমে গেছে। এতে শিশুদের কাছে টাকা কেবল স্ক্রিনের কিছু অদৃশ্য সংখ্যা মনে হতে পারে। বাস্তব মূল্যের অনুভূতির ঘাটতি থেকে যায়। ছোটবেলা থেকেই কেনাকাটার খেলা কিংবা সঞ্চয়ী হিসাবের মাধ্যমে তাদের আর্থিক দায়িত্ববোধ শেখানো জরুরি।
৭. মনোযোগ বা ফোকাস ধরে রাখার ক্ষমতা
দীর্ঘ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে দ্রুতগতির ভিডিও দেখার ফলে শিশুদের মস্তিষ্ক স্থির থাকতে পারে না। এতে তাদের মনোযোগের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ছোটদের স্বাধীনভাবে নিজেদের মতো খেলতে দিলে কোনো বাঁধাধরা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা মনোযোগ দেওয়া এবং নানা সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় খুঁজে বের করতে শেখে।