পড়া মনে থাকে না, ফেসবুকের মিম মনে থাকে কীভাবে

মিডজার্নি

তুমি কি মনে করতে পারো, গতকাল রাতে ঠিক কী দিয়ে ডিনার করেছিলে? কিংবা গত পরশু দুপুরে কোন বন্ধুর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল? যদি মনে না পড়ে, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই! এটা তোমার মস্তিষ্কের কোনো ত্রুটি নয়; বরং এটি একটি দারুণ ক্ষমতা। আমাদের মস্তিষ্ক প্রতি রাতে একটি বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়, যার নাম ‘সিন্যাপটিক প্রুনিং’।

তোমার মস্তিষ্ক যখন মালি

আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা বাগানের মতো। বাগানে যেমন অপ্রয়োজনীয় আগাছা ছেঁটে ফেললে গাছগুলো দ্রুত বাড়ে, মস্তিষ্কও তেমনি কম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলো মুছে ফেলে নতুন তথ্যের জন্য জায়গা তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো—মস্তিষ্ক মিম কেন মনে রাখে? কারণ, মজার ভিডিও বা মিম আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ করে, যা মস্তিষ্ককে আনন্দ দেয়। ফলে মস্তিষ্ক সেগুলোকে ‘জরুরি’ মনে করে সেভ করে রাখে। অন্যদিকে পড়ার বইয়ের জটিল তথ্যগুলো মস্তিষ্কের কাছে ‘একঘেয়ে’ মনে হয়। তাই ঘুমের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানোর সময় মস্তিষ্ক ওই পড়ার তথ্যগুলোকে ‘আগাছা’ মনে করে ঝেড়ে ফেলে দেয়, কিন্তু মিমগুলোকে যত্ন করে রেখে দেয়!

আরও পড়ুন

কিশোরদের কি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেশি

কৈশোরে মস্তিষ্ক খুব দ্রুত বিকশিত হয়। এ সময় তোমার মগজে দিনে প্রায় ১০ হাজার নিউরন সংযোগ পরিবর্তিত হয়। স্ট্যাটিস্টার মতে, একজন কিশোর দিনে গড়ে ৩০০টির বেশি তথ্য গ্রহণ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম আর রিলস দেখতে দেখতে মস্তিষ্কে তথ্যের পাহাড় জমে যায়। ফলে পড়াশোনা বা হোমওয়ার্কের মতো জরুরি বিষয়গুলো মস্তিষ্ক অনেক সময় ‘অপ্রয়োজনীয়’ ভেবে ভুলবশত মুছে ফেলে।

স্ক্রিনটাইম বনাম স্মৃতি

বাংলাদেশে কিশোরদের একটা বড় অংশ প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টা ফোনে ব্যস্ত থাকে। ফোনের এই অতিরিক্ত তথ্যের চাপে অনেকের অন্য কিছু মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় ঠিকমতো না ঘুমানোর অভ্যাস। স্মৃতি স্থায়ী করার প্রধান সময় হলো ঘুম। কিশোরদের দিনে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার, অথচ বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ কিশোর ৬ ঘণ্টার কম ঘুমায়!

আরও পড়ুন

স্মার্টফোন যখন স্মৃতির শত্রু

রাতে ফোনের নীল আলো আমাদের ঘুমের হরমোন নষ্ট করে দেয়। ফলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো ‘ক্লিনিং’ বা প্রুনিং করতে পারে না। ফলাফল? পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পড়া মনে পড়ছে না, কিন্তু আগের রাতে দেখা মিমটি ঠিকই মাথায় ঘুরছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ভুলে যাওয়ার হার অনেক বেড়ে যায়।

মূল্যবান স্মৃতি বাঁচাবে কীভাবে

তোমার মূল্যবান স্মৃতিগুলো রক্ষা করার চাবিকাঠি তোমার হাতেই।

ফোন দূরে সরাও: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখো।

আট ঘণ্টার গভীর ঘুম: অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম তোমার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং পড়া মনে রাখতে সাহায্য করবে।

মনোযোগ দাও: তথ্য যত কম কিন্তু গভীর হবে, মস্তিষ্ক সেটাকে তত বেশি গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করবে।

মনে রেখো: অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি মুছে যাওয়া মানে তোমার মস্তিষ্ক আরও দক্ষ হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করার জন্য তোমার পর্যাপ্ত ঘুম আর পরিমিত ফোন ব্যবহার সবচেয়ে জরুরি। নিজের মস্তিষ্ককে একটু বিশ্রাম দাও, দেখবে পড়া আর মিম—দুটোই ঠিকভাবে মনে থাকবে!

সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা

আরও পড়ুন