অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান

নিখোঁজ বৈমানিক অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের খোঁজে আবারও শুরু হচ্ছে অভিযানছবি: সিএনএন

বিমান নিয়ে পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন অ্যামেলিয়া এয়ারহার্ট। ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই পৃথিবী প্রদক্ষিণের অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হন এই দুঃসাহসী মার্কিন বৈমানিক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাবিক ও দিকনির্ণয় বিশেষজ্ঞ ফ্রেড নুনান। প্রায় ৮৯ বছর পরও জানা যায়নি, তাঁদের বিমানটির শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল। এবার স্যাটেলাইটে দেখা একটি রহস্যময় বস্তুর সূত্র ধরে নতুন করে শুরু হচ্ছে অনুসন্ধান।

এয়ারহার্টের লক্ষ্য ছিল বিমান চালিয়ে পৃথিবী ঘুরে আসা প্রথম নারী হওয়া। তাঁর লকহিড ১০ই ইলেকট্রা বিমানটি এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল। বাকি ছিল প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার। ২ জুলাই নিউগিনির লে শহর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট হাউল্যান্ড দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টার উড়ান শেষে সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁর।

আরও পড়ুন
এই জিনিসগুলো এয়ারহার্টের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়
সিএনএন থেকে নেওয়া

কিন্তু যাত্রার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর হাউল্যান্ড দ্বীপের কাছে অপেক্ষমাণ মার্কিন কোস্টগার্ডের জাহাজ ইতাস্কায় তাঁর বিমানের বেতারবার্তা পৌঁছাতে থাকে। বার্তায় এয়ারহার্ট জানান, তাঁরা দ্বীপের কাছাকাছি আছেন বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু দ্বীপটি দেখতে পাচ্ছেন না। জ্বালানিও ফুরিয়ে আসছে। এর কিছুক্ষণ পর তিনি শেষবারের মতো বেতারবার্তা পাঠান। এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তাঁদের পরিণতি নিয়ে নানা মত রয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধারণা হলো, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে আরেকটি ধারণা অনুযায়ী, হাউল্যান্ড দ্বীপ থেকে প্রায় ৬৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণে নিকুমারোরো দ্বীপে বিমানটি অবতরণ করেছিল। সেখানে কিছুদিন বেঁচে থাকার পর খাবার ও পানির অভাবে এয়ারহার্ট ও নুনানের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

১৯৩৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিখোঁজ বিমানটির খোঁজে বড় ধরনের অভিযান চালায়। ১৬ দিনের ওই অভিযানে অংশ নেয় ৯টি জাহাজ, ৬৬টি বিমান ও প্রায় ৪ হাজার কর্মী। তবু কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তী কয়েক দশকেও বহু অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালে সমুদ্রের তলদেশে চালানো এক অনুসন্ধানে বিমানের মতো দেখতে একটি কাঠামো পাওয়া গিয়েছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি আসলে পাথরের গঠন।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক রিক পেটিগ্রিউয়ের নেতৃত্বে একটি দল নিকুমারোরো দ্বীপে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ২০২০ সালে স্যাটেলাইট চিত্রে প্রথম দেখা একটি অস্পষ্ট বস্তু পরীক্ষা করা। ‘তারাইয়া অবজেক্ট’ নামের বস্তুটি এয়ারহার্টের বিমানের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে এ বিষয়ে সবাই একমত নন। দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিতে অনুসন্ধান চালানো গবেষক রিক গিলেস্পির ধারণা, বস্তুটি আসলে পানিতে আংশিক ডুবে থাকা একটি গাছ।

অ্যামেলিয়া এয়ারহার্ট শুধু নিখোঁজ হওয়ার রহস্যের জন্যই বিখ্যাত নন। ১৯৩২ সালের মে মাসে তিনি এককভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী বৈমানিক হন। বিমান চালানোর জগতে নারীদের সুযোগ যখন খুবই সীমিত ছিল, তখন তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়েছিলেন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার রহস্যের সমাধান হলে সাহসী এই বৈমানিকের শেষ যাত্রা নিয়ে জানার সুযোগ তৈরি করবে।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন