এক বইয়ে চল্লিশটি গোয়েন্দা অভিযান

২০ বছর আগে এক গোয়েন্দা চরিত্র কিশোর পাঠকের হৃদয়ে ঢুকে পড়েছিল, যে আজ এক অনন্য মাইলফলকে দাঁড়িয়ে আছে। চরিত্রটির নাম ছোটকাকু। লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। ছোটকাকু সিরিজে এখন পর্যন্ত বেরিয়েছে ৪০টি কিশোর উপন্যাস—প্রতিবছর একটি–দুটি করে ধীরে ধীরে। এবার এই ৪০টি কিশোর উপন্যাসকে একসঙ্গে বেঁধে তৈরি হয়েছে একটি বিশালাকার বই—ছোটকাকু চল্লিশ। প্রকাশ করেছে ‘অন্যপ্রকাশ’।

ছোটকাকু একজন খাঁটি বাঙালি গোয়েন্দা। নির্ভীক, দেশপ্রেমিক, সততার পক্ষে আপসহীন। খুব জরুরি না হলে ইংরেজি বলেন না। ভয়ংকর বিপদের মধ্যেও শান্ত থাকেন। বই পড়তে ভালোবাসেন। লড়াই-ঝগড়ার চেয়ে বুদ্ধির মারপ্যাঁচে রহস্যের জট খুলতেই তাঁর আনন্দ। তাঁর সঙ্গে থাকে সীমান্ত ও অর্ষা। আর আছে মজার চরিত্র শরিফ সিঙ্গাপুরি।

ছোটকাকু চরিত্রের এই সংকলনের ভূমিকায় লেখক ফরিদুর রেজা সাগর লিখেছেন, ৪০টি বই হয়ে গেছে! বাংলাদেশের জেলা থেকে জেলায় ঘুরে ঘুরে ছোটকাকু রহস্যভেদ করেছে। কক্সবাজারের কাকাতুয়াঢাক বাজলো ঢাকায়খেলা হলো খুলনায়রাজশাহীর রসগোল্লাচুপি চুপি চট্টগ্রামে—নামের মধ্যেই আছে ছন্দ, আছে অনুপ্রাস, আছে ভ্রমণের টান। গল্প পড়তে পড়তেই কিশোর পাঠক জেনে নেয় বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভূগোল আর মানুষের গল্প।

আরও পড়ুন

ছোটকাকুর জনপ্রিয়তা শুধু বইয়ের পাতায় থেমে থাকেনি। খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন ছোটকাকু রহস্য সিরিজ নির্মাণ করেছেন টেলিভিশনের জন্য। অভিনয় করেছেন ছোটকাকু চরিত্রে। প্রতি ঈদে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত সেই সিরিজ ছোটকাকুকে পৌঁছে দিয়েছে ঘরে ঘরে। অনেক পাঠকের মনে ছোটকাকুর মুখ মানেই আফজাল হোসেন।

বাংলা সাহিত্যে আমরা বহু গোয়েন্দা চরিত্র পেয়েছি। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু, কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা কিংবা কুয়াশা। তাদের থেকে ছোটকাকু একটু আলাদা—পুরোপুরি আমাদের মাটি থেকে উঠে আসা চরিত্র। বাংলাদেশের জেলা-শহর-গ্রামই তাঁর অভিযানের ক্ষেত্র। দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সত্যের প্রতি টান, ছোটকাকুর মধ্য দিয়ে এসব বিষয় কিশোরদের মনে গেঁথে দিতে চেয়েছেন লেখক।

ছোটকাকু চল্লিশ বইটা বিশাল। বড় এ সংকলনের পেছনে আছে বড় আয়োজন। বছরের পর বছর ধরে ছোটকাকুর বই প্রকাশ করেছেন অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক। সংকলন আকারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। এবার ৪০টি উপন্যাস একসঙ্গে প্রকাশের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে এই প্রকাশনী। প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বইয়ের শুরুতে তাঁর নিবেদনে লিখেছেন, কিশোর বয়স থেকে রহস্য-রোমাঞ্চের পাঠক তিনি নিজেই। ছোটকাকুর ভেতর তিনি খুঁজে পেয়েছেন সেই টান, যা একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে থাকা যায় না।

আরও পড়ুন

এই সংকলনের বিশেষত্ব হলো, এতে ছোটকাকুর বিচিত্র সব রহস্য নিয়ে লেখা হয়েছে। জাদুঘরের জাদুকর থেকে পঞ্চগড়ে পিয়ানো রহস্যবাঘের পিঠে বরিশাল থেকে অভিযান বান্দরবান—পুরো বাংলাদেশের মানচিত্র যেন গল্পের ভেতর চলে এসেছে। আছে ছোটকাকুর বড় বিপদরহস্যে ছোটকাকু নেই এমন চমক আছে।

প্রচ্ছদ এঁকেছেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত, প্রুফ দেখা, নকশা করা—সব মিলিয়ে এটিকে তুমি বিশাল প্রকাশনা হিসেবে দেখতে পারো। তুমি যদি একসঙ্গে ৪০টি রহস্য সমাধানের জন্য বেরিয়ে পড়তে চাও, যদি বাংলাদেশের জেলা থেকে জেলায় ঘুরে দেখতে চাও, তবে ছোটকাকু চল্লিশ তোমাদের জন্য এক বিশেষ উপহার।

বইটা বাসায় সাজিয়ে রাখার জন্যও দারুণ। সুন্দর প্রচ্ছদ, বিশাল আকৃতি, সাড়ে তিন কেজি ওজন—সব মিলে বইটি অনন্য। তোমার বাসায় কি আর কোনো সাড়ে তিন কেজি ওজনের বই আছে? না থাকলে সংগ্রহ করতে পারো ছোটকাকু চল্লিশ। দাম একটু বেশিই—তিন হাজার টাকা। ৪০টি বইয়ের সংকলন, দাম তো একটু বেশি হবেই। বইমেলা ও অনলাইন থেকে তুমি বইটি সংগ্রহ করতে পারো। বইমেলায় অন্যপ্রকাশের স্টল নম্বর ৭৩২-৭৩৬, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে তুমি সংকলনটি পাবে।

আরও পড়ুন