মানুষের আঙুলের ছাপ কি কখনো বদলায়

ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

দিনে কতবার স্মার্টফোনের লক খোলার জন্য আঙুলের ছাপ ব্যবহার করো? নিশ্চয়ই গুনে শেষ করা যাবে না! শুধু ফোন নয়, পাসপোর্ট, ব্যাংক বা অফিসের নিরাপত্তায় এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত চাবিকাঠি। কারণ, আমরা সবাই জানি যে পৃথিবীর কোনো দুজন মানুষের আঙুলের ছাপ এক নয়। কিন্তু কখনো কি তোমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, আমাদের এই জাদুকরি পাসওয়ার্ডটি কি সারা জীবন একই রকম থাকে? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা কোনো আঘাত পেলে আঙুলের ছাপ কি বদলে যেতে পারে?

মজার ব্যাপার হলো, তুমি পৃথিবীতে আসার আগেই তোমার আঙুলের ছাপের নকশা চূড়ান্ত হয়ে গেছে! মাতৃগর্ভে থাকার সময়, তোমার জন্মের ঠিক তিন মাস আগেই আঙুলের ডগায় থাকা এই লুপ ও ঘূর্ণির নকশা একেবারে স্থায়ীভাবে তৈরি হয়ে যায়। প্রকৃতির এই অদ্ভুত সিলমোহর একবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর, তা আর প্রাকৃতিকভাবে বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।

এখন তুমি হয়তো ভাবতে পারো, যদি আঙুল কেটে যায় বা পুড়ে যায়, তখন কী হবে? হ্যাঁ, দুর্ঘটনা বা কাজের কারণে আঙুলের ছাপে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তুমি যদি এমন কোনো কাজ করো যেখানে আঙুলের ডগায় খুব বেশি ঘষা লাগে, কিংবা কখনো ভুল করে অ্যাসিড জাতীয় কোনো রাসায়নিক পদার্থ লেগে যায়, তবে আঙুলের ছাপ সাময়িকভাবে মুছে যেতে পারে। এ ছাড়া কিছু বিশেষ চর্মরোগ বা ত্বকের সমস্যার কারণেও আঙুলের ছাপ অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই! কারণ, আমাদের ত্বক খুব দ্রুত নিজেকে মেরামত করতে পারে। এ ধরনের সাময়িক ক্ষতির পর সাধারণত এক মাসের মধ্যেই আঙুলের ডগায় সেই পুরোনো নকশাটি হুবহু আগের মতো করেই আবার ফিরে আসবে। তবে আঙুল যদি খুব গভীরভাবে কেটে যায় এবং সেখানে বড় কোনো স্থায়ী দাগ বা ক্ষত তৈরি হয়, তবে সেই ক্ষতের জায়গায় ছাপের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু তোমার আঙুলের মূল নকশাটি কখনোই বদলাবে না।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের অনেক কিছুই বদলায়। চামড়ায় ভাঁজ পড়ে, চুল পেকে যায়। তাহলে আঙুলের ছাপের কী হয়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ যখন বৃদ্ধ হতে থাকে, তখন আঙুলের ডগার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমতে থাকে। মানে ত্বক আগের মতো টানটান থাকে না। সেই সঙ্গে আঙুলের ছাপের সেই সূক্ষ্ম রেখা কিছুটা মোটা ও পুরু হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

এই পরিবর্তনের কারণে বয়স্ক মানুষদের আঙুলের ছাপ স্ক্যানার মেশিনে বা কালির মাধ্যমে কাগজে নিতে বেশ সমস্যা হয়। অনেক সময় স্ক্যানার ঠিকমতো ছাপ পড়তে পারে না। কিন্তু এর মানে মোটেও এই নয় যে তাঁদের আঙুলের ছাপের মূল নকশাটি বদলে গেছে। নকশা ঠিকই থাকে, শুধু চামড়ার পরিবর্তনের কারণে সেটি আগের মতো স্পষ্ট থাকে না।

সুতরাং, আঙুলের ছাপ হলো প্রকৃতির দেওয়া এমন এক স্থায়ী পরিচয়পত্র, যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তোমার সঙ্গেই থাকে। এটি তোমার এমন এক অদ্বিতীয় পাসওয়ার্ড, যা কেউ চুরি করতে পারবে না; তুমি নিজেও কখনো ভুলে যাবে না!

সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ
আরও পড়ুন