ভারতের বনে পাঁচটি ওরাংওটাং ছানা এল কীভাবে?
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যের একটি বনে সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া গেছে পাঁচটি ওরাংওটাং ছানা। ছানাগুলোর বয়স ১৮ মাসেরও কম। এদের প্রাকৃতিক আবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের বনাঞ্চল। সেখান থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের বনে কীভাবে এরা এল, তা নিয়ে চলছে তদন্ত।
বন্য প্রাণী পাচারকারীরা সাধারণত ওরাংওটাংয়ের ছানা ধরতে প্রথমে এদের মাকে হত্যা করে। কারণ, মা ওরাংওটাং সন্তানকে রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে। ছানাগুলোকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাচারকারীরা অন্ধকার বাক্সে ভরে বিভিন্ন পথে অন্য দেশে নিয়ে যায়। এ সময় খাবার ও পানির অভাব, ভয় এবং নির্যাতনে অনেক প্রাণী মারা যায়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ছানাগুলো ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ থেকে পাচার করা হয়েছে। সম্ভাব্য পথটি ইন্দোনেশিয়া থেকে থাইল্যান্ড, এরপর মিয়ানমার হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে ওডিশায় পৌঁছেছে। তবে বাংলাদেশ হয়েও এগুলো ভারতে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। ঠিক কোন পথে ছানাগুলো এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বন্য প্রাণী পাচার একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের অংশ। শিকারি, দালাল, পরিবহনকারী ও বিক্রেতারা মিলে এই চক্র চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিপন্ন বন্য প্রাণী বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। বিরল প্রাণী পোষার শখ থেকেই এসব প্রাণীর অবৈধ বেচাকেনার চাহিদা তৈরি হয়।
ওরাংওটাং বর্তমানে গুরুতর বিপন্ন প্রাণী। বন উজাড়ের কারণে তাদের আবাসস্থল ছোট হয়ে আসছে। তার ওপর অবৈধ শিকার ও পাচার তাদের টিকে থাকার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনেও সুমাত্রার ওরাংওটাংয়ের বাণিজ্য নিষিদ্ধ।
উদ্ধারের পর পাঁচটি ছানাকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের ওডিশা রাজ্যের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসক ও পরিচর্যাকারীরা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন। ছানাগুলো ধীরে ধীরে পরিচর্যাকারীদের চিনতে শিখছে; বড়গুলো গাছে ওঠা ও দোল খাওয়ার চেষ্টা করছে।
ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের কর্তৃপক্ষ ছানাগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে। তাদের নিজ আবাসে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ কাজ করছে। তবে দীর্ঘদিন মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এই ছানাদের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং বনে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার পথ সহজ হবে না।