একটা পেনসিল তুলে নিয়ে অঙ্কের হোমওয়ার্ক করার চেষ্টা করল। কিন্তু সারাক্ষণ হারানো নোটবুকটা মাথাজুড়ে থাকায় অঙ্কও করতে পারল না। অঙ্কের ওয়ার্কশিটে একটা নাম লিখল: পিটার।

হয়তো সে-ই আমার নোটবইটা নিয়েছে, জারা ভাবল। বাতি নিভে গেলে ব্যাকপ্যাকটা যখন মেঝেতে পড়েছিল, তখন বের করে নিয়ে থাকতে পারে। এর আগেও একবার জারার হাত থেকে নোটবুকটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমাকে অপদস্থ করার জন্যই হয়তো কাজটা করেছে সে।

পেনসিলটা রেখে দিয়ে দৌড়ে নিচতলায় নামল জারা, পিটারকে ফোন করার জন্য।

পিটার ফোন ধরতেই জারা বলল, ‘আমার নীল নোটবুকটা হারিয়ে ফেলেছি। ভেতরে তিনটা ফ্রি মুভি পাস আছে। তাই নোটবুকটা আমার পাওয়াই চাই। বাতি নিভে যাওয়ার পরই কোনো এক সময় হারিয়েছি। তুমি দেখেছ? নাকি তুমিই নিয়েছ?’

‘না,’ রুক্ষ কণ্ঠে জবাব দিল পিটার। ‘আমি ওটা দেখিওনি, নিইওনি। এই, জারা, এটা কি কোনো রহস্য?’

‘হ্যাঁ,’ জারা জবাব দিল। ‘রোববার বিকেল সাড়ে চারটার আগেই ওটা খুঁজে বের করতে হবে আমাকে। যদি না পারি, আমি, লরা, সারা, তিনজনই ছবিটা দেখতে পারব না।’

‘তোমার নোটবুকটা যদি আমি খুঁজে বের করে দিতে পারি?’

‘পারবে? কোথায় আছে ওটা জানো নাকি তুমি?’

‘এখনো জানি না,’ পিটার জবাব দিল। ‘তবে একজন ডিটেকটিভের হারানো নোটবুক যে খুঁজে বের করতে পারবে, সে সবচেয়ে বড় ডিটেকটিভ। সুতরাং, আমি যদি খুঁজে বের করে দিতে পারি, আমি হব সবার সেরা গোয়েন্দা, ঠিক?’

‘আমি কিন্তু তা বলিনি,’ জারা জবাব দিল।

‘না বললেও এটাই ঠিক,’ পিটার বলল। ‘শেষ পর্যন্ত আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব। আর আমি জিতবই, তাহলেই হব সেরা গোয়েন্দা।’

লাইন কেটে দিল পিটার। চিন্তিত ভঙ্গিতে রিসিভার রেখে দিল জারা। দুই হাত কোমরে রেখে দাঁড়াল।

এই সময় তার বাবা ঘরে ঢুকলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে, বেবি শার্লক?’

ঘুরে দাঁড়াল জারা। ‘আমার মনে হয় পিটার আমার নোটবুকটা চুরি করেছে।’ বাবাকে পিটারের সব কথা জানাল সে।

‘যদি সত্যিই সে তোমার নোটবুকটা নিয়ে থাকে,’ বাবা বললেন, ‘তাহলে তো ভালোই হলো।’

মুখ বাঁকাল জারা। ‘ভালো হলো মানে? সে নিয়ে থাকলে সবার সামনে সেগুলো ফিরিয়ে দেবে। ভান করবে যেন গোয়েন্দাগিরি করে খুঁজে বের করেছে। নিজেকে সেরা গোয়েন্দা বানানোর চেষ্টা করবে।’

মাথা নাড়লেন মি. আজিজ। ‘ও নিয়ে তুমি মন খারাপ কোরো না। বহু রহস্যের সমাধান তুমি করেছ, সবাই জানে তুমি বড় গোয়েন্দা। ও ভান করে বিশেষ সুবিধে করতে পারবে না।’

বাবার কথায় মন কিছুটা ভালো হলো জারার। দোতলায় উঠল আবার। দাঁত মাজল। কাপড় বদলাল। তারপর শুয়ে পড়ল। তাড়াতাড়ি শুলেও সে রাতে ভালো ঘুম হলো না তার।

*

পরদিন খুব সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেল জারার। প্রথমেই মনে পড়ল তার নোটবুক ও টিকিট হারানোর কথা। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ল। হাতমুখ ধুয়ে পোশাক পরল—জিনসের প্যান্ট, আর শার্টের ডরে বেগুনি সোয়েটার। তারপর নিচতলায় নামল। নাশতা সেরে প্রথমেই ফোন করল সারাকে।

‘লরাদের বাড়িতে সকাল দশটায় দেখা করতে পারবে?’ জারা জিজ্ঞেস করল।

‘হ্যাঁ।’ সারা বলল। ‘এখন যেটা করতে চাইছ, তাতে খুব আনন্দ পাবে।’

মেজাজ বিগড়ে রয়েছে জারার, তারপরও হাসল। ‘না, তা না। বুঝিয়ে না বললে বুঝবে না।’

কয়েক মিনিট পর বেরোনোর জন্য তৈরি হলো জারা। ব্যাকপ্যাকে অঙ্ক খাতাটা ভরল। কোনো তথ্য জানা গেলে নোট নিতে হবে। নীল নোটবুকের বদলে এখন অঙ্ক খাতাটাই ব্যবহার করবে।

কাঁটায় কাঁটায় দশটায় লরাদের সদর দরজার ঘণ্টা বাজাল সে। সাথে রয়েছে সারা। দুরু দুরু করছে জারার বুক। দরজা খুলে দিল লরা।

‘শোনো, অত্যন্ত খারাপ খবর রয়েছে,’ ঘরের ভেতর ঢুকেই বলল জারা। ‘আমার নীল নোটবুকটা হারিয়ে গেছে। টিকিটসহ।’

আঁতকে উঠল সারা। ‘টিকিট!’

‘সর্বনাশ!’ লরা বলল। ‘কীভাবে হারাল!’

সব কথা বন্ধুদের খুলে বলল সারা। তারপর বলল, ‘সরি! এটা না ঘটলেই ভালো হতো। তোমরা তো নিশ্চয়ই আমার ওপর প্রচণ্ড খেপে গেছ?’

‘না,’ সারা বলল।

লরাও মাথা নাড়ল। ‘এতে তোমার কোনো দোষ নেই। তা ছাড়া আমি জানি, টিকিটগুলো তুমি খুঁজে বের করবেই।’

‘তা-ই যেন হয়। আমি এখন স্কুল ক্যান্ডিতে যাব,’ জারা বলল। ‘দোয়া করতে থাকো, যেন ক্যান্ডি নোটবুকটা খুঁজে পায়।’

‘আমিও তোমার সঙ্গে যেতে চাই,’ সারা বলল। ‘লরা, তুমি? আমরা গোয়েন্দা জারার সহকারী হতে পারি।’

‘নিশ্চয়ই!’ লরা বলল।

বেরোনোর অনুমতি মিলল লরার মায়ের কাছ থেকে। সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছে তিনজনে। এক সারিতে চালাল। দোকানটা লরাদের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে। যেতে যেতে নোটবুকটার কথা ভাবছে জারা।

আরও জোরে প্যাডেল ঘোরাতে লাগল। স্কুল ক্যান্ডিতে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। একটা বাড়ির কোণ ঘুরে ওপাশে গেলেই দোকানটা।

ঘোরার জন্য সবে হ্যান্ডেল ঘুরিয়েছে সে। ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে আরেকটা সাইকেল ছুটে এল। সোজা জারার দিকে।

থামার সময় নেই আর এখন। মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য।

‘জারা!’ চিৎকার করে উঠল লরা।

default-image

চার

সাঁই করে বাঁয়ে কাটল জারা। জোরে ব্রেক কষল। অন্য সাইকেলটার আরোহীও ব্রেক কষেছে। জারার সাইকেলের সামনের চাকা ছুঁয়ে গেল উল্টো দিক থেকে আসা সাইকেলের চাকা। টলোমলো করে উঠল জারার সাইকেল। বসে থাকা কঠিন হলো। লাফ দিল জারা। সাইকেলটা মাটিতে পড়ে গেল।

‘জারা, তুমি ঠিক আছ?’ চেঁচিয়ে উঠল সারা।

অন্য সাইকেলটার চালক পিটার। সাইকেলটা মাটিতে শুইয়ে রেখে ছুটে এল জারার দিকে। ‘জারা, তুমি ভালো আছ?’

মাথা ঝাঁকাল জারা। ‘তবে গোয়েন্দা হওয়ার আগে তোমার সাইকেল চালানোটা আরও ভালো করে শিখতে হবে।’

‘পিটার জোনস, তুমি পাগলের মতো চালাচ্ছিলে!’ রেগে গিয়ে বলল লরা।

জারার সাইকেলটা মাটি থেকে তুলে স্ট্যান্ডে রাখল পিটার। দুঃখিত ভঙ্গিতে বলল, ‘সরি!’

‘তুমি আমার নোটবুকটার ব্যাপারে কিছু জানতে পেরেছ?’ জিজ্ঞেস করল জারা।

‘গোয়েন্দারা কখনো তথ্য ফাঁস করে না,’ পিটার জবাব দিল। ‘বিশেষ করে যখন গোয়েন্দা প্রতিযোগিতা হচ্ছে।’

ডান হাতের তর্জনী আর বুড়ো আঙুল দিয়ে দুই ঠোঁট চেপে বন্ধ করল। ইশারায় বোঝাল কীভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তারপর সাইকেলে চেপে চলে যেতে যেতে চিৎকার করে বলল, ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব আমি।’

মোড় ঘুরল তিন কন্যা। স্কুল ক্যান্ডির সামনে এসে সাইকেল র্যাকে সাইকেল রাখল। তারপর দোকানে ঢুকল। ক্যাশ রেজিস্টারের পাশের কাউন্টার মুছছেন তখন ক্যান্ডি।

‘বাহ্, সাতসকালে কারা এল!’ সুর করে বলল সে। তারপর বলল, ‘বাইরে আবার ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলো নাকি?’

হেসে উঠল জারা। তারপর মুখটা গম্ভীর করে ফেলল।

‘গতকাল আমি আমার নোটবুকটা হারিয়েছি,’ বলল সে। ‘নোটবুকের ভেতর তিনটা সিনেমার টিকিটও ছিল। আপনি কি ওটা পেয়েছেন?’

স্থির দৃষ্টিতে জারার দিকে তাকিয়ে রইলেন ক্যান্ডি। ‘কভারের ভেতরে নিশ্চয় পকেট আছে নোটবুকটার?’

‘হ্যাঁ হ্যাঁ,’ একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল তিন কন্যা।

‘আপনি কী করে জানলেন?’ জারা জিজ্ঞেস করল।

‘এইমাত্র একজন দোকানে এসেছিল,’ ক্যান্ডি জানালেন। ‘ঠিক এই নোটবুকটার কথা সে-ও জিজ্ঞেস করেছে।’

‘পিটার জোনস,’ লরা বলল।

‘শুঁয়াপোকার মতো বুকে হেঁটে দোকানের ভেতর তন্নতন্ন করে খুঁজেছে, সমস্ত আসবাবপত্রের তলায় উঁকি দিয়েছে,’ হেসে বললেন ক্যান্ডি। ‘দোকানের মেঝেটা ঘষে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য ওকে আমার ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ছিল।’

‘কিছু পেয়েছে?’ জারা জিজ্ঞেস করল।

‘আমি জানি না,’ ক্যান্ডি জবাব দিল। ‘ও যখন বেরিয়ে গেছে, আমি তখন ক্যাশ রেজিস্টার নিয়ে ব্যস্ত।’

‘ঝড়ের পর, ছেলেমেয়েরা সব বেরিয়ে গেলে আপনি যখন দোকান পরিষ্কার করেছেন, তখন কিছু পাননি, তাই না?’ সারা জিজ্ঞেস করল।

‘না,’ ক্যান্ডি জবাব দিল। ‘সরি।’

‘যদি কিছু মনে না করেন, আপনার দোকানে আমার নোটবুকটা আবার খুঁজে দেখতে পারি?’ জারা বলল।

হেসে উঠলেন ক্যান্ডি। ‘নিশ্চয়ই। পিটারকে তো দেখলাম, এবার দেখি ঘর পরিষ্কারে তুমি কতখানি দক্ষ। এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে যাবে আমার।’

সাবধানে নোটবুকটা খুঁজতে শুরু করল তিন কন্যা।

‘কাউন্টারের নিচে যে ধুলো জমে আছে, তার মধ্যে কোনো চিহ্ন পাও কি না দেখো,’ সারা বলল। ‘পিটার জোনস নিশ্চয় এখানে খুঁজে গেছে।’

সমস্ত কাউন্টারের ওপরে খুঁজে দেখল সারা। তাকগুলোতে খুঁজল জারা। লক্ষ করল, উল্টে পড়া ডিসপ্লেটা আবার গুছিয়ে ফেলেছেন ক্যান্ডি। আগের চেয়ে ঝকঝকে আর পরিষ্কার লাগছে দোকানটা।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলল জারা। ‘নাহ্, পেলাম না। যদি নোটবুকটা এখানে পড়েও থাকে, আজ সকালে পিটার ওটা পেয়ে গেছে।’

ক্যান্ডিকে গুডবাই জানিয়ে বেরিয়ে এল তিনজনে। লরাদের বাড়িতে চলে এল।

‘আমার আর এখন স্কেটিংয়ের মুড নেই,’ সাইকেল থেকে নামতে নামতে বলল লরা।

‘আমারও নেই,’ জারা বলল।

‘ভালোই হলো,’ সারা বলল, ‘আমার তো আরও নেই।’লরার বেডরুমে চলে এল তিনজনে। পরবর্তী কাজ কী হবে, সেটা ঠিক করার জন্য। অঙ্কের খাতাটা বের করে একটা সাদা পাতা ওল্টাল জারা।

‘ওকে, ডিটেকটিভ টিম,’ বলল সে, ‘আমরা এখন সন্দেহভাজনদের নাম ঠিক করব। সবার কথাই মনে করতে হবে আমাদের, যারা যারা আমাকে নোটবুকটা ব্যাকপ্যাকে রাখতে দেখেছে, আর নোটবুকটা সরানোর মতো কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে।’

‘পিটার জোনসের নাম বাদ,’ সারা বলল। ‘কাল যদি তোমার নোটবুকটা নিয়েই থাকত সে, আজ আর ক্যান্ডির দোকানে যেত না ওটা খোঁজার জন্য।’

‘কিন্তু আজ সকালে দোকানে ওটা পেয়েও যেতে পারে সে,’ জারা বলল। ‘হয়তো ওটা পেয়ে গিয়ে চুপচাপ দোকান থেকে বেরিয়ে এসেছে, সাইকেলের জিনিসপত্র রাখার বাক্সে রেখে দিয়েছে। ওই সাইকেলে একটা ব্যাকপ্যাক আছে, নিশ্চয় লক্ষ করেছ। হয়তো আমাকে ভোগানোর জন্যই এসব করছে সে।’ পিটার জোনসের নাম খাতায় লিখল সে।

‘রুবেলা জনসনের ব্যাপারে কী করবে, বলো?’ লরা জিজ্ঞেস করল। ‘সে-ও ঝড়-বৃষ্টির সময় আমাদের সঙ্গে দোকানে দাঁড়িয়ে ছিল। তার কাজিন জুলির জন্য একটা মুভি পাসের জন্য সে মরিয়া, হয়তো আমাদেরটাই চুরি করে নিয়েছে।’

‘ঠিক,’ জারা বলল। খাতায় লিখল রুবেলা জনসনের নাম। ‘তারপর আছে নিনা বার্ড।’

‘নিনাকে সন্দেহ কেন?’ লরার প্রশ্ন।

default-image

‘সে বলেছে রিপোর্টাররা রহস্যের সমাধান করতে পারে,’ জবাব দিল জারা। ‘সে হয়তো নোটবুকটা নিয়েছে, তারপর ওটা খুঁজে বের করার ভান করবে। কিংবা হয়তো আর ফেরতই দেবে না। আমি খুঁজে বের করতে না পারলে সে প্রমাণ করে দেবে আমি ভালো গোয়েন্দা নই।’

‘তা যদি করে, তাহলে সে খুব খারাপ মেয়ে!’ সারা বলল।

‘হ্যাঁ, যদি করে,’ লরা বলল।

নিনা বার্ডের নাম খাতায় লিখে, খাতাটা বন্ধ করে দিল জারা। ‘চলো, এখন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। রুবিকে দিয়েই শুরু করা যাক।’

রওনা হলো তিনজনে। রুবিদের বাড়িতে পৌঁছে ড্রাইভওয়ের কাছে একটা উঁচু ঝোপের ধারে সাইকেল রাখল ওরা। বাড়ির এক পাশে রয়েছে ড্রাইভওয়েটা। জনসনদের গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে ওখানে।

‘ঘরের কাছাকাছি যেতে হবে আমাদের, কেউ যেন দেখে না ফেলে,’ জারা বলল।

‘কী খুঁজতে যাচ্ছি আমরা?’ সারা জিজ্ঞেস করল।

‘যেটা আমাদের তদন্তে সাহায্য করবে,’ জারা জবাব দিল।

পা টিপে টিপে ঝোপের ধার ঘেঁষে এগোল ওরা।

‘বাড়ির পাশের ওই ঝোপগুলো দেখেছ?’ ফিসফিস করে বলল জারা। ‘চলো, ওখানে গিয়ে লুকাই।’

কয়েক সেকেন্ড পরেই জনসনদের বাড়ির সবচেয়ে কাছের ঝোপটার আড়ালে লুকিয়ে পড়ল তিনজনে।

‘আমি ওই জানালাটা দিয়ে উঁকি দেব,’ ফিসফিস করে বলল জারা। আঙুল তুলে দেখাল, ওরা যেখানে রয়েছে তার খুব কাছেই রয়েছে একটা জানালা।

আস্তে করে খুব সাবধানে উঠে দাঁড়াল জারা। জানালার ফ্রেম ধরল। পায়ের বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে যতটা সম্ভব উঁচু করল শরীর।

‘এই, কী করছ?’ বাড়ির ভেতর থেকে বলে উঠল একটা কণ্ঠ।

দম আটকে ফেলল জারা। ঝট করে বসে পড়ল জানালার নিচে। বাড়ির পাশের একটা দরজা হাঁ হয়ে খুলে গেল। বাইরে বেরোলেন একজন লোক। ড্রাইভওয়েতে রাখা গাড়িটার দিকে এগোলেন।

‘আমি বুঝতে পারছি না, এত দেরি হচ্ছে কেন তোমার,’ বাড়ির দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বললেন তিনি। ‘জলদি করো, আমি স্টার্ট দিচ্ছি।’

‘মি. জনসন,’ ফিসফিস করে বলল লরা।

বাইরে বেরোলেন একজন মহিলা। মস্ত একটা ব্যাকপ্যাক বয়ে নিয়ে। গাড়িতে উঠে বসলেন মিসেস জনসন, মি. জনসনের পাশে। বাড়ির দিকে ফিরে তাকিয়ে জোরে বললেন, ‘রুবি! জুলি!’

জারা, সারা, লরা—তিনজনেই বাড়ির ভেতরে খিলখিল হাসির শব্দ শুনতে পেল। মুহূর্ত পরেই রুবি আর আরেকটা মেয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এল। এই দ্বিতীয় মেয়েটার মাথায় লাল রঙের খাটো চুল। দুজনের হাতেই একটা করে ব্যাকপ্যাক।

‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, জুলি, আমাদের এত সৌভাগ্য হবে,’ রুবি বলল। ‘তুমিও স্টার কুয়েস্ট ২ দেখার একটা পাস পেয়ে গেছ!’

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন