আত্মোন্নয়নমূলক ফিচার ছাপো
প্রিয় কিআ,
অনেক দিন পর চিঠি লিখছি বললে ভুল হবে। বরং অনেক দিন পর চিঠি দিচ্ছি। বিগত মাসে (এমনকি বছরের শুরুতেও) পড়াশোনার এমন বিশ্রী একটা চাপে ছিলাম! চিঠি লিখেছি তবে... ওই যে, সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। আচ্ছা, সময়সীমাটা কি একটু বাড়ানো যায় না? ডিসেম্বর সংখ্যাটা নিয়ে বেশ ভালো করে ফিডব্যাক লিখে বার্গারের কৌশলটা খাটিয়েছিলাম চিঠিতে। তবে তা আর পাঠানোই হয়নি।
এখন আসি মূল কথায়। অনেক দিন হলো, তুমি কোনো আত্মোন্নয়নমূলক ফিচার ছাপো না। আমার পড়া এ–জাতীয় বেস্ট ফিচার ছিল সেই ২০১২ সালে ডিসেম্বর সংখ্যায় জান্নাতুল নাঈমের লেখা ‘তোমারও সময় আসবে’। তবে এরপর আর কিআর সময় হয়নি একটা হাড়কাঁপানো আত্মোন্নয়নমূলক ফিচার ছাপানোর! তুমি হয়তো ভাবো, অনলাইন তো এখন মোটিভেশনের রণক্ষেত্র, তাই তা না ছাপালেও চলে। আমি বলি কি, অললাইন তো বিনোদনেরও এক বিরাট শস্যক্ষেত্র, তবু তোমার জন্য আমরা কেন হন্যে হয়ে থাকি? Tedx আর কিআ তো এক বিষয় নয়। কিআর পাতায় ছোট্ট কোনো টিপসেই যে আমাদের চক্ষুতারা–রন্ধ্রে ধরা দেয় অজানা আলোকরশ্মি, তা তুমি বুঝেও না বোঝার ভান করো। যা–ই হোক, এখন তোমায় আমি কয়েকটা হাঁদারামের মতো প্রশ্ন করব!
১. ‘আমরা সবাই রাজা’ বিভাগে লেখা পাঠানোর নিয়ম আমি সত্যিই বুঝি না (হাঁদারাম তো!)। একটু বলবে?
২. তোমায় গল্প পাঠাতে হয় এক হাজার শব্দের মধ্যে। তবে বিশ্বাস করো, এটা খুবই কম। আমি তুলনামূলক ছোট গল্পগুলোর (যেমন দ্বৈরথ) শব্দসংখ্যা গুনে দেখেছি, এক হাজার শব্দের বেশি হয়ে যায়। একটা গোয়েন্দা কাহিনি কি এক হাজার শব্দের ভেতর আঁটবে? আঁটলেও তা হবে মেটা এআইয়ের দেওয়া বোরিং গল্পগুলোর মতো। আমি একটা লিখেছি (যা-তা ভাবে), তবে শব্দসংখ্যাও বেশি আর তোমায় পাঠানোর সাহসও পাচ্ছি না। কী করি, বলো তো?
৩. আমি যে অত্যন্ত বোকা, এতে করণীয় কী? আম্মু বলে যে আমাকে যদি কেউ বিক্রি করে, কত টাকায় বিক্রি করল তা আমি জীবনেও বলতে পারব না। আচ্ছা, চালাক হওয়াটা কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
৪. আদনান মুকিত স্যারকে (যদিও তিনি ‘স্যার’ বলতে নিষেধ করেছিলেন!) বলে একটু ডিগবাজি বইটার খোঁজ দিতে পারবে? রকমারিতে কি পাওয়া যাবে? আর হ্যাঁ, কী একটা অবস্থা বইটা সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সাদামাটা প্লট, তবে সত্যিই দুর্দান্ত।
পরিশেষে কোনটা কথ্য, তা তো জানোই। তোমার ভালো থাকাটাই কাম্য। স্কুলের গ্যাঞ্জামে বসে চিঠিটা লিখলাম, অগোছালো হওয়ায় দুঃখিত।
ইচ্ছা, নবম শ্রেণি, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম
কিআ: তোমার ধারণা ঠিক। আমরা ভেবেছিলাম, সবখানেই তো এখন মোটিভেশনাল কনটেন্ট ভরপুর, আমরা ভিন্ন কিছু করি। কিন্তু তোমার কথাও ঠিক। চেষ্টা করব। এ সংখ্যায় বই পড়া নিয়ে একটা লেখা আছে। এটাকে কি হাড়কাঁপানো আত্মোন্নয়নমূলক লেখা হিসেবে ধরা যায়?
১. ‘আমরা সবাই রাজা’ বিভাগে লেখার নিয়ম: গল্প, ছড়া, মজার ঘটনা, স্মৃতি, ভাবনা কিংবা তোমার যা ইচ্ছা, তুমি লিখে পাঠাবে। খামের ওপর লিখবে ‘আমরা সবাই রাজা’, তারপর চিঠি যেভাবে পাঠাও, সেভাবে পাঠিয়ে দেবে। আর ই–মেইলে পাঠালে মেইলের সাবজেক্টে লিখবে ‘আমরা সবাই রাজা’, বুঝতে পেরেছ?
২. শব্দসংখ্যা কম, এটা সত্য। কিন্তু সময় ও পৃষ্ঠার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তুমি যদি তোমার গল্পটা কম পরিসরে জমাতে পারো, আর আমাদের যদি সেটা ভালো লাগে, আমরাই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলব, হ্যালো ইচ্ছা, এবার একটা বড় গল্প পাঠাও। আগে ছোট গল্প দিয়ে শুরু করো। তারপর বড় গল্প, উপন্যাস লেখা তো কোনো ব্যাপারই হবে না।
৩. চালাক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। স্টিভ জবস তো বলেছিলেন, ‘বোকা থাকো, ক্ষুধার্ত থাকো’ (আমি যেমন দুটোই—বোকা এবং ক্ষুধার্ত)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো থাকা।
৪. ডিগবাজি বইটা আউট অব প্রিন্ট। কিন্তু তুমি কীভাবে পেতে পারো, সেটার একটা বুদ্ধি বের করতে হবে। অপেক্ষা করো।
অফিসের গ্যাঞ্জামে বসে উত্তর দিলাম। অগোছালো হওয়ায় দুঃখিত। ভালো থেকো।