হার্ভার্ড–স্ট্যানফোর্ডের বিকল্প বানাতে চান খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাল খান
খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাল খান মনে করেন, উচ্চশিক্ষা ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই শিক্ষাবিদ এমন এক নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির কথা ভাবছেন, যা হার্ভার্ড বা স্ট্যানফোর্ড থেকে ডিগ্রি নেওয়ার সমতুল্য হতে পারে।
সাল খান সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোতে ‘লিডিং উইথ এআই’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কেউ যদি এই প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে পারে, তাকে আপনি হার্ভার্ড বা স্ট্যানফোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীর সমতুল্য ভাবতে পারবেন।’
খানের ভাবনার এই প্রোগ্রামে খরচ হতে পারে প্রায় পাঁচ হাজার ডলার। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় চার লাখ ডলার পর্যন্ত। তাঁর ভাষায়, ‘ভাবুন তো, চার লাখ ডলারের বদলে পাঁচ হাজার ডলারে একই মানের স্বীকৃতি!’
সাল খান জানান, এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের দরকারি দক্ষতা অর্জন করবে। পাশাপাশি খান একাডেমি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যেন শিক্ষার্থীরা সরাসরি চাকরির সুযোগ পায়। যেমন ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি, গুগল ও গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পথ খুলে যাবে।
তবে এই নতুন প্রোগ্রামের পাঠ্যসূচি কেমন হবে, কখন চালু হবে বা কী ধরনের সনদ দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ভার্চ্যুয়াল ক্লাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর শিক্ষা, স্বশিক্ষণ ও সরাসরি ক্লাস—এসবের মিশ্রণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও খান জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি যতই এগোবে, শিক্ষকের গুরুত্ব কমবে না।
এখন অনেক শিক্ষার্থী চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির বদলে কারিগরি শিক্ষায় ঝুঁকছে। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রচলিত অফিস জব বা চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে, আর এমবিএ ডিগ্রির খরচ বেড়েছে। কিন্তু ডিগ্রি নেওয়ার পর চাকরির ক্ষেত্রে এর ফল আগের মতো নেই। তবু বাস্তবতা হলো অনেক বড় কোম্পানি এখনো নির্দিষ্ট কিছু ‘এলিট’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ দেয়।
একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ২৬ শতাংশ নিয়োগদাতা কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ দিয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৭ শতাংশ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের ক্যাম্পাস নিয়োগের পরিধি কমিয়ে এনেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, ধরা যাক এসএটি পরীক্ষায় ১৫৫০ পেয়েছে। সে হয়তো পূর্ণ বৃত্তি থাকা সত্ত্বেও নিজের অঙ্গরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে হার্ভার্ডে যেতে চায়। কারণ, বড় কোম্পানিগুলো সেখান থেকে নিয়োগ দেয়।
হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে ভর্তির হার এখন ঐতিহাসিকভাবে কম, ৪ শতাংশের নিচে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এসব প্রতিষ্ঠান নাগালের বাইরে। আর যারা পড়ে, তাদের অনেকেই হাজার হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে পড়ে বের হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার মতো ব্যবহারিক দক্ষতা সব সময় অর্জন করতে পারে না, এমন অভিযোগও তোলেন খান।
একটি পডকাস্টে সাল খান বলেন, তিনি খান একাডেমিকে একটি বৈশ্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবতে চান, যেখানে সামর্থ্য থাকলে যে কেউ পড়তে পারবে। তাঁর মতে, হার্ভার্ড বা স্ট্যানফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠান মানসম্মত শিক্ষা দেয় ঠিকই, কিন্তু তারা সেই শিক্ষাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে পারে না অথবা করতে চায় না।
খানের স্বপ্ন হলো একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যার দরজা খোলা থাকবে সম্ভাবনাময় সব শিক্ষার্থীর জন্য। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সক্ষম হন, আমাদের কাছে আপনার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকবে।’
ভবিষ্যতে ডিগ্রি না দক্ষতা, কোনটি বেশি জরুরি হয়ে উঠবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।