ব্যর্থ জাদুকর

মিডজার্নি

‘হ্যালো বাবা!’

‘হুঁ, তুমি আর তোমার আম্মু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে যাও, আজ অফিসে ছুটি দিয়েছে। আমরা বেড়াতে যাব।’

ঋতু দৌড়ে গিয়ে মাকে খবরটা দিল। ঋতুর পরীক্ষা শেষ। এখন ছুটি চলছে। মা–বাবার কাছে শুধু বেড়াতে যাওয়ার আবদার করছিল, আজ ছুটির শেষ দিনে এসে আবদার পূরণ হলো।

বাবা আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রওনা দিল। একটা ম্যাজিক শো দেখতে যাবে ওরা। শো শুরু হওয়ার পর ম্যাজিশিয়ান নানা রকম জাদু দেখালেন। একবার তাঁর পকেট থেকে বেরিয়ে আসে বেলুন, পরেরবার টুপি থেকে বের হয় পাখি, আরও কত–কী!

শেষ দিকে জাদুকর জাদু দেখানোর জন্য একজন ছোট্ট বন্ধুকে দর্শকদের মধ্য থেকে ডাকলেন। সেই ছোট্ট বন্ধুটি হলো ঋতু। স্টেজে ওঠার সময়ই সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল, কিন্তু ব্যথা পায়নি। কী যেন নাই নাই লাগছিল ঋতুর। কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারল না।

জাদুকর ঋতুকে বললেন, এখন তিনি একটি কয়েন সুতা দিয়ে বেঁধে ওর চোখের সামনে নাড়াতে থাকবেন। হিপনোটাইজ করবেন ঋতুকে। এটাই হবে আজকের সেরা ম্যাজিক। হিপনোটাইজড হয়ে গেলে জাদুকর যা বলবেন, তা–ই করবে ঋতু।

আরও পড়ুন

একটু ভয়ই পেল ঋতু। কিন্তু ম্যাজিক শুরু হওয়ার পর পাল্টে গেল সব। দর্শকেরা হাসতে হাসতে শেষ। কারণ, জাদুকর বহু চেষ্টা করেও ঋতুকে হিপনোটাইজ করতে পারছেন না। কয়েনও বদলেছেন কয়েকবার। জাদুকর হয়ে গেলেন জোকার। তড়িঘড়ি করে শেষ করে দিলেন শো।

ম্যাজিক শো থেকে বের হয়ে এল ঋতুরা। ঋতুর মা-বাবা বুঝতে পারছিলেন না কী হলো ব্যাপারটা। জাদুকর সব দেখিয়ে শেষে এটা পারলেন না কেন।

হঠাৎ ঋতুর চোখে কী একটা পড়ল। চোখে হাত দিতে গিয়েই ঋতু দেখল, তার বাকি দুচোখ উধাও। মানে সে তো চশমাই পরেনি আজ। তাই জাদুকরের কয়েনটা ঠিকমতো দেখেওনি। হিপনোটাইজড হওয়া তো দূরের কথা। কিন্তু চশমা হারাল কখন? গেলই–বা কোথায়?

লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা

আরও পড়ুন