অদ্ভুত বন্ধুত্ব

অলংকরণ: সব্যসাচী চাকমা

জানুয়ারির ২৮ তারিখে ৪ বছর হবে। ভাবছ, কিসের ৪ বছর? তাহলে বলা যাক। সবার বন্ধুত্ব হয় স্কুলে, আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল ময়মনসিংহের আশির দশকের মতো দেখতে একটা গলির মধ্যে কয়েকটা পিচ্চির সঙ্গে। আরে, আমি যে খুব বড় ছিলাম, তেমনটা নয়।

সে পিচ্চিগুলোর একেকজনের গল্প ছিল একেক রকম। আমাকে নিয়ে আট-নয়জন ছিলাম। আমরা সবাই অদ্ভুত কিছু কাজ করতাম। যেমন আমরা গুপ্তধন খোঁজার খেলা খেলতাম। ধরো, কারও বাসার নিচে গুপ্তধন লুকিয়ে রাখা হতো। তারপর ম্যাপ বানিয়ে সবাই মিলে সেটা খুঁজে বের করতাম।

ওদের অনেককেই আমি অপছন্দ করতাম। অজান্তেই খারাপ ব্যবহার করেছি। ওদের অনেক ব্যবহারই বিরক্ত লাগত, কিন্তু এখন কেন জানি না মানুষের মধ্যে এই ব্যবহারেরই আভাস খুঁজতে থাকি। আমি মানুষকে জাজ করে এসেছি এত দিন। আমরা খুব জটিল একটি প্রজাতি। মানুষকে না বুঝেও আমরা বুঝি। অসম্ভব রকম জটিল।

আমি আশা করছি, যাদের সঙ্গে আমি পাঁচটা বছর দিনের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়েছি, সেই ওই কয়েকটা পিচ্চি যেন বোঝে যে আমার ছেড়ে যাওয়ার বহু কারণ ছিল। ওদের সঙ্গে আমার আর ‘হ্যারি পটার’–এর বিভিন্ন চরিত্র সেজে অভিনয় করা হবে না অথবা কাউকে এখন আর ক্যাচআউটও করতে পারব না। জানি, ওরা এখনো পিচ্চি রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

এই ৪ বছরের মাথায় হয়তো আমাকে মনে করেছে কয়েকবার। ওদের অনেকের সঙ্গেই আমার আর দেখা হবে না। অনেক জানুয়ারি আসবে, বছরের পর বছর পেরোবে, অনেক কথা হবে, কিন্তু সেই কথা আর জানুয়ারির মধ্যে আমি থাকব না। আমি নিতান্তই একটা অতীত। যদি একই রকম অন্য কোনো রিয়েলিটিতে আমি ওদের ছেড়ে না আসতাম, তাহলে কি সবকিছু আজ ভিন্ন হতো?

এখন বলো, তুমি কারোর জীবনে আর থাকবে না অথবা তাদের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে তোমার নামের উল্লেখ হবে না—এটা ভেবে তোমারও কি মন কাঁদে? অন্য রিয়েলিটি থাকুক বা না থাকুক, জীবন যেহেতু আমাদের সবার একটিই, এগুলো চিন্তা করে লাভ নেই। ওই পিচ্চিগুলোর মাঝে না হলেও এখন আমি অনেকেরই গল্পের মাঝে আছি, হাসির মাঝে আছি। তুমিও অজান্তে আছ, আমার গল্পে, অসংখ্য মানুষের গল্পে।

কারোর গল্পের মাঝে নিজের অস্তিত্ব থাকার চেয়ে বড় আনন্দ আমি আর কোথাও পাই না।

লেখক: শিক্ষার্থী, নেত্রকোনা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নেত্রকোনা

আরও পড়ুন