শেষ হলো বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড জাতীয় পর্ব
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) জাতীয় পর্ব। গতকাল ২৮ আগস্ট শুক্রবার দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিকেলে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন।
জাতীয় পর্বে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৯ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে প্রতিটি ক্যাটাগরির সেরা তিনজন হয় চ্যাম্পিয়ন। প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়াংশু ঋদ্ধি রায়। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা। আর সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহির আরিব।
জুনিয়র ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন মারজানা মানহা বলেছে, ‘এই অলিম্পিয়াডের জন্য আমি দুই বছর ধরে লেগে ছিলাম। ভালো ফল করার জন্য চেষ্টা করে গেছি। এবার সেটা পেয়েছি। আমার খুব ভালো লাগছে। বড় কিছু করার স্বপ্ন আমার। স্বপ্ন আছে এমআইটিতে পড়ার।’
প্রাইমারি ক্যাটাগরির বিজয়ী সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী খালিদ মোহাম্মদ নওশাদ আলী বলেছে, এবারের সমস্যাগুলো গতবারের তুলনায় বেশ কঠিন ছিল। তবে সে নিজের মতো করে বিভিন্নভাবে সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করেছে। পরীক্ষার হলে প্রতিটি সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে সমাধান বের করার চেষ্টা করেছে বলেও জানায় সে।
সকাল থেকেই আইইউবিএটির ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। সকাল ৮টায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় পর্ব। এক ঘণ্টা পর শুরু হয় মূল অলিম্পিয়াড। প্রায় দুই ঘণ্টার পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মোট ৯টি সমস্যা সমাধান করতে হয়। এর মধ্যে ছিল ৬টি সংক্ষিপ্ত ও ৩টি বিশদ সমস্যা।
পরীক্ষার পর দুপুর ১২টায় শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে শিশু-কিশোরদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর বেলা আড়াইটায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ, গান ও দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ভৈরবী গীতরঙ্গ দল।
বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি জিনবিজ্ঞানী, ধান গবেষক ও লেখক ড. আবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, এসিআই অদম্য মেধাবী প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি মুনির হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। চেষ্টা করলে তারাও অনেক কিছু করতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী লুকিয়ে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আয়োজনে ডাক পেলে তিনি তরুণদের জন্য ছুটে আসেন। তাঁর মতে, এই তরুণ মেধাবীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান না করে নিজেদের মেধাকেও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। বেশি বেশি পড়াশোনা করে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান বের করার কথাও বলেন।
এরপর অতিথিরা তিনটি ক্যাটাগরির বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও সনদ তুলে দেন।
এবারের জাতীয় পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ১২তম বিডিজেএসও জাতীয় অনাবাসিক ক্যাম্প। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই ক্যাম্প। সেখান থেকে টিম সিলেকশন টেস্টের মাধ্যমে বাছাই করা হবে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশের ছয় সদস্যের দল। এই দলই বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
এবারের ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)। জাতীয় পর্বের আয়োজক হিসেবে ছিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। প্লাটিনাম স্পনসর আনিসুল হক ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় ছিল বিডিওএসএন, ম্যাসল্যাব, রকমারি ডটকম ও এসিআই অদম্য মেধাবী। মিডিয়া ও ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, যমুনা টিভি, বিজ্ঞানচিন্তা ও কিশোর আলো।
জাতীয় পর্বের ফলাফল ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যাবে বিডিজেএসওর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে।