একটি ফুলের জন্মদিন

অলংকরণ: সব্যসাচী চাকমা

প্রিয় শশী আপু,

জানিস আপু, যখন আমি কিছু লিখি বা নতুন কোনো বইয়ের পাতায় ডুব দিই, তখন সবার আগে তোর চেহারাই মনে পড়ে। আমার এই বই পড়ার অভ্যাসটা কিন্তু তোরই তৈরি করে দেওয়া। ওই যে ছোটবেলায় লাইব্রেরি থেকে বই এনে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলি, সেই থেকেই শুরু। তোর হাত ধরেই আমি প্রথম শব্দের মায়ায় পড়তে শিখেছি। তুই-ই আমার ভেতরে লেখালেখির উৎসাহ আর সাহস বুনে দিয়েছিস, শিখিয়েছিস কীভাবে কল্পনাকে খাতায় সাজাতে হয়।

বড় বোন হিসেবে তোর শাসন যেমন আছে, বন্ধু হিসেবে তেমন এক অদ্ভুত প্রশান্তিও আছে। তোর কাছে আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই মনের সব কথা বলতে পারি। কারণ, আমি জানি, তুই আমাকে কখনো ভুল বুঝবি না, বরং সব সময় আগলে রাখবি। তোর মেজাজটা মাঝেমধ্যে বড্ড চড়া থাকে সত্যি, হুটহাট রেগে গেলে তোকে সামলানো দায়! কিন্তু পরক্ষণেই আবার তোর সেই শান্ত রূপ আর স্নেহের কাছে আমি হেরে যাই। আম্মু যখন বকা দেয়, তখন তুই-ই তো আমার একমাত্র আশ্রয়। আমি কোনো ভুল করলে তুই শাসন করিস ঠিকই, কিন্তু যেভাবে পরম মমতায় ভুলগুলো বুঝিয়ে বলিস, তা পৃথিবীর আর কেউ পারবে না।

আরও পড়ুন

তোর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তুই আমার বড় বোন ঠিকই, কিন্তু আসলে তুই আমার সবচেয়ে বড় ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ আর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। পৃথিবীতে যদি ‘বেস্ট বোন’-এর কোনো পুরস্কার থাকত, তাহলে সেটা চোখ বন্ধ করে আমি তোর হাতেই তুলে দিতাম। তুই আছিস বলেই আমার জগৎটা আজ বইয়ের পাতায় আর কল্পনার কালিতে এত রঙিন।

শুভ জন্মদিন, আপু! তুই তো আমার জীবনের সেই মায়াবী ফুল, যার উপস্থিতিতে আমার চারপাশটা সব সময় সুন্দর হয়ে থাকে। আজ এই ফুলের জন্মদিনে একটাই প্রার্থনা করি, তোর জীবনটা যেন সব সময় একরাশ খুশিতে ভরা থাকে। তোর এই ছোট ভাইকে সারা জীবন এভাবেই মিষ্টি শাসন আর অফুরন্ত স্নেহে আগলে রাখিস। অনেক অনেক ভালোবাসি তোকে!

ইতি,

তোর ছোট ভাই,

খাইরুল বাসার তাহসিন

নবম শ্রেণি, মুকুল নিকেতন উচ্চবিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

আরও পড়ুন